যিনাকারী যদি ধর্ষণের স্বীকারোক্তি দিয়ে মারা যায়, সে কি জান্নাতি হবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6810
Questioner: Nusrat Jahan 0639
Question Asked: 12 Oct 2026, 08:24 PM
Reviewed & Published: 12 Oct 2026, 09:08 PM
Views: 15
Tokens: 2,582
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

যিনা কারী যদি ধর্ষণের স্বীকার হয়ে মারা যায় তাহলে সে কি জান্নাতি হবে?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রশ্ন: যিনাকারী যদি ধর্ষণের স্বীকারোক্তি দিয়ে মারা যায়, তাহলে সে কি জান্নাতি হবে?

উত্তর:

যিনা (ব্যভিচার) ইসলামে কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে অন্যতম। কুরআন ও হাদিসে যিনার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তবে কোনো ব্যক্তি যদি যিনা করে ফেলে, অতঃপর আন্তরিকভাবে তাওবা করে এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের স্বীকারোক্তি দেয়—তাহলে তার বিধান সম্পর্কে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা আবশ্যক:

১. যিনার শাস্তি ও তাওবার বিধান:

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"আর তোমরা যিনার কাছেও যেয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।" (সূরা আল-ইসরা: ৩২)

"আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না, আর আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে হত্যা করে না, আর যিনা করে না। আর যে এগুলো করে, সে শাস্তির সম্মুখীন হবে।" (সূরা আল-ফুরকান: ৬৮)

তবে আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন:

"তারা যা করেছিল তার পরও যারা তাওবা করে এবং ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক এরপর তাদের প্রতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আল-ফুরকান: ৭০)

২. ধর্ষণের স্বীকারোক্তি ও তাওবা:

যদি কোনো ব্যক্তি যিনা করে এবং পরে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের স্বীকারোক্তি দেয়, তবে তার জন্য করণীয় হলো:

  • আন্তরিক তাওবা করা (তাওবাতুন নাসূহা)
  • আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা
  • ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা
  • যদি কারো হক নষ্ট হয়, তবে তার হক আদায় করা বা ক্ষমা চাওয়া

৩. জান্নাতি হওয়ার বিষয়:

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি জান্নাতি হবে কি হবে না—এটি নিশ্চিতভাবে বলা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ:

  • এটি আল্লাহর এখতিয়ার
  • হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আমি জানি না আমার কী হবে, তোমাদের কী হবে।" (সহিহ বুখারি)

তবে ইসলামী আকীদা অনুযায়ী:

  • আন্তরিক তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন
  • তাওবা ছাড়া মারা গেলে সে গুনাহগার অবস্থায় মারা যাবে, তবে মুসলিম হিসেবে মারা গেলে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না—যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন, তবে শাস্তি ভোগের পর জান্নাতে প্রবেশ করবে (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদা)

৪. ফকীহদের মত:

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার"-এ উল্লেখ করেছেন যে, কবিরা গুনাহকারী মুসলিম যদি তাওবা না করে মারা যায়, তবে সে আল্লাহর ইচ্ছাধীন—তিনি চাইলে ক্ষমা করবেন, চাইলে শাস্তি দেবেন, কিন্তু চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে না।

আল্লামা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) "বেহেশতী জেওর"-এ বলেন: "যে ব্যক্তি কবিরা গুনাহ করে এবং তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।"

৫. ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান:

ধর্ষণ কেবল যিনা নয়, বরং এটি জুলুম ও সীমালঙ্ঘন। ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির হক নষ্ট করা হয়। তাই ধর্ষণকারীর জন্য:

  • তাওবা করতে হবে
  • ভিকটিমের হক আদায় করতে হবে (যদি সম্ভব হয়)
  • হদ (শরীয়তের শাস্তি) প্রয়োগের বিধান রয়েছে

উপসংহার:

যিনাকারী যদি আন্তরিক তাওবা করে এবং ধর্ষণের স্বীকারোক্তি দিয়ে মারা যায়, তবে তার বিষয়টি আল্লাহর কাছে সোপর্দ। আমরা বলতে পারি না সে নিশ্চিত জান্নাতি বা জাহান্নামি। তবে আন্তরিক তাওবা করলে আল্লাহর রহমতের আশা করা যায়। আর তাওবা ছাড়া মারা গেলে সে গুনাহগার, কিন্তু মুসলিম হিসেবে মারা গেলে চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে না—এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদা।

আল্লাহ সবাইকে যিনা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ থেকে হেফাজত করুন এবং আন্তরিক তাওবার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.