ভাড়া দিয়ে রাখা বাসা যা দিয়ে সংসার চলে এটাকে কি কুরবানীর নেসাবে হিসাব করতে হবে?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 666
Questioner: Hossain Ahmad Usama
Question Asked: 24 May 2026, 02:27 PM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 03:27 PM
Views: 70
Tokens: 4,925
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার গ্রামে একটি বাড়ি ভিটা আছে সেখানে কোনো ঘর করা নেই। আর আরেকটি জমি আছে গাজীপুর। সেখানে ২ শতাংশ জমির উপর রুম করে ভাড়া দেওয়া। এখান থেকে যা ভাড়া আসে এবং আমি চাকুরির যা বেতন পাই এই দুটি দিয়ে আমার সংসার চলে। আর আমি অন্যত্র ভাড়া বাসায় থাকি। এর বাইরে আমার কোনো নগদ টাকা, ব্যবসায়িক মাল কিংবা কোনো প্রকার সম্পত্তি নেই। আমার উপর কি কুরবানী ওয়াজিব?

Answer

উত্তর:
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার কাছে দুটি সম্পত্তি আছে: (১) গ্রামের একটি বাড়ির ভিটা (যেখানে কোনো ঘর নেই) এবং (২) গাজীপুরে ২ শতাংশ জমির উপর একটি রুম যা ভাড়া দেওয়া হয়। এই দুটির মূল্য যদি কুরবানীর নেসাব পরিমাণ (অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমতুল্য) হয়ে থাকে, তবে আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব।

কারণ: হানাফি ফিকহে কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো কুরবানীর দিনগুলোতে (১০, ১১, ১২ জিলহজ) নেসাবের মালিক হওয়া। নেসাব বলতে যাকাতের নেসাবের মতোই সোনা-রূপা, নগদ টাকা, ব্যবসায়িক মাল বা অতিরিক্ত সম্পত্তি বুঝায়—যা ব্যক্তির মৌলিক প্রয়োজনের (বাসস্থান, আসবাবপত্র, পেশার যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) অতিরিক্ত। আপনার গ্রামের ভিটা ও গাজীপুরের ভাড়া দেওয়া ঘর—উভয়ই মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এগুলো বিনিয়োগ বা অতিরিক্ত সম্পদ।

হানাফি কিতাবসমূহে এসেছে:

  • রদ্দুল মুহতার (৬/৩২৬): কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য মালিক হওয়া আবশ্যক—"مَنْ كَانَ مَالُهُ يَبْلُغُ نِصَابًا فَعَلَيْهِ الْأُضْحِيَّةُ" অর্থাৎ যার সম্পদ নেসাব পরিমাণ পৌঁছে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। এ ‘সম্পদ’ শুধু নগদ বা ব্যবসায়িক পণ্য নয়, বরং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসও অন্তর্ভুক্ত।
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/২৯২): যে ব্যক্তির নিজের বসবাসের বাড়ি ছাড়াও অন্য কোনো জমি বা প্রপার্টি থাকে, তার মূল্য নেসাবের মধ্যে গণ্য হবে।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৮০): ভাড়া দেওয়া সম্পত্তির মূল্যও নেসাবের অন্তর্ভুক্ত, কারণ তা মৌলিক প্রয়োজন নয়।

তবে আপনার সম্পদের মূল্য যদি নেসাব পরিমাণের কম হয়, তবে কুরবানী ওয়াজিব হবে না। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২ শতাংশ জমি (গাজীপুর) ও একটি গ্রামের ভিটার মূল্য সাধারণত নেসাব পরিমাণের (রূপার হিসাবে প্রায় ৭০,০০০ টাকা বা তার বেশি) বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। তাই আপনার উপর কুরবানী ওয়াজিব।

পরামর্শ: আপনার জমি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করে নেসাব পূর্ণ হলে অবশ্যই কুরবানী আদায় করুন। নগদ টাকা না থাকলেও সম্পদের অংশ বিক্রি করে বা ভাড়ার টাকা জমিয়ে বা প্রয়োজনে ঋণ নিয়ে কুরবানী করতে পারেন।

সতর্কীকরণ: কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার পর তা আদায় না করলে গুনাহ হবে। তাই নিজের সামর্থ্য যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.