গোসলের পর কমোডের পানিতে বসা।
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২. দোয়া করতে গিয়ে যদি মনে হয়, এর আগে দোয়া করছি আল্লাহ সরাসরি সেটা না দিয়ে হয়তো বিপদ থেকে বাচিয়েছেন না হয় আখিরাতে দেবেন। এবার ও যদি তেমন হয়।
৩. মসজিদে সিমেন্ট কিনে না দিয়ে সেই নিয়তে টাকা দিলে হবে কি? আমি চাই আমার টাকা সরাসরি মসজিদের কাজে লেগে থাকুক।
৪. আমি বিবাহিত, বউয়ের থেকে দূরে থাকি, আমি কি ফোনে আমার নিজের বউয়ের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও দেখতে পারবো. গোপ্পনীয়?
৫. আমি মুসাফির কিন্তু আমার স্ত্রী মুসাফির না এমন অবস্থায়, আমি নামাজের ইমামতি করার বিধান কি হবে? কিভাবে করবো?
Answer
গুচ্ছ প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন ১: গোসলের পর কমোডে জমা পানিতে বসলে শরীর নাপাক হবে কি?
উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখ আছে—কমোডের ঢাকনা বন্ধ রাখেন, তারপরও বিন্দু বিন্দু পানি জমে। এ বিষয়ে বিধান হলো:
মূলনীতি: পবিত্রতা নষ্ট হয় নাপাক বস্তুর সংস্পর্শে আসলে। কমোডের ভেতরের পানি সাধারণত পেশাব-পায়খানার সংস্পর্শে আসার কারণে নাপাক (নাজাসাতে গালিজা) হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শুধু বিন্দু বিন্দু পানি যদি আপনার শরীরের কোনো অংশে লাগে,
তাহলে **যদি নাপাক পানির বিন্দু বা নাপাক পানি মিশ্রিত বিন্দু পানি শরীরে লাগে সেই অংশ ধুয়ে ফেললে পবিত্র হয়ে যাবে। পুরো শরীর নাপাক হবে না।
কমোডে বসার সময় যদি নাপাক পানির ছিটা শরীরে বা কাপড়ে লাগে, তাহলে সেই অংশ ধুয়ে ফেলুন। আর যদি কাপড়ে লাগে এবং তা দৃশ্যমান হয়, তাহলে কাপড়ও ধুয়ে নিতে হবে। [ফাতাওয়া উসমানি, ১/১২৭]
যদি কমোডের পানির ছিটা শরীরে লাগে: শুধু সেই স্থান ধুয়ে নিলেই যথেষ্ট, গোসল ফরজ হবে না।
প্রশ্ন ২: দোয়ার বিষয়ে ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ)
উত্তর:
আপনার মনে যে সন্দেহ আসছে—"আল্লাহ সরাসরি দেননি, হয়তো বিপদ থেকে বাঁচিয়েছেন বা আখিরাতে দেবেন"—এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা। এর থেকে বাঁচার উপায়:
১. আল্লাহর হুকুম: আল্লাহ তাআলা বলেন—
"আমি বান্দার ডাকে সাড়া দিই যখন সে আমাকে ডাকে।" [সূরা বাকারা: ১৮৬]
২. হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
"যে ব্যক্তি দোয়া করে, আল্লাহ তার দোয়া তিনভাবে কবুল করেন: হয় দুনিয়াতে তা দেন, নয়তো বিপদ দূর করেন, নয়তো আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখেন।" [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১১১৩৩; সহীহ ইবনে হিব্বান]
৩. ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা:
- দোয়ার পর মনে সন্দেহ এলে বলুন: "আল্লাহু আকবার, আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন—হয় দুনিয়াতে, নয় আখিরাতে, নয় বিপদ দূর করে।"
- ওয়াসওয়াসা আসলে আউযুবিল্লাহ পড়ুন এবং দোয়া চালিয়ে যান।
- ইমাম ইবনে আবিদিন রাহ. বলেন: "ওয়াসওয়াসা শয়তানের পক্ষ থেকে, এর প্রতিকার হলো আল্লাহর যিকির বেশি করা।" [রাদ্দুল মুহতার, ১/৪৬]
৪. গুরুত্বপূর্ণ: দোয়ার পর "কবুল হয়নি" এমন ধারণা করা ভুল। আল্লাহর কাছে দোয়া করা মানেই তা কবুলের যোগ্য। বরং বান্দার উচিত দোয়ায় অবিচল থাকা।
প্রশ্ন ৩: মসজিদে সিমেন্ট না কিনে টাকা দিলে হবে কি?
উত্তর:
আপনি চান আপনার টাকা সরাসরি মসজিদের কাজে লাগুক। এ বিষয়ে বিধান:
১. যদি মসজিদ কমিটিকে টাকা দেন এই শর্তে যে, তারা সিমেন্ট কিনে মসজিদে ব্যবহার করবে: তাহলে হবে। টাকা দেওয়ার সময় নিয়ত করুন যে, এই টাকা মসজিদের নির্মাণকাজে ব্যয় হবে। [ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/৩৫৫]
২. যদি সরাসরি সিমেন্ট কিনে দেন: এটাও অনেক সওয়াবের কাজ। সদকায়ে জারিয়াহ।
৩. যদি টাকা দেন কিন্তু মসজিদ কমিটি তা অন্য কাজে (যেমন ইমামের বেতন, বিদ্যুৎ বিল) ব্যবহার করে: সেক্ষেত্রে টাকা দেওয়ার সময় স্পষ্টভাবে বলে দিন—"এই টাকা মসজিদের নির্মাণ/মেরামত কাজে ব্যবহার করবেন।"
প্রশ্ন ৪: ফোনে নিজের স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি/ভিডিও দেখা
উত্তর:
আপনি বিবাহিত এবং স্ত্রীর থেকে দূরে থাকেন। এ অবস্থায় নিজের স্ত্রীর ছবি বা ভিডিও দেখা—এ বিষয়ে বিধান:
১. মূলনীতি: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একে অপরের প্রতি দৃষ্টি রাখা জায়েয। আল্লাহ বলেন—
"তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা হালাল করা হয়েছে।" [সূরা বাকারা: ১৮৭]
২. হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
"তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি দৃষ্টি রাখো, তারা তোমাদের প্রতি দৃষ্টি রাখবে।" [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৪১]
৩. তবে শর্তাবলি:
- ছবি/ভিডিও অবশ্যই স্ত্রীর সম্মতিতে হতে হবে। তার অসম্মতিতে গোপনে ছবি/ভিডিও নেওয়া বা দেখা জায়েয নয়।
- ছবি/ভিডিও যেন কোনোভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে না পৌঁছায়। এটি আমানতের খিয়ানত হবে।
- শরীয়তের দৃষ্টিতে ছবি সংরক্ষণ: সাধারণত ছবি তোলা ও সংরক্ষণ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ছবি/ভিডিও দেখা—অনেক ফকিহ এটিকে জায়েয বলেছেন, যদি তা শরীয়তের সীমা অতিক্রম না করে। [ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৩৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৫০৭]
৪. গোপনীয়তা: অবশ্যই গোপনীয় হতে হবে। ফোনে সংরক্ষণ করলে পাসওয়ার্ড দিন, যেন অন্য কেউ দেখতে না পারে। আর কোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন না—এটি হারাম।
৫. সতর্কতা: যদি ছবি/ভিডিও দেখে নিজের কামভাব চরিতার্থ করার উদ্দেশ্য হয় এবং তা হস্তমৈথুনের দিকে নিয়ে যায়—তাহলে তা জায়েয নয়। বরং স্ত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ তৈরি করুন।
উপসংহার: নিজের স্ত্রীর ছবি/ভিডিও দেখা জায়েয, তবে শর্ত হলো—স্ত্রীর সম্মতি, গোপনীয়তা রক্ষা, এবং শরীয়তের সীমা অতিক্রম না করা।
প্রশ্ন ৫: মুসাফির অবস্থায় স্ত্রী মুসাফির না হলে ইমামতি
উত্তর: এক্ষেত্রে স্বামী ইমামতি করলে স্বামী ২ রাকাত কসর আদায় করবে,স্ত্রী ইমামের সালাম ফিরানোর পর বাকি (২ রাকাত) নামাজ আদায় করবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে স্ত্রী পূর্ণ নামাজই আদায় করতে হবে।