আরিয নাম রাখা যাবে কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7129
Questioner: Muhsina Millat
Question Asked: 20 Oct 2026, 06:46 AM
Reviewed & Published: 20 Oct 2026, 07:26 AM
Views: 14
Tokens: 2,515
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আরিয নামটি কি রাখা যাবে?
আরিয ও তাশফীন নামের অর্থ কী?

Answer

আরিয নাম রাখা যাবে কি? আরিয ও তাশফীন নামের অর্থ

সংক্ষিপ্ত উত্তর

আরিয (আরিজ/আরিয) নামটি রাখা যাবে কি না—এটি নির্ভর করে নামটির আরবি বানান ও অর্থের উপর। সাধারণভাবে:

  • যদি নামটি «عَارِض» (আরিদ্ব) হয়, অর্থ "দৃশ্যমান, প্রকাশমান; মেঘ; (কোনো কিছুর) সামনে আগত"—এ অর্থে নাম রাখা জায়েজ, তবে এটি সাধারণত ছেলেদের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং অর্থটি বিশেষ সুন্দর বা প্রশংসনীয় অর্থবোধক নয়।
  • যদি নামটি «عَرِيض» (আরীয) হয়, অর্থ "প্রশস্ত, চওড়া"—এ অর্থেও নাম রাখা জায়েজ।
  • তবে «عَارِض» শব্দের আরেক অর্থ "বাধা, প্রতিবন্ধক, রোগ, বিপদ" (যেমন হাদিসে «أَعْرَضَ» ও «عَارِض» শব্দ এসেছে)। এ অর্থে নাম রাখা অনুচিত।
  • যদি নামটি «عَارِز» বা অন্য কোনো বানান হয়, তবে অর্থ যাচাই করে নিতে হবে।

সতর্কতা: নামটি আরবি ভাষায় সুপরিচিত কোনো সাহাবি বা ইসলামি ব্যক্তিত্বের নাম নয়, এবং এর অর্থও সুস্পষ্টভাবে প্রশংসনীয় নয়। তাই আরিয নামটির পরিবর্তে সাহাবি বা নবীগণের নাম, অথবা সুন্দর অর্থবোধক আরবি নাম (যেমন: আরিফ, আরশাদ, আরহাম, তাসনিম ইত্যাদি) রাখা উত্তম।

তাশফীন নামের অর্থ

তাশফীন (تَشْفِين) আরবি শব্দ। এর অর্থ:

  • "শাফা'আতকারী" বা "সুপারিশকারী" (যে ব্যক্তি সুপারিশ করবে)
  • কিছু অভিধানে "উপকারী, কল্যাণকারী" অর্থেও ব্যবহৃত হয়

তবে তাশফীন শব্দটি কুরআন-হাদিসে প্রচলিত কোনো নাম নয়; এটি আধুনিক আরবি নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অর্থটি মন্দ নয়, তাই নাম রাখা জায়েজ। তবে তাসনিম (تَسْنِيم) নামটি কুরআনে এসেছে (সূরা মুতাফফিফীন: ২৭—জান্নাতের একটি ঝর্ণার নাম), তাই এটি অধিক উত্তম ও বরকতময়।

দলিল ও নীতি

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِنَّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ» "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের নাম ও তোমাদের পিতাদের নাম দ্বারা ডাকা হবে; সুতরাং তোমরা তোমাদের নাম সুন্দর করো।" — সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৪৮; মুসনাদ আহমদ

আরও ইরশাদ হয়েছে:

«إِنَّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ» — সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৪৮

হানাফি ফিকহের মূলনীতি: নাম রাখা জায়েজ হওয়ার শর্ত হলো—(১) নামটি আরবি বা অর্থবোধক সুন্দর শব্দ হওয়া, (২) অর্থ মন্দ, কুফরি, শিরকি বা অশ্লীল না হওয়া, (৩) আল্লাহর বিশেষণবাচক নাম (যেমন: রহমান, রহীম) এককভাবে মানুষের নাম না রাখা।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ৬, পৃ. ৪১৭ — সন্তানের নাম রাখার বিধান
  • ফাতাওয়া শামি, কিতাবুল হাযর ওয়াল ইবাহা
  • ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৬২ — নামকরণ প্রসঙ্গে
  • বাহিশতী জেওর, নাম রাখার অধ্যায় — মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৪ — মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)
  • ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩ — মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.)

উপসংহার

  1. আরিয নামটি রাখা যাবে যদি এর অর্থ মন্দ না হয়; তবে অর্থ অস্পষ্ট ও প্রশংসনীয় নয় বিধায় বিকল্প নাম নির্বাচন করা উত্তম।
  2. তাশফীন নামের অর্থ "সুপারিশকারী/কল্যাণকারী"—মন্দ নয়, রাখা জায়েজ; তবে তাসনিম (কুরআনি নাম) অধিক উত্তম।
  3. সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে সাহাবি, তাবেঈন ও নবীগণের নাম, অথবা কুরআনে উল্লিখিত সুন্দর নাম নির্বাচন করা সর্বোত্তম।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.