ফরয গোসল ও ওযুতে নাকে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম কী?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7195
Questioner: Abdullah Al Noman
Question Asked: 21 Oct 2026, 01:04 PM
Reviewed & Published: 21 Oct 2026, 01:57 PM
Views: 31
Tokens: 3,360
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফরয গোসলের ওযুর সময়, নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে, নাকে পানি দিয়ে হাতের দুই আঙ্গুল নাকের মধ্যে পরিপূর্ণ ভাবে দেওয়া হয় নি। এতে করে কি ফরয গোসল এবং ওযু দুইটাই সম্পন্ন হয়েছে?

Answer

ফরয গোসল ও ওযুতে নাকে পানি দেওয়ার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

ফরয গোসলের ওযুতে নাকে পানি দেওয়ার সময় দুই আঙুল নাকের ভেতরে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করানো হয়নি—এতে গোসল ও ওযু উভয়ই সম্পন্ন হয়েছে কি?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, উভয়টিই সম্পন্ন হয়েছে। ওযু ও গোসল উভয়েরই ফরয হলো নাকের নরম অংশ (মার্নিমুশ) পর্যন্ত পানি পৌঁছানো। দুই আঙুল পুরোপুরি গভীরে প্রবেশ করানো ওযু-গোসলের ফরয নয়।

কুরআন ও হাদীসের দলিল

১. কুরআনুল কারীম:

"হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য উঠো, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং মাথা মাসেহ করো এবং পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো..." (সূরা মায়িদা: ৬)

এখানে মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত নাকের ভেতরের নরম অংশ পর্যন্ত পৌঁছানো ফরয।

২. হাদীসে পাক (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪২):

হযরত লাকীত ইবনে সাবিরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: "তুমি উত্তমরূপে ওযু করো, আঙুলগুলোর ফাঁকফাঁক ধৌত করো এবং (রোজা না থাকলে) নাকে পানি ভালোভাবে পৌঁছাও।"

৩. সুনানে নাসাঈ ও তিরমিযীর বর্ণনায়:

"مبالغة في الاستنشاق إلا أن تكون صائما" — "নাকে পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মুবালাগা (অতিরিক্ত গভীরে পৌঁছানো) করো, তবে রোজাদার হলে নয়।"

এতে প্রমাণিত হয়—গভীরে পৌঁছানো ফরয নয়; বরং অতিরিক্ত হিসেবে কৃত। ফরয শুধু নাকের ভেতরের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো।


হানাফী ফিকহের দলিল

১. আল-হিদায়া (কিতাবুত তাহারাত):

"وأما الفرض في الوضوء فغسل الوجه... والمراد بالوجه ما بين منابت شعر الرأس إلى أسفل الذقن... ومنه داخل الأنف" — "ওযুর ফরয হলো মুখমণ্ডল ধৌত করা... মুখমণ্ডল বলতে চুলের উৎপত্তিস্থল থেকে থুতনি পর্যন্ত এবং এর অন্তর্ভুক্ত নাকের ভেতরের অংশ।"

২. রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন, ১/৯৫):

"الفرض في الاستنشاق إيصال الماء إلى ما يلين من الأنف، وأما المبالغة فسنة" — "ইস্তিনশাকে ফরয হলো নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো; আর মুবালাগা (গভীরে পৌঁছানো) সুন্নত।"

৩. ফাতাওয়া আলমগীরী (হিন্দিয়া, ১/১০):

"وأما الاستنشاق فالسنة فيه المبالغة، والفرض إيصال الماء إلى داخل الأنف" — "ইস্তিনশাকে সুন্নত হলো মুবালাগা; আর ফরয হলো নাকের ভেতরে পানি পৌঁছানো।"


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.