আল্লাহ পাক এবং রাসুল সাঃ এর লিখা নাম, কোথায় রাখলে সম্মান জনক হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২।বহমান নদী আমাদের থেকে অনেক দুরে ১০০ টাকার মত ভাড়া লাগে সিএনজি দিয়ে আরেকটা আছে ছোট গাং নাকি জানিনা ঐটা ৫০ টাকা ভাড়া। এখন আমি যদি এমন পুকুরে ফেলাই যেখানের পানি একপাশে পাক একপাশে টয়লেট নাপাকি বের হয় আরেক দিকে মানুষ গোসল করে যেদিকে কোনে কিছু নাই সে দিকে ফেললে গোনাহ হবে কি?
Answer
উত্তর প্রদান:
প্রশ্ন ১: আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর নাম সম্বলিত কাগজ বা লিখিত বস্তু যদি রাস্তায়-বাজারে পড়ে থাকে এবং তাতে ধুলোবালি লেগে থাকে, তাহলে সেগুলো উঠিয়ে সম্মানজনক স্থানে রাখা আবশ্যক। সম্মানজনক স্থান বলতে বোঝানো হয় এমন জায়গা যেখানে মানুষ পায়ে মাড়ায় না, অথবা যেখানে সাধারণত অপমানিত হয় না। যেমন:
- মসজিদের কোনো কোণে (যেখানে লোকজন হাঁটাচলা করে না) রাখা।
- কিতাবের তাকে বা কুরআন-হাদীসের বইয়ের মধ্যে সংরক্ষণ করা।
- পবিত্র জায়গায় (যেমন: পাহাড়ের চূড়ায়, গাছের ডালে উঁচু স্থানে) রাখা, যাতে কারো পায়ের নিচে না পড়ে।
- মাটিতে পুঁতে ফেলা (যেখানে লোকজন হাঁটে না) বা পুড়িয়ে ফেলা (যদি কাগজ আর পড়ার উপযোগী না হয়)।
হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:
- ফাতাওয়া আলমগীরী ও রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে, আল্লাহ-রাসূলের নাম সম্বলিত কাগজ সম্মানজনক স্থানে রাখা ওয়াজিব। যদি তা ফেলে দেওয়া হয় বা অপমানজনক স্থানে রাখা হয়, তাহলে গুনাহ হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৪৩৬; রদ্দুল মুহতার, ৬/৪২০)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৫)-এ আছে, এসব কাগজ পুড়িয়ে দেওয়া বা মাটিতে পুঁতে দেওয়া জায়েজ, তবে একান্ত প্রয়োজনে।
উত্তম পদ্ধতি:
কাগজটি ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে একটি পবিত্র স্থানে সংরক্ষণ করুন। অথবা পুড়িয়ে এর ছাই মাটিতে পুঁতে দিন।
প্রশ্ন ২: নাপাক বস্তু (যেমন: ময়লা কাগজ, নাপাক পানি) ফেলার জন্য বহমান নদী সর্বোত্তম স্থান, কারণ তা নাপাকি দূর করে এবং পানি প্রবাহিত থাকে। কিন্তু আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, নদী দূরে হওয়ায় ভাড়া বেশি (১০০ টাকা) এবং কাছের একটি ছোট খাল আছে (৫০ টাকা ভাড়া)।
পুকুরে ফেলা যাবে কি?
আপনি যে পুকুরের বর্ণনা দিয়েছেন, যার এক পাশ থেকে টয়লেটের নাপাক পানি আসছে এবং অন্য পাশে মানুষ গোসল করে—এমন পুকুরের পানি নাপাক বলে গণ্য হবে যদি নাপাকির প্রভাব (রং, গন্ধ, স্বাদ) পরিবর্তন হয়। তবে আপনি যদি পুকুরের যে পাশে কোনো নাপাকি নেই এবং সেখানে পানি পাক-পরিচ্ছন্ন থাকে, সেখানে নাপাক বস্তু ফেলা উচিত নয়, কারণ তা পানি নাপাক করে দিতে পারে এবং অন্য মানুষের ব্যবহারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:
- পানি যদি দুই কুল্লা (আনুমানিক ২১০ লিটার) বা তার বেশি হয় এবং নাপাকির প্রভাব না থাকে, তাহলে তা পাক। কিন্তু পুকুরের পানি যদি নাপাকির কারণে দূষিত হয়, তাহলে তা নাপাক। (আল-হিদায়া, ১/৩৪; রদ্দুল মুহতার, ১/২০৩)
- নাপাক বস্তু এমন পানিতে ফেলা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) যা মানবজাতির ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৫)
সহজ সমাধান:
- আপনি যদি ছোট খালে (গাং) নাপাক বস্তু ফেলতে পারেন, এবং তা বহমান পানি হয়, তাহলে সেটাই উত্তম। খালটি ছোট হলেও বহমান পানি নাপাকি দ্রুত দূর করে।
- যদি পুকুরে ফেলতেই হয়, তবে নিশ্চিত হোন যে পুকুরের পানি ব্যবহারকারী কেউ নেই বা পানি নাপাক হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে পাবলিক ব্যবহারের পানিতে নাপাক বস্তু ফেলা গুনাহের কাজ।
- বিকল্প হিসেবে নাপাক বস্তু পুড়িয়ে ফেলা বা মাটিতে পুঁতে ফেলা জায়েজ।
উপসংহার: নদীতে ভাড়া দিয়ে হলেও নাপাক বস্তু ফেলা উত্তম। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ছোট খালে ফেলুন। পুকুরে ফেলা থেকে বিরত থাকুন, বিশেষ করে যদি পুকুরের পানি মানুষের ব্যবহারে আসে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।