সূরা মুলক পড়লে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7166
Questioner: Forhad miah tuhin
Question Asked: 20 Oct 2026, 08:10 PM
Reviewed & Published: 20 Oct 2026, 08:47 PM
Views: 36
Tokens: 3,983
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সুরা মুলক নিয়ে একটা কথা শুনি যে এই সুরা রাতে পড়লে কবরের আযাব কে প্রতিরোধ করবে এমন,

১) এই বিষয় এ হাদিস কি সহিহ? বিশাস রাখা যাবে?
২) কখন সুরা মুলক পড়তে হবে, মাগ্রিবের নামাজের পর যে কোন সময়?
৩) আর কি নিয়ত এ এই সুরা regular পড়া উচিত?

Answer

সূরা মুলক তিলাওয়াতের ফযীলত ও আমল — বিস্তারিত ফিকহি বিশ্লেষণ

ভূমিকা

সূরা মুলক (সূরা ৬৭, ৩০ আয়াত, মাক্কী) নিয়ে বর্ণিত ফযীলতের হাদীসগুলো মূলত সহীহ ও গ্রহণযোগ্য। নিম্নে তিনটি প্রশ্নের ধারাবাহিক উত্তর দেওয়া হলো।


১) হাদীসের সহীহতা ও বিশ্বাস রাখা যাবে কি?

হ্যাঁ, বিশ্বাস রাখা যাবে। এ বিষয়ে একাধিক সহীহ ও হাসান হাদীস বর্ণিত হয়েছে:

ক) সহীহ হাদীস — কবরের আযাব থেকে রক্ষা

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:

«إِنَّ سُورَةً مِنَ الْقُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتَّى غُفِرَ لَهُ، وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ»

"নিশ্চয়ই কুরআনের একটি সূরা আছে যার ত্রিশটি আয়াত; তা এক ব্যক্তির জন্য শাফাআত করবে, এমনকি তাকে ক্ষমা করা হবে। আর তা হলো 'তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক' (সূরা মুলক)।"

— সুনানে তিরমিযী: ২৮৯১; সুনানে আবু দাউদ: ১৪০০; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৭৮৬। ইমাম তিরমিযী রহ. বলেছেন: «هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ» (হাসান)। শায়খ আলবানী রহ. সহীহ বলেছেন।

খ) কবরের আযাব থেকে রক্ষার হাদীস

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত:

«يُؤْتَى الرَّجُلُ فِي قَبْرِهِ فَتُؤْتَى رِجْلَاهُ فَتَقُولُ: مَا لَكُمْ عَلَيَّ مَجَالٌ، فَإِنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ بِي سُورَةَ الْمُلْكِ...»

"কবরে মানুষকে আনা হবে, তার পা এসে বলবে: তোমাদের আমার উপর কোনো অধিকার নেই; কারণ সে (জীবদ্দশায়) আমাকে দিয়ে সূরা মুলক পড়ত... (এভাবে প্রতিটি অঙ্গ সাক্ষ্য দেবে যে সে সূরা মুলক পড়ত)।"

— সুনানে তিরমিযী: ২৮৯০; সুনানে নাসাঈ (কুবরা); মুসতাদরাক হাকিম। ইমাম তিরমিযী রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। ইমাম হাকিম রহ. সহীহ বলেছেন।

গ) রাতে তিলাওয়াতের ফযীলত

হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ সূরা সাজদা ও সূরা মুলক না পড়ে ঘুমাতেন না। — সুনানে তিরমিযী: ২৮৯২ (হাসান)।

ফিকহি সিদ্ধান্ত

  • হাদীসগুলো হাসান-সহীহ পর্যায়ের; আকীদা-বিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
  • তবে এগুলো ফযীলতের হাদীস (فضائل الأعمال) — এতে বিশ্বাস রাখা যাবে এবং আমল করা মুস্তাহাব।
  • সতর্কতা: কবরের আযাব থেকে রক্ষা আল্লাহরই ইচ্ছায়; সূরা মুলক নিজে স্বাধীনভাবে রক্ষা করে না — বরং আল্লাহ তাআলা এ সূরার বরকতে রক্ষা করেন। এ বিশ্বাস রাখা জরুরি।

রেফারেন্স: মিরকাতুল মাফাতীহ (শরহে মিশকাত) — কিতাবুল ফাযাইল; তুহফাতুল আহওয়াযী; মা'আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফী রহ.)।


২) কখন পড়তে হবে?

সুন্নাহসম্মত সময়সমূহ:

ক) রাতে ঘুমানোর আগে (সর্বোত্তম): জাবির রা.-এর হাদীস অনুযায়ী নবী ﷺ ঘুমানোর আগে সূরা সাজদা ও সূরা মুলক পড়তেন। — তিরমিযী: ২৮৯২।

খ) মাগরিবের পর থেকে ফজরের আগে — যেকোনো সময়: নির্দিষ্ট কোনো সময় বাধ্যতামূলক নয়। তবে মাগরিবের পর পড়া উত্তম, কারণ:

  • এটি রাতের শুরু; ঘুমের আগে পড়ার সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  • ইমাম নববী রহ. ও ইবনে আবিদীন রহ. (রাদ্দুল মুহতার) ফযীলতের আমলে সময়ের ব্যাপকতা (سعة الوقت) উল্লেখ করেছেন।

গ) ইশার পর বা ঘুমের আগে: সর্বোত্তম ও সহজ পদ্ধতি — ইশার নামাজের পর বা ঘুমানোর আগে পড়া।

ফিকহি নোট:

  • মাগরিবের পর নির্দিষ্ট সময় বাধ্যতামূলক নয় — বরং রাতের যেকোনো সময়, বিশেষত ঘুমের আগে পড়া সুন্নাহ।
  • তবে সালাতের পর পড়া (যেমন মাগরিব/ইশার ফরজের পর) সম্পূর্ণ জায়েয ও উত্তম।

৩) নিয়ত ও নিয়মিত পড়ার বিধান

নিয়ত (নিয়্যাহ):

সূরা মুলক নিয়মিত পড়ার নিয়ত হবে:

  1. আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর হুকুম পালন।
  2. কবরের আযাব থেকে মুক্তি ও শাফাআত লাভের আশা।
  3. কুরআনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা।
  4. ঈমান ও আখিরাতের স্মরণ জাগ্রত রাখা।

সতর্কতা: নিয়ত হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য; লোক দেখানো বা "বিশেষ ফল পাব" — এ ধরনের ব্যবসায়িক মনোভাব নয়। ফযীলত আল্লাহর পক্ষ থেকে; আমরা শুধু আমল করি।

নিয়মিত পড়ার বিধান:

  • মুস্তাহাব ও অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ — প্রতিদিন রাতে (বিশেষত ঘুমের আগে) পড়া।
  • কমপক্ষে: প্রতিদিন একবার (রাতে)।
  • উত্তম: প্রতিদিন ফজর/মাগরিবের পর অথবা ঘুমের আগে।
  • বেশি উত্তম: সপ্তাহে একাধিকবার, বিশেষত জুমার রাতে।

ফিকহি রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): কিতাবুস সালাত — ফযীলতের আমলে নিয়মিততা (المداومة) উত্তম।
  • বাহিশতী যেওর (আশরাফ আলী থানভী রহ.): নামাজের পর তাসবীহ-তিলাওয়াতের অধ্যায়।
  • ফাযায়েলে আমল (থানভী রহ.): কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত অধ্যায়।
  • মা'আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফী রহ.): সূরা মুলকের তাফসীর-ভূমিকা।

সারসংক্ষেপ

| প্রশ্ন | উত্তর | |---|---| | হাদীস সহীহ? | হ্যাঁ, হাসান-সহীহ; বিশ্বাস ও আমল করা যাবে | | কখন পড়বে? | রাতে, বিশেষত ঘুমের আগে বা মাগরিব/ইশার পর; নির্দিষ্ট সময় বাধ্যতামূলক নয় | | নিয়মিত পড়া? | মুস্তাহাব ও ফযীলতপূর্ণ; নিয়ত হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের মুক্তি |

দোয়া: আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সূরা মুলক নিয়মিত তিলাওয়াতের তাওফিক দান করুন এবং কবরের আযাব থেকে হেফাজত করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.