মাথার ক্ষতে জমাট বাঁধা শুকনো রক্ত নাপাক কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
ছোট বাচ্চার মাথায় আঘাত পেয়ে কেটে গিয়ে রক্ত বের হয়, কাটার জায়গাটা অল্প কিন্তু আঘাতে ক্ষত হয় বেশি তাই রক্ত বের হয়ে গড়িয়েছিল।
তো তারপর রক্ত পড়া আলহামদুলিল্লাহ বন্ধ হল। তো, কয়েক দিন হয়েও সেই রক্তের জায়গায় রক্ত জমাট আছে। এটা হাত দিয়ে উঠিয়ে দেয়া হয়নি।
তাহলে এই শুকনা জমাট বাঁধা রক্ত কি নাপাক হবে? এটা তো এখন গড়িয়ে পড়ছেনা। এইখানে ধোয়া হলে তো সেই পানি ছিটিয়ে আসলে নাপাক হবে?”
Answer
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
জবাব
১. জমাট বাঁধা শুকনো রক্ত কি নাপাক?
-
শরয়ী সিদ্ধান্ত:
রক্ত যখন ক্ষতস্থান থেকে বের হয়ে গড়িয়ে পড়েছিল (প্রবাহিত হয়েছিল), তখন উক্ত রক্ত শরীআতের বিচারে ‘নাপাক’ ছিল। পরবর্তীতে সেই রক্ত ক্ষতস্থানে শুকিয়ে জমাট বেঁধে থাকার কারণে জমাট রক্তটুকুও মূল নাপাক রক্তের অংশ হিসেবে গণ্য। -
মাথার জমাট রক্ত উঠানো কি জরুরি?
না, বাচ্চার মাথার ক্ষতস্থান থেকে এই শুকনো জমাট রক্ত জোর করে টেনে বা খুঁচিয়ে উঠানো একেবারেই জরুরি বা ওয়াজিব নয়। কারণ তা উঠাতে গেলে বাচ্চার ক্ষতস্থানের ক্ষতি হতে পারে বা পুনরায় রক্তপাত শুরু হতে পারে। ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, ক্ষতস্থানের যে নাপাকী বা জমাট অংশ উঠাতে গেলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তা বলপ্রয়োগ করে উঠানো শরীআতে মাফ।
২. ঐ জমাট রক্ত ধোয়ার সময় পানি ছিটকে আসলে কি নাপাক হবে?
- শরয়ী সিদ্ধান্ত ও ধোয়ার নিয়ম:
১. জমাট রক্ত ধোয়ার সময় যদি ধৌত পানিতে রক্তের সুস্পষ্ট লাল রং বা নাপাকীর আলামত মিশে ছিটকে আসে, তবে সেই ছিটকে পড়া পানি নাপাক গণ্য হতে পারে।
২. সহজ সমাধান ও করণীয়: বাচ্চার মাথায় পানি ঢেলে ধুতে গেলে চারদিকে পানি ছিটকে পড়ার ভয় থাকে। তাই বাচ্চার মাথায় সরাসরি পানি না ঢেলে একটি ভেজা তুলা বা নরম কাপড়ের টুকরো দিয়ে আলতোভাবে জমাট রক্তের জায়গাটি ভিজিয়ে মুছে পরিষ্কার করে নিন। এভাবে মোছার পর যদি জমাট রক্তের শক্ত ভাবটি থেকে যায় এবং চামড়া ওঠার ভয় থাকে, তবে যতটুকু ধোয়া/মোছা সম্ভব ততটুকু করলেই স্থানটি পাক হয়ে যাবে এবং অতিরিক্ত কষ্ট করার প্রয়োজন নেই।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৫৭ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ৩য় অনুচ্ছেদ): (ক্ষতস্থান থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়লে তা নাপাক হওয়া এবং ওজু ভঙ্গ হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা)।
- পৃষ্ঠা: ১১০ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, পট্টি ও ক্ষতের মাসাইল): (ক্ষতস্থানে পানি ব্যবহার বা উঠানো ক্ষতিকর হলে ধোওয়া মাফ হওয়া এবং সহজের ওপর আমল করা)।
- পৃষ্ঠা: ১২৬ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ৭ম পরিচ্ছেদ: নাপাকী পরিষ্কারের নিয়ম): (নাপাক বস্তু ও রক্ত ধুয়ে পবিত্র করার ফিকহী বিবরণ)।
২. নূরুল ঈযাহ:
- পৃষ্ঠা: ৩১ (পরিচ্ছেদ: ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ): (প্রবাহিত রক্তের নাপাক হওয়ার ফিকহী মূলনীতি)।
- পৃষ্ঠা: ৪৪ (পরিচ্ছেদ: পট্টি ইত্যাদির ওপর মাসেহ ও ক্ষতের চিকিৎসা): (ক্ষতস্থানের নাপাকী দূর করতে গেলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে তা ছাড় দেওয়ার নিয়ম)।
৩. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৮৪–৮৫ (অধ্যায়: তহারত ও পানি সংক্রান্ত মূলনীতি): (রক্ত গড়িয়ে পড়া এবং নাপাক রক্ত ধোওয়ার ফিকহী নিয়মাবলী)।
وَاللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ