বাবার দেওয়া টাকা পাঞ্জাবি বানানোর পরিবর্তে দ্বীনী দান বা অন্য খাতে ব্যয় করা কি জায়েয?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7211
Questioner: Al shariya shawon
Question Asked: 21 Oct 2026, 03:52 PM
Reviewed & Published: 21 Oct 2026, 05:02 PM
Views: 9
Tokens: 4,017
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি পাঞ্জাবি বানাবো এই বলে ।এখন যদি আমি এই টাকা অন্য কাজে ব্যয় করি যেমন
দ্বীনী কাজে দান করলাম বা অন্য কিছু কিনলাম এবংপাঞ্জাবি না বানাই তাহলে কি জায়েজ হবে ?
নাকি পাঞ্জাবি বানানো ছাড়া অন্য কাজে ব্যয় করা যাবে না ?
এমন বিষয়ে মূলনীতিটা বলে দিয়েন

Answer

বাবার অনুমতি ব্যতীত ভিন্ন খাতে টাকা ব্যয় করার বিধান

উত্তর

না, জায়েয হবে না। বাবা যে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে (পাঞ্জাবি বানানোর জন্য) টাকা দিয়েছেন, সেই টাকা ভিন্ন খাতে (দ্বীনী দান বা অন্য কিছু কেনা) ব্যয় করা জায়েয নয়। কেননা এতে আমানতের খিয়ানত ও ওয়াদার খিলাফ হয়। তবে যদি বাবাকে জানিয়ে বা তাঁর অনুমতি নিয়ে ভিন্ন খাতে ব্যয় করেন, তাহলে জায়েয হবে।


মূলনীতি (আসুল)

ইসলামী ফিকহের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতি হলো:

«الْأَمَانَةُ لَا تُخَالَفُ» — আমানতের খিলাফ করা যায় না।

আরও নির্দিষ্টভাবে:

যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টাকা দেয়, সেই টাকা সেই নির্দিষ্ট কাজেই ব্যয় করা আবশ্যক; ভিন্ন খাতে ব্যয় করা তার অনুমতির পরিপন্থী।

এটি ফিকহে «الوکالة» (প্রতিনিধিত্ব) ও «العارية» (ধার/আমানত) অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। যখন কেউ কাউকে নির্দিষ্ট কাজের জন্য টাকা দেয়, তখন গ্রহীতা উক্ত কাজে আমিন (বিশ্বস্ত প্রতিনিধি) হিসেবে গণ্য হয়; আমিনকে নির্দিষ্ট কাজের বাইরে গেলে ضامن (দায়বদ্ধ) হতে হয়।


১. কুরআনুল কারীম

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দেন যে, আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে প্রত্যর্পণ করো।" — (সূরা আন-নিসা: ৫৮)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও রাসূলের সাথে খিয়ানত করো না এবং জেনে-বুঝে নিজেদের আমানতেও খিয়ানত করো না।" — (সূরা আল-আনফাল: ২৭)

২. হাদীস শরীফ

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

أَدِّ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ، وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ "যে তোমাকে আমানত রাখে, তাকে তার আমানত ফিরিয়ে দাও; আর যে তোমার সাথে খিয়ানত করে, তুমি তার সাথে খিয়ানত করো না।" — (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৫৩৫; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১২৬৪ — হাসান)

آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ... وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ "মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি... আর যখন তাকে আমানত দেওয়া হয়, সে খিয়ানত করে।" — (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৯)

৩. হানাফী কিতাবসমূহ

আল-হিদায়া-তে ওয়াকালাত অধ্যায়ে উল্লেখ আছে:

وَالْوَكِيلُ أَمِينٌ فِيمَا وُكِّلَ بِهِ، لَا يَضْمَنُ إِلَّا بِالتَّعَدِّي "প্রতিনিধি যে কাজে নিযুক্ত, তাতে সে আমিন (বিশ্বস্ত); সীমালঙ্ঘন না করলে সে দায়বদ্ধ হবে না।" — (আল-হিদায়া, কিতাবুল ওয়াকালা)

রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামী)-তে এসেছে:

لَوْ دَفَعَ إِلَيْهِ دَرَاهِمَ لِيَشْتَرِيَ بِهَا ثَوْبًا فَاشْتَرَى بِهَا غَيْرَهُ لَا يَجُوزُ إِلَّا بِإِذْنِهِ "যদি কেউ তাকে কাপড় কেনার জন্য দিরহাম দেয়, আর সে তা দিয়ে ভিন্ন কিছু কেনে, তবে তা তার অনুমতি ছাড়া জায়েয হবে না।" — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল ওয়াকালা, খণ্ড ৫)

ফাতাওয়া আলমগীরী-তে ওয়াকালাত প্রসঙ্গে:

الْوَكِيلُ إِذَا خَالَفَ مَا أُمِرَ بِهِ يَضْمَنُ "প্রতিনিধি যখন আদিষ্ট কাজের বিপরীত করে, তখন সে দায়বদ্ধ হয়।" — (ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুল ওয়াকালা)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.