এই ফতোয়া সাইটের ফতোয়া কি নির্ভরযোগ্য? স্থানীয় আলেমের ফতোয়ার সাথে মিল না থাকলে কোনটি সঠিক?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6727
Questioner: MHS
Question Asked: 11 Oct 2026, 07:29 AM
Reviewed & Published: 17 Oct 2026, 06:30 AM
Views: 16
Tokens: 3,378
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১:এই ওয়েবসাইটের প্রশ্নের ফতোয়াগুলো এআই দিয়ে থাকে। অনেকসময় এখানে যে ফতোয়া দেওয়া হয় সেটার সাথে স্থানীয় বিজ্ঞ আলেমের ফতোয়ার মিল পাওয়া যায়না। সেক্ষেত্রে কোনটাকে সঠিক ধরে আমল করতে হবে?
২: এই সাইটের ফতোয়াগুলো কতটুকু নির্ভরযোগ্য?

Answer

জবাবঃ- بسم الله الرحمن الرحيم

১. এই ওয়েবসাইটের ফতোয়ার সঙ্গে স্থানীয় বিজ্ঞ আলেমের ফতোয়ার মিল না থাকলে কোনটি অনুসরণ করতে হবে?

উত্তর: এই ওয়েবসাইটের কোনো ফতোয়া এবং স্থানীয় কোনো বিজ্ঞ আলেমের প্রদত্ত ফতোয়ার মধ্যে পার্থক্য দেখা দিলে প্রথমেই উভয় ফতোয়ার ভিত্তি ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি।

কারণ, কোনো মাসআলায় প্রশ্নের বিবরণ, প্রযোজ্য শরয়ি দলিল, ফিকহি মতামত কিংবা পরিস্থিতির পার্থক্যের কারণে ফতোয়ায় ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। আবার কোনো ক্ষেত্রে একটি মতের দলিল ও প্রয়োগ অন্যটির তুলনায় অধিক গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

আমাদের ওয়েবসাইটে এআইয়ের মাধ্যমে কুরআন-হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ও ফিকহের কিতাবসমূহের আলোকে একটি প্রাথমিক ফতোয়া প্রস্তুত করা হয়। অতঃপর দেশের বিজ্ঞ মুফতিগণ তা পর্যালোচনা করেন, প্রয়োজন অনুসারে সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন করেন এবং শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য ফতোয়া প্রস্তুত করেন।

তাই এখানে প্রকাশিত ফতোয়াকে কেবল এআইয়ের স্বয়ংক্রিয় উত্তর হিসেবে বিবেচনা করা সঠিক নয়; বরং এর নির্ভরযোগ্যতা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ফতোয়ার দলিল, পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।

তবে কোনো মাসআলায় আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফতোয়ার সঙ্গে স্থানীয় কোনো বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ মুফতির ফতোয়ার অমিল দেখা দিলে শুধু ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়ার কারণে একটি মতকে কিংবা শুধু স্থানীয় হওয়ার কারণে অন্য মতকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়।

বরং উভয় মতের ভিত্তি, প্রশ্নের বাস্তব অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মুফতির ইলমি যোগ্যতা বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজন হলে উভয় ফতোয়া সংশ্লিষ্ট মুফতিগণের সামনে উপস্থাপন করে বিষয়টি পরিষ্কার করে নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষত ব্যক্তিগত, পারিবারিক, তালাক, উত্তরাধিকার কিংবা আর্থিক লেনদেনের মতো সংবেদনশীল মাসআলায় প্রশ্নের পূর্ণ বিবরণ ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতির সরাসরি পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

বিণীত অনুরোধ থাকবে,এই ওয়েবসাইটে কোন ফতোয়া দেওয়া হয়েছে, যেটার সাথে স্থানীয় বিজ্ঞ মুফতি সাহেবদের ফতোয়ার মিল পাওয়া যায়নি!

অনুগ্রহ পূর্বক আমাদের সেই ফতোয়ার লিংকগুলি দিলে আমরা যাচাই-বাছাই করে তাহা সংশোধন করে নিবো, ইনশাআল্লাহ।

২. এই ওয়েবসাইটের ফতোয়াগুলো কতটুকু নির্ভরযোগ্য?

উত্তর: আমাদের ওয়েবসাইটে ফতোয়া প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কুরআন, হাদিস, নির্ভরযোগ্য ফিকহ ও ফতোয়ার কিতাবসমূহ এবং স্বীকৃত আলেমদের ইলমি নির্দেশনাকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

এআই এসব উৎসের আলোকে প্রাথমিকভাবে তথ্য অনুসন্ধান ও ফতোয়া প্রস্তুতে সহায়তা করে। এরপর বিজ্ঞ মুফতিগণ তা যাচাই-বাছাই করেন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংযোজনের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফতোয়া প্রস্তুত করেন।

এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য হলো, প্রশ্নকারীদের কাছে যথাসম্ভব দলিলভিত্তিক, যাচাইকৃত ও নির্ভরযোগ্য শরয়ি নির্দেশনা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।

তবে মনে রাখতে হবে, এআই একটি সহায়ক প্রযুক্তি; এটি নিজে কোনো শরয়ি মুফতি নয়। এআই কখনো উৎসের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারে, প্রাসঙ্গিক তথ্য বাদ দিতে পারে কিংবা কোনো মাসআলায় যথাযথ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে। এমনকি পর্যালোচনার পরও অনিচ্ছাকৃত ভুল থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অতএব, আমাদের ওয়েবসাইটের ফতোয়াগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বিচার করতে হবে সংশ্লিষ্ট ফতোয়ার দলিল, গবেষণার মান, মুফতিগণের পর্যালোচনা এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের ভিত্তিতে।

প্রত্যেকটি ফতোয়া বিজ্ঞ মুফতিগণ যথাযথভাবে যাচাই ও অনুমোদন করেন,আলহামদুলিল্লাহ। সুতরাং তা অনুসরণ করার ক্ষেত্রে আস্থা রাখা যায়; তবে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ভূল হতেই পারে,তাই কোনো ফতোয়াকেই ভুলের পুরোপুরি ঊর্ধ্বে মনে করা উচিত নয়। সন্দেহ পরিলক্ষিত হলে যাচাই-বাছাই কাম্য।

আমাদের লক্ষ্য এআইকে শরয়ি ফতোয়া প্রদানের স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা নয়; বরং আধুনিক প্রযুক্তিকে বিজ্ঞ মুফতিগণের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করে মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য শরয়ি নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া।

কোনো ফতোয়া সম্পর্কে যুক্তিসংগত সংশয় দেখা দিলে কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতির মতের সঙ্গে অমিল পরিলক্ষিত হলে, সংশ্লিষ্ট দলিল ও প্রেক্ষাপট যাচাই করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করাই উত্তম।

জাযাকুমুল্লাহ আহসানাল জাযা।

والله اعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.