মাঝে মাঝে মোবাইলে গেমস খেলা জায়েজ হবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7189
Questioner: MHS
Question Asked: 21 Oct 2026, 11:20 AM
Reviewed & Published: 21 Oct 2026, 12:51 PM
Views: 11
Tokens: 3,028
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। বর্তমানে বিনোদনের জন্য খেলার মাঠ আর সময় কোনোটাই পাওয়া যায়না। আসক্ত না হয়ে মাঝে মাঝে মোবাইলে গেমস খেলা জায়েজ হবে?

Answer

وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ

** উত্তর:**
প্রশ্নে উল্লেখিত শর্ত (আসক্ত না হওয়া, মাঝে মাঝে খেলা) সত্ত্বেও মোবাইলের সাধারণ ভিডিও গেমসকে ‘জায়েজ’ বলা যাবে না

তবে যদি গেমসে শরীয়তবিরোধী কোনো বিষয় (প্রাণীর ছবি/মূর্তি, সংগীত, জুয়া, অশ্লীলতা, কুফরি-শিরকি বিষয়, নামাজ-ফরজ বিস্মৃতির কারণ) না থাকে এবং প্রকৃত অর্থে আসক্তিও না হয়, তবুও তা ‘লাহওল হাদীস’ (অর্থহীন ক্রীড়া-কৌতুক)-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পরিহারই কর্তব্য।

বিনোদনের বৈধ বিকল্প (হালাল খেলাধুলা, ব্যায়াম, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো) অবলম্বন করুন।


১. মূল নীতি: ‘লাহওল হাদীস’ নিন্দনীয়
আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ
“আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছে, যে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করার জন্য অর্থহীন কথাবার্তা/ক্রীড়া-কৌতুক ক্রয় করে।” (সূরা লুকমান: ৬)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর উসূল অনুযায়ী, যে কাজে দুনিয়া-আখিরাতের কোনো উপকার নেই এবং যা আল্লাহর যিকির থেকে গাফিল করে, তা নিন্দনীয়। মোবাইল গেমস সাধারণত এ শ্রেণিভুক্ত।

২. হাদীসের নির্দেশনা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

«مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ»
“মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হলো, যে বিষয় তার প্রয়োজন নেই তা সে পরিত্যাগ করা।” (তিরমিজি: ২৩১৭; ইবনে মাজাহ: ৩৯৭৬)

আরও ইরশাদ:

«لَا يَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ عُمْرِهِ فِيمَ أَفْنَاهُ...»
“কিয়ামতের দিন বান্দার পা সরবে না যতক্ষণ না তাকে তার জীবনকাল কীভাবে অতিবাহিত করল, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়।” (তিরমিজি: ২৪১৬)

৩. হানাফি ফিকহের সিদ্ধান্ত

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন, ৬/৩৪৮-৩৪৯)-এ উল্লেখ আছে, নিছক ক্রীড়া-কৌতুক ও অর্থহীন কাজে লিপ্ত হওয়া মুমিনের শান নয়; বিশেষত যা ফরজ-ওয়াজিব থেকে গাফিল করে।
  • ফাতাওয়া আলমগিরি (৫/৩৪৮)-এ ‘লাহও’ ও ‘মালহি’ (অর্থহীন আমোদ) নিষিদ্ধ/মাকরূহ বলা হয়েছে।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী, ৪/৩৬০ প্রসঙ্গ)-এ ফরমায়েছেন, যে খেলায় দ্বীনি ক্ষতি ও সময়ের অপচয় হয় তা পরিত্যাজ্য।
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি, ৩/৬৫০-এর কাছাকাছি আলোচনা)-এ ভিডিও গেমসকে ‘সময় নষ্টকারী ও শরীয়তবিরোধী উপাদানযুক্ত’ হওয়ায় নিষেধ করা হয়েছে; বিশেষত যাতে ছবি, সংগীত ও জুয়ার উপাদান থাকে।
  • বাহিশতী যেওর (মুফতি আশরাফ আলী থানভী)-এ বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় খেলা-তামাশা থেকে বিরত থাকাই মুসলমানের কর্তব্য।

৪. ‘আসক্ত না হওয়া’ শর্ত যথেষ্ট নয় কেন?
আসক্ত না হলেও গেমসে সাধারণত থাকে—(ক) প্রাণীর ছবি/মূর্তি (যা হানাফি মতে নিষিদ্ধ বা severely disliked), (খ) সংগীত, (গ) সহিংসতা-অশ্লীলতা, (ঘ) নামাজ-যিকির থেকে গাফিলতি, (ঙ) সময়ের অপচয়। এগুলো একত্রে বা আলাদাভাবে নিষেধাজ্ঞার কারণ। তাই ‘মাঝে মাঝে’ হলেও তা ‘জায়েজ’ বলা যাবে না; বরং পরিহারই উত্তম।

৫. বৈধ বিকল্প

  • হালাল শারীরিক খেলাধুলা (সাঁতার, দৌড়, তীরন্দাজি—যা সুন্নতসিদ্ধ)।
  • পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, দ্বীনি ইলম অর্জন, কুরআন তিলাওয়াত।
  • প্রয়োজনে কম্পিউটার-ভিত্তিক শিক্ষামূলক সফটওয়্যার (ছবি-সংগীতমুক্ত) ব্যবহার করা যেতে পারে।

উপসংহার:
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় মোবাইল গেমস খেলা জায়েজ নয়

আসক্ত না হলেও শরীয়তবিরোধী উপাদান ও সময়ের অপচয়ের কারণে তা পরিত্যাগ করাই মুমিনের জন্য কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হালাল বিনোদনে সন্তুষ্ট থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.