যেই পুকুরে নাপাক মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা রযেছে, সেই পুকুরে ইসলামিক কিছু ফেলা কি জায়েয হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্নের উত্তর:
আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (ﷺ)‑এর নাম বা পবিত্র বাক্য সম্বলিত কাগজ-পত্র ফেলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা ফরয। এগুলোর সম্মান রক্ষা করা ওয়াজিব। তাই এমন স্থানে ফেলা যেখানে নাপাকির সম্ভাবনা থাকে—তা নাপাকি পানিতে মিশে থাকুক বা পাশে থাকুক—অবশ্যই জায়েয হবে না। আপনার বর্ণিত পুকুরে এক পাশে টয়লেটের নাপাকি বের হচ্ছে, অন্যপাশে মানুষ গোসল করে। এর অর্থ হলো পুকুরের পানি সম্পূর্ণরূপে পাক-পবিত্র নয়; বরং নাপাকি মিশে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পুকুরের এমনকি যেখানে আপাতদৃষ্টিতে পানি পাক মনে হয়, সেখানেও আসলে নাপাকি মিশে থাকতে পারে। তাই সেখানে আল্লাহ বা রাসূল (ﷺ)‑এর নাম না ফেলা উচিত।
হানাফী ফিকহের নির্দেশনা:
১. ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) ‘রদ্দুল মুহতার’ (১/২১৫)‑এ উল্লেখ করেন:
"কুরআন বা আল্লাহর নাম সম্বলিত কাগজ নাপাক জায়গায় বা এমন পানিতে ফেলা যেখানে লোকে পেশাব-পায়খানা করে, তা হারাম। এগুলোকে পবিত্র স্থানে পুঁতে ফেলা বা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা উচিত।"
২. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৩২২)‑তে আছে:
"কুরআনের কাগজ বা এ ধরনের পবিত্র বস্তু নাপাক স্থানে ফেলা বা পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া—যদি সেই পানি নাপাক বা অপবিত্র হয়—তা জায়েয নয়। বরং সেগুলোকে পুঁতে ফেলা বা পুড়িয়ে ফেলা উত্তম।"
৩. বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুকুরে টয়লেটের নাপাকি মেশা স্পষ্ট অপবিত্রতা। সুতরাং সেখানে ফেলা নাজায়েয এবং গুনাহের কাজ।
আপনার জন্য উত্তম পদ্ধতি:
- সবচেয়ে ভালো হলো এসব কাগজ পুড়িয়ে ফেলা। আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে ফেললে সম্মান রক্ষা হয়।
- দ্বিতীয়ত, সম্পূর্ণ পাক ও পবিত্র মাটিতে পুঁতে ফেলা।
- তৃতীয়ত, বহমান নদীতে ফেলা (যেখানে পানি প্রবাহিত এবং অপবিত্রতা থাকে না) জায়েয, কিন্তু সেটি দূরবর্তী হওয়ায় আপনি যদি পুড়িয়ে ফেলতে পারেন, তবে সেটাই সহজ।
- ছোট গাং বা খাল কেমন—তা যদি নাপাকি মুক্ত, প্রবহমান এবং পাক হয়, তবে সেটাতেও ফেলা যাবে। কিন্তু আপনার বর্ণিত পুকুরের অবস্থা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
খরচের বিষয়ে:
গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে হলেও নদীতে ফেলা বা পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা কর্তব্য। তবে বাস্তবে যদি পুড়িয়ে ফেলা সম্ভব হয়, তবে সেটাই উত্তম ও সহজ।
সারসংক্ষেপ:
- আপনি যে পুকুরে ফেলার কথা ভাবছেন, তা নাপাকি মিশ্রিত। সেখানে ফেলা গুনাহ হবে, এমনকি শুধু নামাজের পানি বা পবিত্র বস্তু ফেলাও নাজায়েয।
- তাই যেকোনোভাবে এসব কাগজ পুড়িয়ে ফেলুন বা পাক মাটিতে পুঁতে ফেলুন। নদী বা খাল হলে নিশ্চিত হয়ে ফেলুন যে তা প্রবহমান ও পাক।
উল্লেখ্য:
এ বিষয়ে আরও জানতে ‘বেহেশতী জেওর’ (প্রথম খণ্ড, অধ্যায়: পবিত্রতা ও নামায পরিচ্ছেদ) এবং ‘ফাতাওয়া উসমানী’ (১/২১৫-২১৬) পড়তে পারেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র বস্তুর সম্মান রক্ষার তওফিক দান করুন। আমীন।