তাহাজ্জুদ ও নফল নামাজে সিজদায় বাংলায় দোয়া করা যাবে কি?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
২. অনেক সময় এশা নামাজ শেষে বিতর নামাজ আদায় করি না এই নিয়তে যে শেষ রাতে উটে তাহাজ্জুদ এর সাথে আদায় করব। কিন্তু অনেক সময় তা মিস হয়ে যায়। এখত্রে কাজা বিতর নামাজ কি পরের দিন তাহাজ্জুদ পরে আদায় করা যাবে কি? এবং উক্ত দিনের বিতর এর নামাজ এশা পরার সাথে আদায় করে ফেললাম এই রকম টা করা যাবে কি?
Answer
তাহাজ্জুদ ও নফল নামাজে সিজদায় বাংলায় দোয়া এবং বিতর কাজার বিধান
উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)
প্রশ্ন ১: নফল নামাজে সিজদায় বাংলায় দোয়া করা যাবে কি? ও দুনিয়াবি কিছু চাওয়া যাবে কি?
জবাবঃ- ক, আপনি নামাযের বাহিরে বাংলায় দু'আ করবেন, অথবা আপনি আপনার অন্তরে সেই বিশেষ বিষয়কে উপস্থিত রেখে মুজমাল দু'আ যাতে দুনিয়া আখেরাতের সকল প্রকার কল্যাণ রয়েছে,যেমন "রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ" কুরআন-হাদীসে বর্ণিত এমন দু'আ করতে পারবেন।
নামাযের সেজদায় শুধুমাত্র কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দু'আ গুলোই করা যাবে। সেজদায় গিয়ে سبحان ربي الأعلى ছাড়াও অন্যান্য দোয়া পড়া যাবে। সমস্যা নেই। কিন্তু দুনিয়াবি দোয়া বা আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষায় দুআ করা যাবে না।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেজদায় অনেক দোয়া পাঠ করতেনঃ
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ يَقُولُ فِى سُجُودِهِ « اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى ذَنْبِى كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ সেজদায় পড়তেন আল্লাহুম্মাগফিরলি জামবি’ কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু”। {তাহাবী শরীফ, হাদিস নং-১৩০৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৮৭৮, সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-১১১২, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস নং-৬৭২, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-১৯৩১} . খ, শরীয়তের বিধান হলো দুনিয়াবি দোয়া করলে নামাজ ভেঙে যায়।
দুনিয়াবি দোয়াঃ যেটা মানুষের কাছে থেকেও পাওয়া যায়,যেমন হে আল্লাহ আমাকে কাপড় দাও,বিবাহ দাও,এক লক্ষ টাকা দাও ইত্যাদি। (কিতাবুন নাওয়াজেল ৪/১০৫)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন
إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ»
নিশ্চয় এ নামায; এতে মানুষের মুখে প্রচলিত কথা বলা উচিত নয়। নিশ্চয় এটি তাসবীহ, তাকবীর এবং কুরআন তিলাওয়াতের স্থান। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৫৩৭]
قال العلامۃ التہانوي تحتہ: دل الحدیث علی أنہ لا یجوز في الصلاۃ شيء من کلام الناس، فتفرع علیہ أن الدعاء أیضاً إذا کان یشبہ کلامہم لا یجوز، وہو قول أبي حنیفۃ وأصحابہ وطاؤس وإبراہیم النخعي۔ (کذا في فتح الباري ۲؍۲۶۶، إعلاء السنن ۳؍۱۷۲ رقم: ۸۹۳ دار الکتب العلمیۃ بیروت) থানবি রহঃ বলেন উক্ত হাদীস দালালত করে যে নামাজের ভিতর দুনিয়াবি কথাবার্তা বলা জায়েজ নেই।সুতরাং দুনিয়াবি দোয়া যেটা মানুষের কথার সাথে সাদৃশ্য রাখে,সেটি বলাও জায়েজ নেই।
ویفسد ھا التکلم الخ، عمدہ وسہوہ قبل قعودہ قدر التشہد سیان، وسواء کان ناسیا أو نائماً أو جاھلا أو مخطئاً أو مکرھاً ھو المختار۔ (درمختار مع الشامي ۲؍۳۷۰ زکریا، مراقي الفلاح مع الطحطاوي ۱۷۵، بدائع الصنائع ۱؍۵۱۸، شرح الوقایۃ ۱؍۱۶۳، حاشیۃ الطحطاوي ۳۲۱) সারমর্মঃ ইচ্ছাপূর্বক হোক,বা অনিচ্ছায় হোক,কথা বললে নামাজ ভেঙ্গে যাবে।
প্রশ্ন ২: বিতর নামাজ কাজা — পরের দিন তাহাজ্জুদের পরে আদায় করা যাবে কি?
বিতরের হুকুম
হানাফি মাজহাবে বিতর নামাজ ওয়াজিব (সুন্নতে মুয়াক্কাদার চেয়ে উচ্চতর)। রাসূল ﷺ বলেছেন:
«إِنَّ اللَّهَ زَادَكُمْ صَلَاةً وَهِيَ الْوِتْرُ، فَصَلُّوهَا بَيْنَ الْعِشَاءِ وَالْفَجْرِ»
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের একটি নামাজ বাড়িয়ে দিয়েছেন — তা হলো বিতর। সুতরাং তা এশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করো।" — মুসনাদে আহমাদ; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১৪১৬ (হাসান)
বিতর কাজা আদায়ের বিধান
১. বিতর ছুটে গেলে কাজা ওয়াজিব। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে বিতর ওয়াজিব হওয়ায় তা ছুটে গেলে কাজা করা আবশ্যক।
২. কাজা বিতর কখন আদায় করা যাবে?
ফজরের আগেই বিতরের কাজা আদায় করবেন। আপনি যদি সাহেবে তারতিব হন,অর্থাৎ আপনার জিম্মায় যদি সারা জীবনে ৫ ওয়াক্তের বেশি কাজা নামাজ না থাকে,সেক্ষেত্রে ফজরের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে বিতরের কাজা না করলে আপনার ফজরের নামাজই আদায় হবেনা।
আর যদি আপনি সাহেবে তারতিব নাহন,অর্থাৎ আপনার জিম্মায় যদি সারা জীবনে ৫ ওয়াক্তের বেশি কাজা নামাজ থাকে,সেক্ষেত্রে আপনি বিতর নামাজের কাজা যখন ইচ্ছা আদায় করতে পারেন।
-
রাতের বিতর রাতেই কাজা করা উত্তম। তবে রাত শেষ হয়ে গেলে পরের দিন কাজা করা যাবে। পরের দিন ইশার সাথেও আদায় করতে পারবেন,কোনো সমস্যা নেই।
-
হানাফি ফতোয়া: কাজা বিতর যেকোনো সময় (নিষিদ্ধ সময় ব্যতীত) আদায় করা যায় — দিনে বা রাতে। তবে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ঠিক দুপুরের সময় (নিষিদ্ধ ওয়াক্ত) এড়িয়ে চলতে হবে।
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:
"الْوِتْرُ يَجِبُ قَضَاؤُهُ إذَا فَاتَ، وَيُقْضَى فِي أَيِّ وَقْتٍ شَاءَ إلَّا الْأَوْقَاتَ الْمَكْرُوهَةَ" — রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ৬ (কিতাবুস সালাত, বাবুল বিতর)