ফরয গোসল ও ওযুতে নাকে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম কী?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
ফরয গোসল ও ওযুতে নাকে পানি দেওয়ার বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
ফরয গোসলের ওযুতে নাকে পানি দেওয়ার সময় দুই আঙুল নাকের ভেতরে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করানো হয়নি—এতে গোসল ও ওযু উভয়ই সম্পন্ন হয়েছে কি?
সংক্ষিপ্ত উত্তর
হ্যাঁ, উভয়টিই সম্পন্ন হয়েছে। ওযু ও গোসল উভয়েরই ফরয হলো নাকের নরম অংশ (মার্নিমুশ) পর্যন্ত পানি পৌঁছানো। দুই আঙুল পুরোপুরি গভীরে প্রবেশ করানো ওযু-গোসলের ফরয নয়।
কুরআন ও হাদীসের দলিল
১. কুরআনুল কারীম:
"হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য উঠো, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং মাথা মাসেহ করো এবং পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো..." (সূরা মায়িদা: ৬)
এখানে মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত নাকের ভেতরের নরম অংশ পর্যন্ত পৌঁছানো ফরয।
২. হাদীসে পাক (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪২):
হযরত লাকীত ইবনে সাবিরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: "তুমি উত্তমরূপে ওযু করো, আঙুলগুলোর ফাঁকফাঁক ধৌত করো এবং (রোজা না থাকলে) নাকে পানি ভালোভাবে পৌঁছাও।"
৩. সুনানে নাসাঈ ও তিরমিযীর বর্ণনায়:
"مبالغة في الاستنشاق إلا أن تكون صائما" — "নাকে পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মুবালাগা (অতিরিক্ত গভীরে পৌঁছানো) করো, তবে রোজাদার হলে নয়।"
এতে প্রমাণিত হয়—গভীরে পৌঁছানো ফরয নয়; বরং অতিরিক্ত হিসেবে কৃত। ফরয শুধু নাকের ভেতরের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো।
হানাফী ফিকহের দলিল
১. আল-হিদায়া (কিতাবুত তাহারাত):
"وأما الفرض في الوضوء فغسل الوجه... والمراد بالوجه ما بين منابت شعر الرأس إلى أسفل الذقن... ومنه داخل الأنف" — "ওযুর ফরয হলো মুখমণ্ডল ধৌত করা... মুখমণ্ডল বলতে চুলের উৎপত্তিস্থল থেকে থুতনি পর্যন্ত এবং এর অন্তর্ভুক্ত নাকের ভেতরের অংশ।"
২. রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন, ১/৯৫):
"الفرض في الاستنشاق إيصال الماء إلى ما يلين من الأنف، وأما المبالغة فسنة" — "ইস্তিনশাকে ফরয হলো নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো; আর মুবালাগা (গভীরে পৌঁছানো) সুন্নত।"
৩. ফাতাওয়া আলমগীরী (হিন্দিয়া, ১/১০):
"وأما الاستنشاق فالسنة فيه المبالغة، والفرض إيصال الماء إلى داخل الأنف" — "ইস্তিনশাকে সুন্নত হলো মুবালাগা; আর ফরয হলো নাকের ভেতরে পানি পৌঁছানো।"