স্বপ্নে হারাম বা সমকামী দৃশ্য দেখলে কি গুনাহ হয়?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
স্বপ্নে সমকামী দৃশ্য দেখা: ইসলামী দৃষ্টিকোণ
সংক্ষিপ্ত উত্তর
আপনার এই স্বপ্ন দেখা আপনার গুনাহ বা দোষের প্রমাণ নয়। স্বপ্নে দেখা কোনো হারাম দৃশ্যের জন্য মানুষ জবাবদিহি হবে না, কারণ স্বপ্ন মানুষের ইচ্ছাধীন নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسُهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ»
"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা করে বা বলে।" — সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭
আরেক হাদীসে:
«رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ... وَالنَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ»
"তিন ব্যক্তির উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে... ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগে।" — সুনানে আবু দাউদ: ৪৪০৩, সুনানে তিরমিযী: ১৪২৩
স্বপ্নের প্রকারভেদ
হাদীসে স্বপ্ন তিন প্রকার বলা হয়েছে (সহীহ বুখারী: ৬৯৮৩, সহীহ মুসলিম: ২২৬৩):
- আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ (রু'ইয়া)
- শয়তানের পক্ষ থেকে ভয় দেখানো বা দুশ্চিন্তা (হুলুম)
- নফসের খেয়াল-খুশি বা দৈনন্দিন চিন্তার প্রতিফলন (হাদীসে নফস)
আপনার স্বপ্নটি সম্ভবত শয়তানের কুমন্ত্রণা বা নফসের প্রভাব — বিশেষত আপনি অসুস্থ ছিলেন এবং ফজরের পর ঘুমিয়েছিলেন, যা এমন অস্থির স্বপ্নের কারণ হতে পারে।
ফিকহী বিধান (হানাফী মাযহাব)
ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন যে, স্বপ্নে দেখা বিষয়ের উপর কোনো শরয়ী হুকুম আরোপিত হয় না, কারণ স্বপ্ন দেখা ইখতিয়ারী (ইচ্ছাধীন) কাজ নয়। (রাদ্দুল মুহতার: ১/২৭৭ প্রসঙ্গ)
ফতোয়ায়ে আলমগীরী-তে আছে:
"স্বপ্নে কেউ যদি কুফর বা গুনাহের কাজ করে দেখে, তবে তার উপর কোনো হদ বা তাওবা ওয়াজিব হয় না, কারণ ঘুমন্ত ব্যক্তি মুকাল্লাফ নয়।" (ফতোয়ায়ে আলমগীরী: ৫/৩৫০ প্রসঙ্গ)
মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) «ফতোয়ায়ে উসমানী»-তে বলেন: "স্বপ্নে হারাম দৃশ্য দেখা গুনাহ নয়; বরং জাগ্রত অবস্থায় তা থেকে বেঁচে থাকাই কাম্য।"
করণীয়
- তাওবা ও ইস্তিগফার করুন — যদিও গুনাহ নেই, তবু শয়তানের ওয়াসওয়াসা দূর করতে "আউযুবিল্লাহ" পড়ুন।
- স্বপ্ন কারো কাছে বর্ণনা করবেন না — হাদীসে নিষেধ আছে (সহীহ মুসলিম: ২২৬৩)।
- বাম দিকে থুতু ফেলুন (শুকনোভাবে) এবং শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চান।
- ফজরের পর ঘুম পরিহার করুন — সুস্থ থাকলেও ফজরের পর ঘুম সুন্নতের খিলাফ; অসুস্থ হলে শুধু প্রয়োজনে বিশ্রাম নিন।
- নামাজ-ইবাদতে মনোযোগ বাড়ান, কুরআন তিলাওয়াত করুন — এতে অন্তর পরিষ্কার থাকে।
- ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাস-ফালাক-নাস পড়ে ঘুমান।
সান্ত্বনা
আপনি বলেছেন আপনি কখনো হারাম কিছু দেখেন না — আলহামদুলিল্লাহ। এটি আপনার নেক নিয়ত ও পবিত্রতার প্রমাণ। শয়তান কখনো কখনো পবিত্র মানুষের মনে কু-স্বপ্ন ঢেলে দেয় যাতে সে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। এটি আপনার ঈমানের দুর্বলতা নয়, বরং শয়তানের হীন চক্রান্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
«إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْزَغُ بَيْنَهُمْ»
"নিশ্চয়ই শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।" — সূরা বনী ইসরাইল: ৫৩
আল্লাহ আপনার অন্তরকে পবিত্র রাখুন এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।