যানবাহনে থাকাকালীন ওযু না থাকলে এবং নামাজের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে করণীয় কী?

Salah-Prayer · Hanbali

Question No: 7114
Questioner: TANZIM AFDOL
Question Asked: 19 Oct 2026, 06:36 PM
Reviewed & Published: 19 Oct 2026, 07:22 PM
Views: 7
Tokens: 2,895
This answer is according to the 'Hanbali' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ হুজুর।

যানবাহনে থাকাকালীন যদি ওযু না থাকে আর নামাজের সময়ও চলে যায় যায় এমন, এমতাবস্থায় করণীয় কি

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর

আপনি যদি যানবাহনে থাকেন, ওযু না থাকে এবং নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে — তাহলে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ে নিন (যদি পানি ব্যবহারের সামর্থ্য না থাকে) অথবা সম্ভব হলে যানবাহন থামিয়ে ওযু করে নামাজ পড়ুন। ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে নামাজ আদায় করা আবশ্যক।


পানি না পাওয়া বা ব্যবহারে অক্ষম হলে তায়াম্মুমের বিধান

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখ ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করো... আর যদি তোমরা অসুস্থ হও বা সফরে থাকো, অথবা তোমাদের কেউ প্রস্রাব-পায়খানা থেকে আসে, অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করো এবং পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো..." — [সূরা আল-মায়িদাহ: ৬]

ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন, তায়াম্মুমের বিধান কেবল পানি সম্পূর্ণ না পাওয়ার ক্ষেত্রেই নয়; বরং পানি থাকলেও যদি তা ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা হয় বা অসুবিধা হয়, তবুও তায়াম্মুম বৈধ। [মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া]

ওযু ও নামাজের ওয়াক্ত — কোনটি আগে?

শাইখ ইবনু উসাইমীন (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কেউ যদি এমন অবস্থায় থাকে যে ওযু করলে নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে — সে কী করবে? তিনি উত্তর দেন:

"সে ওযু করবে এবং নামাজ আদায় করবে, যদিও ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়; কারণ ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে নামাজ শুরু করা শর্ত, আর ওযু নামাজের জন্য শর্ত। তবে যদি ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং পানি ব্যবহারে অসুবিধা না থাকে, তবে দ্রুত ওযু করে নামাজ শুরু করবে। আর যদি পানি না থাকে বা ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে তায়াম্মুম করবে।" — [ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দারব, ইবনু উসাইমীন]

যানবাহনে নামাজের বিধান

শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেন:

"যানবাহনে (গাড়ি, বিমান, ট্রেন) ফরজ নামাজ আদায় করা জায়েয নয় যদি না ভয় বা অসুস্থতার মতো ওজর থাকে; কারণ ফরজ নামাজ দাঁড়িয়ে, কিবলামুখী হয়ে আদায় করা ওয়াজিব। তবে নফল নামাজ যানবাহনে বসে আদায় করা জায়েয।" — [মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনু বায]

তবে শাইখ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেন, যদি যানবাহন থামানো সম্ভব না হয় বা থামালে বড় ক্ষতি হয়, তাহলে যানবাহনেই নামাজ আদায় করা যাবে, তবে কিবলামুখী হওয়ার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করবে। [আশ-শারহুল মুমতি‘]

ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় করণীয় (ধাপে ধাপে)

  1. প্রথমে চেষ্টা করুন যানবাহন থামিয়ে ওযু করে নামাজ পড়ার — যদি নিরাপদ হয় এবং সময় থাকে।
  2. যদি পানি না থাকে বা ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে — তাহলে পবিত্র মাটি/দেয়াল/যানবাহনের পবিত্র অংশে মাটি,ধুলা দিয়ে তায়াম্মুম করুন (মুখ ও হাত মাসাহ করুন)।
  3. যদি তায়াম্মুমও সম্ভব হয় — তাহলে যানবাহনেই নামাজ আদায় করুন, সম্ভব হলে দাঁড়িয়ে, নাহলে বসে; কিবলামুখী হয়ে নামাজ আদায় করুন।
  4. ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই নামাজ শুরু করুন — ওযু বা তায়াম্মুমের জন্য ওয়াক্ত পার হতে দেবেন না।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.