জ্বিনের সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করা কি জায়েজ?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমি আজকে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে জ্বীন জাদুর জটিল সমস্যায় আক্রান্ত।আমার পরিবারে কেউই প্রোপার দ্বীন মেইনটেইন করে চলেনা।আমি গোপনে কয়েকবার বিজ্ঞ রাকিদের থেকে রুকইয়া করিয়েছি।কিন্তু রুকইয়া করার কিছুদিন না যেতেই আবারও সমস্যা অনেক বেড়ে যায়।সমস্যা বাড়তে বাড়তে এখন আমার পাগলপ্রায় অবস্থা।আমাকে দিনের বেশিরভাগ সময় জ্বীন আছর করে রাখে।আমি ওয়াসওয়াসায় মনে হয় পাগল হয়ে যাবো আর কষ্টে মনে হয় মারা যাবো।কারণ আমার পুরো শরীর জাদুতে আক্রান্ত।আমার একের পর এক দুরারোগ্য ব্যাধি লেগেই থাকে।আমি ভীষণ অভাব অনটন এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।সব রোগের চিকিৎসাও নিতে পারছি না এবং রুকইয়া সেশন নেওয়ার সামর্থ্য ও আমার নেই। বলে রাখা ভালো যে আমি তিন কুল পড়তে গেলেই পোজেজড হয়ে যাই।আমার ফ্যামিলিতে কেউই আমাকে রুকইয়া করেও দেয়না।
আমাকে অনেকে এমন আলেমের কথা বলেন যাঁরা জ্বিনের সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করে থাকেন।আমার যতদিন সামর্থ্য ছিল আমি নিজেই রুকইয়া করেছি এবং বিজ্ঞ রাকীদের কাছে গিয়েছি।কিন্তু এখন আমার অবস্থা অনেক খারাপ।আমি আল্লাহর কাছে কত দুয়া করছি ভিক্ষা চাইছি সদকা করছি যেনো তিনি সুস্থতা দান করেন।কারণ এই সমস্যার জন্য আমার নামাজ ও কাযা হচ্ছে।কিন্তু আমার সমস্যা দিনদিন বাড়ছে।
আমি কি এই ধরনের আলেমের শরণাপন্ন হতে পারবো যারা জ্বিনের সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করে?জ্বিনের সাহায্য নেওয়া কি জায়েজ?যারা জ্বিনের সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা প্রদান করে ও যারা চিকিৎসা গ্রহণ করে তারা কি হকের পথে আছে?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
জবাবঃ- জিন থেকে সাহায্য নেওয়া তাদেরকে কাজে লাগানো ইত্যাদি জায়েজ কিনা,এই বিষয়ে উলামায়ে কেরামদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে।
কিছু কিছু উলামায়ে কেরামগন বলেন জিন থেকে সাহায্য নেওয়া, তাদেরকে কাজে লাগানো জায়েজ।
জিনকে নিজের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন মানুষকে সাহায্যকারী বা শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানো যায়, তেমনি জিনকেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করানো যাবে। কাজ করিয়ে তার পাওনা দিয়ে দিতে হবে। এটি জায়েজ আছে।
সোলায়মান (আ.) জিনদের নিয়ে বাহিনী তৈরি করেছিলেন এবং তাদের দিয়ে নির্মাণকাজ করিয়েছেন। সুতরাং জিনদের সাহায্য নেওয়া নাজায়েজ নয়। তবে এটি বৈধ প্রক্রিয়ায় হতে হবে। জিনকে দিয়ে হারাম কাজ করা যাবে না, আবার জিনের কোনো শর্তও মানা যাবে না। তবে আরো অনেক উলামায়ে কেরামগন ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
তারা বলেন যে জিনদের সাহায্য চাওয়া কখনও শুধু হারাম, কখনও এর সাথে শিরক, কখনও কুফর। এটা কিভাবে সাহায্য চাইছে, কিভাবে সাহায্য করছে এর ওপর নির্ভর করে।”
সুরা জিনে আল্লাহ তায়ালা বলেন –
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
অনেক মানুষ অনেক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিত। (সুরা জিন, আয়াত ৬)
সুতরাং “জিনদের সাহায্য চাওয়া হারাম”। তবে স্বাভাবিকভাবেই শয়তান/জিনরা তো এমনিতেই আমার কাজ করবে না। শয়তান বা জিনদের থেকে ফায়দা নিতে হলে, তাদের কথা অনুযায়ী স্যাটানিক রিচ্যুয়াল পালন করতে হয়, সেক্রিফাইস করতে হয়, আল্লাহর নামে না করে তাদের নামে পশু জবাই করতে হয়। ইত্যাদি ইত্যাদি।
অনেক কবিরাজকে দেখা যায়,তারা বলে- গরু লাগবে, মুরগি লাগবে, ছাগল লাগবে। তাদের অনেকে নিজে এসব শয়তানের নামে বলি দেয়, আর অনেকে বলে “জবাই করার পর রক্তটা আমাকে দিয়েন।” তাঁরা এই রক্ত শয়তানের উপাসনায় ব্যবহার করে। যাদুবিদ্যায় বিভিন্ন মৃত প্রাণীর রক্ত ব্যবহার করে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন
وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُم مِّنَ الْإِنسِ ۖ وَقَالَ أَوْلِيَاؤُهُم مِّنَ الْإِنسِ رَبَّنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا بِبَعْضٍ وَبَلَغْنَا أَجَلَنَا الَّذِي أَجَّلْتَ لَنَا ۚ قَالَ النَّارُ مَثْوَاكُمْ خَالِدِينَ فِيهَا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ۗ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيم.
যেদিন আল্লাহ সবাইকে একত্রিত করবেন, হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষের মাঝে অনেককে তোমাদের অনুগামী করে নিয়েছ। মানুষদের মাঝে তাদের বন্ধুরা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, “আমরা পরস্পরে পরস্পরের মাধ্যমে উপকার লাভ করেছি।” আর এখন আপনি আমাদের জন্যে যে সময় নির্ধারণ করেছিলেন, আমরা তাতে উপনীত হয়েছি।
তখন তাদের বলা হবে “আগুন হল তোমাদের বাসস্থান। সেখানে তোমরা চিরকাল অবস্থান করবে; আর আল্লাহ যেমন চাইবে..।” নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী। (সুরা আন’আম, আয়াত ১২৮)
★জিনকে নিজের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন মানুষকে সাহায্যকারী বা শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানো যায়, তেমনি জিনকেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করানো যাবে। এটি জায়েজ আছে। সুতরাং খারাপ জিনকে তাড়ানোর জন্য নেককার জিনকে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটি বৈধ প্রক্রিয়ায় হতে হবে। জিনকে দিয়ে হারাম কাজ করা যাবে না, আবার জিনের কোনো হারাম শর্তও মানা যাবে না।
★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী, শিরক করা ছাড়া শরীয়তের গন্ডির মধ্যে থেকে জীনের সাহায্য নেয়া জায়েজ হবে।
যে সমস্ত আলেমরা শিরক করা ছাড়া শরীয়তের গন্ডির মধ্যে থেকে জীনের সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করে,আকীদা বিশুদ্ধ রাখে,শরীয়তের গন্ডির মধ্যে থেকে চিকিৎসা ও যাবতীয় কাজ করে,তারা হকের পথে আছে। এই ধরনের আলেমের শরণাপন্ন হতে পারবেন।
অন্যথায় নয়।
আল্লাহ সবকিছুর খালিক ও মালিক,জগতের সব কিছু উনার হুকুমেই সংগঠিত হয়,তাবিজ বা ঔষধের অদ্য কোনো ক্ষমতা নেই।এমন আক্বিদা পোষণ করে জায়েয ও বৈধ কালামের মাধ্যমে চিকিৎসা হিসেবে ঝাড়-ফুঁক,তাবিজ ব্যবহার ও জীনের সাহায্য নেয়া বৈধ আছে।
তবে ভবিষ্যতের কোনো বিষয় সম্পর্কে তার কথা বিশ্বাস করা যাবেনা। গায়েবের বিষয় বিশ্বাস করা যাবেনা।