হোটেলে অবস্থান করে পাথর নিক্ষেপ করা কি যাবে? এবং কসর না পূর্ণ নামায?

Hajj and Umrah · Hanafi

Question No: 663
Questioner: Fatema Akter
Question Asked: 24 May 2026, 01:41 PM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 03:43 PM
Views: 98
Tokens: 5,006
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।
উস্তায, হজ্বের সময় মিনায় সর্বমোট কয়দিন অবস্থান করতে হয় ? জামারায় পাথর নিক্ষেপ শেষ হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ১৩ তারিখ পর্যন্ত থাকতে হয়? যদি কেউ ১০ তারিখের পর হোটেল থেকে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করতে যায় এবং হোটেলেই ফিরে আসে তাহলে এর বিধান কি?
আরেকটা প্রশ্ন উস্তায, আমার আব্বু হজ্বে গিয়েছেন ৪০ দিনের সফরে। মক্কায় ছিলেন ১৭ দিন মদিনায় ছিলেন ১০ দিন এখন আবার মক্কায় এসেছেন। এখন কি তিনি মুসাফির নাকি মুকিম?
এবটু দ্রুত জানালে মুনাসিব হতো ইং শা আল্লহ।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথম প্রশ্ন: মিনায় অবস্থানের সময় ও হোটেল থেকে এসে পাথর নিক্ষেপের বিধান

মিনায় অবস্থানের সময়:
হজ্জের সময় মিনায় অবস্থান করা ওয়াজিব। ১০ জিলহজ্জ (ঈদের দিন) সূর্যোদয়ের পর থেকে ১১, ১২ এবং ১৩ জিলহজ্জ পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করতে হয়। তবে ১২ জিলহজ্জ সূর্যাস্তের পূর্বে যদি কেউ মিনা ত্যাগ করে, তাহলে ১৩ তারিখ মিনায় অবস্থান ও পাথর নিক্ষেপ ওয়াজিব থাকে না। আর যদি সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করে, তাহলে ১৩ তারিখও অবস্থান ও পাথর নিক্ষেপ ওয়াজিব হয়।
(সূত্র: আল-হেদায়া, ফাতাওয়া আলমগীরী, রদ্দুল মুহতার)

হোটেল থেকে এসে পাথর নিক্ষেপ করে ফিরে যাওয়ার বিধান:
১০ জিলহজ্জের পর (অর্থাৎ ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে) কেবলমাত্র জামারায় পাথর নিক্ষেপের জন্য মিনায় গিয়ে তৎক্ষণাৎ হোটেলে ফিরে আসা জায়েয নয়। কারণ মিনায় রাত্রি যাপন করা ওয়াজিব। যদি কেউ রাত্রি যাপন না করে (মিনায় না থেকে) শুধু পাথর নিক্ষেপ করে ফিরে আসে, তাহলে তার উপর একটি বকরী কুরবানী (দম) ওয়াজিব হবে। তবে যদি অপারগতা থাকে (যেমন: মিনায় জায়গা না পাওয়া, অসুস্থতা ইত্যাদি) তাহলে উযর হিসেবে গণ্য হবে এবং মুফতীর নিকট ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা উচিত।
(সূত্র: বেহেশ্তী জেওর (হজ্জ অধ্যায়), ইমদাদুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া উসমানী)


দ্বিতীয় প্রশ্ন: পিতার মুসাফির বা মুকিম হওয়ার বিধান

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থা:

  • মোট সফর: ৪০ দিন
  • প্রথমে মক্কায়: ১৭ দিন
  • মদিনায়: ১০ দিন
  • পুনরায় মক্কায়: বাকি দিনগুলো (৪০–২৭ = ১৩ দিন)

হানাফী ফিকহের বিধান:
১. প্রথম মক্কা অবস্থান (১৭ দিন): তিনি ১৫ দিনের বেশি থাকার নিয়ত করেছিলেন, তাই তখন তিনি মুকিম ছিলেন।
২. মদিনা সফর: মদিনা যাওয়ায় মক্কার ইকামত ভেঙে যায়। মদিনায় ১০ দিন থাকায় তিনি সেখানে মুসাফির ছিলেন (যেহেতু ১৫ দিনের কম)।
৩. পুনরায় মক্কায় ফিরে আসা: এখন তিনি মক্কায় ফিরেছেন। নতুন করে মক্কায় অবস্থানের উদ্দেশ্য মাত্র ১৩ দিন (যা ১৫ দিনের কম)। তাই তিনি মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন। তাকে নামায কসর (সংক্ষেপ) পড়তে হবে এবং রমজান হলে রোযা ভঙ্গ করতে পারবেন না (মুসাফিরের জন্য রোযা রাখা জায়েয)।
(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া, রদ্দুল মুহতার – কিতাবুস সালাত, বাবুল মুসাফির)

নোট: যদি তিনি প্রথমে মক্কায় ১৫ দিনের কম থাকার নিয়তে এসে থাকেন, তাহলে পুরো সফরেই মুসাফির। কিন্তু যেহেতু তিনি ১৭ দিন থেকেছেন, সেহেতু প্রথমে মুকিম হয়েছিলেন। পরে মদিনা গিয়ে ইকামত ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি মুসাফির।

والله تعالى أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.