ছোট দুরুদ পড়লে যেই সওয়াব , বড় দুরুদ পড়লে কি একই সওয়াব?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7022
Questioner: Amatullah Samia
Question Asked: 17 Oct 2026, 01:45 PM
Reviewed & Published: 17 Oct 2026, 02:24 PM
Views: 11
Tokens: 3,569
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়লে যেই সওয়াব হয় বড় দুরুদ পড়লেও কি একই সওয়াব হবে?
একইভাবে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়লে যেই সওয়াব হয় সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পড়লেও কি একই সওয়াব হবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

** উত্তর:** না, সব ক্ষেত্রে "একই সওয়াব" হবেনা।

দরুদ শরীফের ক্ষেত্রে

  • সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা যেকোনো দরুদ পাঠ করা ফরজ-ওয়াজিব নয়, বরং সুন্নত ও ইবাদত। প্রতিটি দরুদ পাঠে সওয়াব রয়েছে।
  • তবে বড় দরুদ (যেমন দরুদে ইবরাহীম, দরুদে তাজ, দরুদে নারিয়া ইত্যাদি) পাঠ করলে সাধারণত বেশি সওয়াব পাওয়ার আশা করা যায়, কারণ তাতে বেশি প্রশংসা, বেশি দুআ ও বেশি নেকির উপকরণ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا» "যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত পাঠান।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪০৮)

  • হাদীসে আরও এসেছে, রাসূল ﷺ বলেছেন: «أَكْثِرُوا مِنَ الصَّلَاةِ عَلَيَّ» — "তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।" (সুনানে তিরমিজি)
  • ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, দরুদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো দরুদে ইবরাহীম, যা নামাজে পড়া হয় (রাদ্দুল মুহতার, ১/৫১৩; ফাতাওয়া উসমানি, ১/৪৯৭)। এতে বোঝা যায়, সব দরুদ সমান মর্যাদার নয়।

সারকথা: ছোট দরুদ (যেমন শুধু "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম") পাঠে সওয়াব হয়, কিন্তু বড় দরুদে সাধারণত বেশি সওয়াবের আশা করা যায়—তবে আল্লাহ তা'আলা যাকে ইচ্ছা বেশি দেন। "একই সওয়াব" বলে দাবি করা যায় না; বরং বেশি প্রশংসাসূচক দরুদে বেশি সওয়াবের আশা করা যায়।

ইস্তিগফারের ক্ষেত্রে

  • আস্তাগফিরুল্লাহ (أستغفر الله) পাঠ করলে ক্ষমা ও সওয়াবের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। হাদীসে এসেছে:

«مَنْ قَالَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ غُفِرَ لَهُ وَإِنْ كَانَ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ» "যে ব্যক্তি বলে: 'আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি', তার গুনাহ ক্ষমা করা হয়, যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে থাকে।" (সুনানে আবু দাউদ, ১৫১৭; সুনানে তিরমিজি, ৩৫৭৭)

  • সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হলো সেই বিশেষ দুআ, যা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

«اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ...» রাসূল ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি দিনে বিশ্বাসের সাথে এটি পড়ে এবং সেদিন মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (সহীহ বুখারী, ৬৩০৬)

  • এতে বোঝা যায়, সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারের বিশেষ ফজিলত ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা সাধারণ আস্তাগফিরুল্লাহর ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বর্ণিত হয়নি। তবে সাধারণ ইস্তিগফারও কম নয়—বরং কুরআনে বারবার ইস্তিগফারের নির্দেশ এসেছে (সূরা নূহ: ১০-১২; সূরা হুদ: ৩)।

সারকথা: সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পড়লে হাদীসে বিশেষ প্রতিশ্রুতি (জান্নার সুসংবাদ) রয়েছে, যা সাধারণ আস্তাগফিরুল্লাহর ক্ষেত্রে সরাসরি বর্ণিত হয়নি। তাই "একই সওয়াব" বলা ঠিক নয়; বরং প্রত্যেকটির নিজস্ব ফজিলত ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

মূলনীতি (উসূল)

  • ইবাদতের সওয়াব আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়; বান্দা নিশ্চিতভাবে হিসাব করতে পারে না। তবে হাদীসে যেসব বিশেষ প্রতিশ্রুতি এসেছে, সেগুলো সেই বিশেষ আমলের সাথে সম্পৃক্ত।
  • ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতারে উল্লেখ করেছেন, যিকির ও দুআর ক্ষেত্রে হাদীসে বর্ণিত বিশেষ ফজিলত সেই বিশেষ শব্দের সাথে সম্পৃক্ত (রাদ্দুল মুহতার, ২/২৬৩ প্রসঙ্গে)।
  • তাই উত্তম পন্থা হলো: সাধারণ দরুদ ও ইস্তিগফারও পাঠ করা, এবং পাশাপাশি হাদীসে বর্ণিত বিশেষ দরুদ (দরুদে ইবরাহীম) ও সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারও পাঠ করা—এতে উভয়ের ফজিলতই অর্জিত হবে।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.