ছেলের নাম তাশরিক আর রহমান রাখা যাবে কি

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7137
Questioner: Hasib Rahman
Question Asked: 20 Oct 2026, 10:45 AM
Reviewed & Published: 20 Oct 2026, 11:09 AM
Views: 40
Tokens: 3,120
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আমার ছেলের নাম তাশরিক আর রহমান রেখেছি এই নামের অর্থ কি? এবং এই নাম রাখা যাবে কিনা

Answer

উত্তরের সারসংক্ষেপ

না, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছেলের নাম ‘তাশরিক আর রহমান’ রাখা যাবে না।

নামের অর্থ বিশ্লেষণ

১. "তাশরিক" (تشرِيك / تَشْرِيك)

আরবি অভিধান অনুযায়ী "তাশরিক" শব্দটি এসেছে "শিরক" (شِرْك) মূলধাতু থেকে। এর আভিধানিক অর্থ:

  • শরিক বানানো / অংশীদার সাব্যস্ত করা
  • মিলানো, সংযুক্ত করা
  • কোনো কিছুতে অন্যকে অংশীদার করা

📚 আল-মু'জামুল ওয়াসিত, লিসানুল আরব — শিরক ও তাশরিক শব্দের ব্যুৎপত্তি ও অর্থ দ্রষ্টব্য।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: ইসলামি পরিভাষায় "শিরক" হলো আল্লাহ তা'আলার সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা—যা ইসলামের সর্বাধিক ঘৃণিত ও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বিষয়। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করা ক্ষমা করেন না; এছাড়া অন্য সব গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" — সূরা আন-নিসা: ৪৮

এবং সূরা লুকমানে ইরশাদ হয়েছে:

إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ "নিশ্চয়ই শিরক মহা অন্যায়।" — সূরা লুকমান: ১৩

সুতরাং "তাশরিক" শব্দটি সরাসরি শিরকের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় এটি নাম হিসেবে রাখা অনুচিত ও পরিহারযোগ্য। যদিও শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে "শরিক বানানো" অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবু নাম হিসেবে এটি ইসলামি আকিদার পরিভাষার সাথে সাংঘর্ষিক এবং শ্রুতিমধুরও নয়।

২. "আর রহমান" (الرَّحْمَٰن)

"আর-রহমান" আল্লাহ তা'আলার একটি মহান নাম (ইসমে আযীম)। এর অর্থ—"অসীম দয়ালু", "পরম করুণাময়"। এটি আল্লাহর সত্তাগত গুণবাচক নাম, যা কেবল আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত।

📚 তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা আর-রহমানের তাফসীর; মা'আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শাফি রহ.), সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর দ্রষ্টব্য।

গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা: "আর-রহমান" শব্দটি এককভাবে বা "আবদুর রহমান" (عبد الرحمن) ব্যতীত নাম হিসেবে রাখা উচিত নয়। কারণ এটি আল্লাহর বিশেষণবাচক নাম; বান্দার নামের ক্ষেত্রে এর সাথে "আবদ" (বান্দা) যুক্ত করে "আবদুর রহমান" বলা সুন্নত ও উত্তম। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

إِنَّ أَحَبَّ أَسْمَائِكُمْ إِلَى اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ "নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের সর্বাধিক প্রিয় নাম হলো 'আবদুল্লাহ' ও 'আবদুর রহমান'।" — সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৩২; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯৪৯

ফিকহি সিদ্ধান্ত (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)

নামকরণের মূলনীতি

ইসলামে সন্তানের নামকরণে দুটি বিষয় লক্ষণীয়:

  1. অর্থ সুন্দর ও অর্থবহ হওয়া — নামের অর্থ যেন ইসলামি আকিদার পরিপন্থী না হয়।
  2. আল্লাহর নামের সাথে "আবদ" যুক্ত করা — আল্লাহর গুণবাচক নাম এককভাবে ব্যবহার না করে "আবদ" যোগ করা।

📚 ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী রহ.), খণ্ড ৪ — নামকরণ অধ্যায়; বেহেশতী জেওয়ার, "সন্তানের নাম রাখা" অনুচ্ছেদ; ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি), খণ্ড ৩ — নামকরণ প্রসঙ্গ।

সিদ্ধান্ত

  1. "তাশরিক" শব্দটি শিরকের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় এবং এর অর্থ ইসলামি আকিদার পরিপন্থী পরিভাষার দিকে ইঙ্গিত করায় এই নামটি পরিবর্তন করা কর্তব্য।
  2. "আর রহমান" আল্লাহর বিশেষ নাম; বান্দার নাম হিসেবে এককভাবে রাখা অনুচিত। এর পরিবর্তে "আবদুর রহমান" রাখা উত্তম ও সুন্নতসম্মত।
  3. সুতরাং পুত্রের নাম "তাশরিক আর রহমান"-এর পরিবর্তে "আবদুর রহমান", "মুহাম্মদ আবদুর রহমান", বা অন্য কোনো সুন্দর অর্থবহ ইসলামি নাম রাখা উত্তম হবে।

উপসংহার

"তাশরিক" নামটি শিরক শব্দের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় এবং "আর রহমান" আল্লাহর বিশেষ নাম হিসেবে এককভাবে ব্যবহার অনুচিত হওয়ায়—এই নামটি পরিবর্তন করে "আবদুর রহমান" বা অন্য কোনো সুন্দর ইসলামি নাম রাখা উত্তম।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.