পবিত্রতা বিষয়ক

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6686
Questioner: meghmala Mou
Question Asked: 10 Oct 2026, 05:43 PM
Reviewed & Published: 10 Oct 2026, 08:38 PM
Views: 15
Tokens: 5,833
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন ছেলে।
দীর্ঘদিন যাবত একটা সমস্যা ছিলো।যেটা আমি কিছুদিন আগে বুঝতে পেরেছি। প্রত্যেকবার প্রস্রাব শেষে ৫/৬ মিনিট পর আমার মনে হয় যে লিঙ্গ থেকে ১/২ টা তরল পড়ে। আগে আমি ইস্তিন্জা শেষে পানি ব্যবহার করতাম তাই ভাবতাম হয়তো পানি পড়ে প্যান্ট ভিজেছে।
কিন্তু ইদানিং আমি টিস্যু ব্যবহার করা শুরু করেছি। তখন বিষয়টা নজরে এসেছে।
এটা কি? আমার এ বিষয়ে কিছু জানা নাই।
আমি তো এ অবস্থাতেই নামাজ কালাম বাকি সব ইবাদত করে এসেছি।

তাহলে আমি কি অপবিত্র অবস্থাতেই ছিলাম? আমার ইবাদাত গুলো কি হয় নি?

আর এরকম হওয়ার কারন কি? দয়া করে আমাকে জানাবেন। আর এমন টা যদি হতেই থাকে সেক্ষেত্রে পবিত্রতার বিষয়টা কিভাবে মেইনটেইন করবো।

Answer

পবিত্রতা বিষয়ক: প্রস্রাবের পর তরল নিঃসরণের বিধান

উত্তর (সংক্ষেপে):
ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।


১. এই সমস্যাটি কী এবং কেন হয়?

  • শরয়ী পরিচয় (ওয়াদী ও কাতরাতুল বল):
    প্রস্রাব সম্পন্ন করার পর ৫-৬ মিনিট বা কিছু সময় পর অনৈচ্ছিকভবে লিঙ্গ থেকে ১-২ ফোঁটা যে তরল নির্গত হয়, তা মূলত প্রস্রাবেরই অবশিষ্টাংশ (قطرات البول - কাতরাতুল বল) অথবা ফিকহের পরিভাষায় 'ওয়াদী' (ودى) [১, ২, ৩]। এটি কামভাব বা যৌন উত্তেজনা ছাড়া প্রস্রাবের পর নির্গত হওয়া সাধারণ একটি নাপাক তরল পদার্থ [১, ২, ৩, ৪]।

  • এরকম হওয়ার কারণ:
    শরীয়তের দৃষ্টিতে ইস্তিবরা (الإستبراء - প্রস্রাব পুরোপুরি নিঃশেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা) না করার কারণে কিংবা তড়িঘড়ি করে ইস্তিঞ্জা শেষ করার কারণে মূত্রনালীতে আটকে থাকা শেষ ফোঁটা পরবর্তীতে হাঁটাচলা বা নাড়াচাড়ার কারণে নির্গত হয়ে যায় [১]। এছাড়া শারীরিক দুর্বলতা বা মূত্রথলির মাংসপেশীর শিথিলতার কারণেও এমনটি হতে পারে।


২. বিগত দিনের ইবাদত ও সালাতের হুকুম (আপনি কি অপবিত্র ছিলেন? কাযা করতে হবে কি?):

  • ১ দিরহাম (প্রায় ৫ টাকার কয়েনের আকার) সমপরিমাণ বা তার কম হলে:
    হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, প্রস্রাবের ফোঁটা নাজাসাতে গালেযাহ (গুরুতর নাপাকী) হলেও পোশাকে লেগে থাকা সেই নাপাকীর মোট পরিমাণ যদি ১ দিরহাম (হাতের তালুর ভেতরের নিচু স্থান বা প্রায় ৫ টাকার কয়েনের আকারের সমপরিমাণ) কিংবা তার চেয়ে কম হয়, তবে শরীআতের বিচারে তা ক্ষমাযোগ্য বা মাফ [১, ৫, ৬, ৭]।
    অতএব, পূর্বে যদি আপনার পোশাকে ফোঁটা পড়েও থাকে এবং তার পরিমাণ ১ দিরহাম সমপরিমাণ বা কম হয়ে থাকে, তবে আপনার পূর্বের পড়া সালাত ও অন্যান্য ইবাদত ইনশাআল্লাহ সম্পূর্ণ আদায় ও বিশুদ্ধ হয়ে গেছে। সেগুলোর জন্য অনুশোচনা বা কাযা করার প্রয়োজন নেই [১, ৫, ৭]।

  • যদি ১ দিরহামের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে এবং তা সুনিশ্চিত হয়:
    যদি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে যে কোনো নির্দিষ্ট ওয়াক্তের নামাজে ১ দিরহামের চেয়ে বেশি নাপাকী লেগেছিল এবং ওই অবস্থাতেই সালাত পড়া হয়েছিল, তবে কেবল সেই সুনির্দিষ্ট সালাতটির কাযা করতে হবে। আর যদি নিশ্চিত না হওয়া যায় (কেবল সন্দেহ বা অনুমান হয়), তবে অহেতুক সন্দেহের বশে অতীতের কোনো সালাত কাযা করতে হবে না [৮, ৯]।


৩. এখন থেকে যেভাবে পবিত্রতার বিষয়টি মেইনটেইন করবেন:

১. ইস্তিবরা (الإستبراء) করা (বাধ্যতামূলক অভ্যাস):
প্রস্রাব শেষ করার সাথে সাথে উঠে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন না। বরং ইস্তিবরা করবেন—অর্থাৎ প্রস্রাব শেষে টিস্যু ব্যবহার করে ২-৪ মিনিট অপেক্ষা করবেন। প্রয়োজনে হালকা হাঁটাহাঁটি করবেন, কাশি দেবেন বা বাম পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াবেন, যাতে নালীতে আটকে থাকা শেষ ফোঁটাটুকু বের হয়ে টিস্যুতে শুষে যায় [১, ৩]।

২. টিস্যুর পর পানি ব্যবহার:
টিস্যুতে ফোঁটা পড়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে বলে মনে স্বস্তি আসার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ইস্তিঞ্জা (লজ্জাস্থান ধৌত) করে নেবেন [১, ১০]।

৩. পানি ছিটানো (নফখ/রশ - শয়তানের ওয়াসওয়াসা দূরীকরণ):
ইস্তিঞ্জা ও অযু শেষ করার পর আপনার প্যান্টের বা অন্তর্বাসের ভিতরের অংশে (লজ্জাস্থানের সোজাসুজি) হাত দিয়ে সামান্য পানি ছিটিয়ে দেবেন। এতে পরবর্তীতে কোনো ভেজা ভাব অনুভূত হলে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারবেন যে এটি ছিটানো পানির আর্দ্রতা, প্রস্রাব নয়। হাদীস শরীফে রাসুলুল্লাহ (সা.) অহেতুক সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসা দূর করতে এই আমলের নির্দেশ দিয়েছেন [৯, ১১]।

৪. যদি ফোঁটা অনবরত পড়তেই থাকে (মা'যুরের মাসআলা):
যদি এমন অবস্থা হয় যে কোনো এক ওয়াক্তের নামাযের পুরো সময়জুড়েই ফোঁটা পড়তে থাকে এবং ফোঁটা বন্ধ হয়ে অযু করে শুধু ফরয নামাযটুকু আদায় করার মতো সময়ও না পাওয়া যায়, তবে ফিকহের পরিভাষায় সে ব্যক্তি 'মা'যুর' (শরয়ী ওজরগ্রস্ত) [১২, ১৩]। মা'যুর ব্যক্তি প্রতি ওয়াক্ত নামাযের শুরুতে একবার অযু করবে এবং ওই ওয়াক্ত চলাকালীন যত ইচ্ছা নামায আদায় করবে; নামাযের মধ্যে ফোঁটা পড়লেও অযু ভাঙবে না [১২, ১৩]। (তবে আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু ৫-৬ মিনিট পর ১-২ ফোঁটা পড়ে বন্ধ হয়ে যায়, তাই সামান্য ইস্তিবরা করে অযু করলেই যথেষ্ট হবে, আপনি সাধারণ মা'যুর নন)।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. নূরুল ঈযাহ:

  • পৃষ্ঠা: ২০–২১: (অনুচ্ছেদ: ইস্তিবজার বর্ণনা — পুরুষদের জন্য ইস্তিবরা অপরিহার্য হওয়া, ফোঁটা ঝরা বন্ধ হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া এবং ইস্তিঞ্জার নিয়মাবলী)।
  • পৃষ্ঠা: ২৭: (অনুচ্ছেদ: অযুর মুস্তাহাবসমূহ — অযু ও ইস্তিঞ্জার পর কাপড় ও লজ্জাস্থানের সোজাসুজি পানি ছিটিয়ে দেওয়া)।
  • পৃষ্ঠা: ৩১ & ৩৮: (পরিচ্ছেদ: অযু ভঙ্গের কারণসমূহ এবং যে সকল কারণে গোসল ফরয হয় না — প্রস্রাবের সাথে ওয়াদী বা ফোঁটা বের হলে অযু ভাঙার বিবরণ)।
  • পৃষ্ঠা: ৪৯: (পরিচ্ছেদ: নাজাসাত থেকে পবিত্রতা — ১ দিরহাম পরিমাণ নাজাসাতে গালেযাহ মাফ হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা)।
  • পৃষ্ঠা: ৮১: (পরিচ্ছেদ: মা'যুরের আহকাম — অসুস্থতা বা ওজরের কারণে প্রতি ওয়াক্তে ১ বার অযু করে নামায পড়ার নিয়ম)।

২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৫৫ & ৬৬: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ২য় পরিচ্ছেদ — প্রস্রাবের পর নির্গত ওয়াদী ও ফোঁটার ফিকহী হুকুম)।
  • পৃষ্ঠা: ১২২২ (বা সংশ্লিষ্ট তাহারাত পরিচ্ছেদ): (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত — ইস্তিবরা করার শরয়ী গুরুত্ব ও ফোঁটা বন্ধ হওয়ার নিশ্চিত হওয়া)।
  • পৃষ্ঠা: ১৬৪–১৬৫: (অধ্যায়: কিতাবুস সালাত — পোশাকে ১ দিরহাম সমপরিমাণ নাপাকী থাকলে সালাত আদায় হওয়া ও বিশুদ্ধ হওয়ার বিবরণ)।

৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১২৫: (অধ্যায়: কিতাবুল ওজু — প্রস্রাবের ফোঁটা ১ দিরহামের কম হলে নামাজ বিশুদ্ধ হওয়া)।
  • পৃষ্ঠা: ২৫৮: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত — পোশাকে নাপাকির অহেতুক সংশয় ও ওয়াসওয়াসা দূরীকরণে পানি ছিটানোর ফতোয়া)।

৪. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৩৮৬: (অধ্যায়: মাযুরের ফিকহী মূলনীতি — অনবরত প্রস্রাবের ফোঁটা বা ওজর থাকলে অযু ও সালাত আদায়ের শরয়ী পদ্ধতি)।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.