বিতির নামাজের নিয়ম কি?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
বিতর নামাজের নিয়ম
ভূমিকা
বিতর নামাজ ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। হাদিসে বিতর নামাজকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো বিতর ছাড়তেন না, এমনকি সফরেও না। হানাফি মাযহাব অনুযায়ী বিতর নামাজ ওয়াজিব।
বিতর নামাজের হুকুম (হানাফি মাযহাব)
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, বিতর নামাজ ওয়াজিব। এটি ফরজ নয়, তবে সুন্নত ও নফলের চেয়ে উচ্চ মর্যাদার। ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া গুনাহের কাজ, এবং বারবার ছেড়ে দিলে ফাসিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বিতর, তাই তোমরা বিতর পড়ো।" (সুনানে আবু দাউদ: ১৪১৬)
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"হে কুরআনের অধিকারীগণ! বিতর পড়ো, কারণ আল্লাহ বিতর (বেজোড়), তিনি বেজোড় সংখ্যা পছন্দ করেন।" (সুনানে আবু দাউদ: ১৪১৬, তিরমিজি: ৪৫৩)
বিতর নামাজের ওয়াক্ত
বিতর নামাজের সময় ইশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিক (ফজরের ওয়াক্ত শুরু) পর্যন্ত।
দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আল্লাহ ইশার পর থেকে ফজর পর্যন্ত বিতরের সময় নির্ধারণ করেছেন।" (তিরমিজি: ৪৩৮)
সর্বোত্তম সময়: রাতের শেষভাগে পড়া উত্তম, তবে ঘুমিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে ইশার পরপরই পড়ে নেওয়া উচিত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি বিতর পড়ার আশঙ্কা করে যে সে রাতের শেষে উঠতে পারবে না, সে যেন রাতের প্রথমভাগে বিতর পড়ে নেয়। আর যে রাতের শেষে উঠতে পারবে বলে আশা করে, সে যেন রাতের শেষভাগে বিতর পড়ে, কারণ রাতের শেষভাগের নামাজে ফেরেশতারা উপস্থিত হয় এবং তা উত্তম।" (মুসলিম: ৭৫৫)
বিতর নামাজের রাকাত সংখ্যা
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী বিতর নামাজ তিন রাকাত। এটি এক সালামে তিন রাকাত পড়তে হয়, দুই সালামে নয়।
দলিল: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ বিতর তিন রাকাত পড়তেন এবং শুধু শেষ রাকাতে বসে সালাম ফিরাতেন।" (নাসাঈ: ১৭১৮)
বিতর নামাজের নিয়ম (ধাপে ধাপে)
১. নিয়ত
মনে মনে নিয়ত করা: "আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য তিন রাকাত বিতর নামাজ ওয়াজিব আদায় করছি।" নিয়ত মুখে বলা জরুরি নয়, অন্তরের সংকল্পই যথেষ্ট।
২. প্রথম রাকাত
- তাকবিরে তাহরিমা বলে হাত বাঁধা
- সানা পড়া
- তাআউউজ ও তাসমিয়া
- সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা (যেমন সূরা কাফিরুন)
- রুকু ও সিজদা সম্পন্ন করা
৩. দ্বিতীয় রাকাত
- সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা (যেমন সূরা ইখলাস)
- রুকু ও সিজদা সম্পন্ন করা
৪. তৃতীয় রাকাত
- সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়া
- এরপর রুকুতে যাওয়ার আগে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে তাকবির বলা (তাকবিরে কুনুত)
- হাত বাঁধা এবং দুআয়ে কুনুত পড়া
- তারপর রুকু, সিজদা, তাশাহহুদ, দরুদ, দুআ মাসুরা ও সালাম
দুআয়ে কুনুত (আরবি ও বাংলা)
আরবি:
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ وَلَكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা ওয়া নু'মিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর, ওয়া নাশকুরুকা ওয়া লা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাই ইয়াফজুরুক। আল্লাহুম্মা ইইয়্যাকা না'বুদু ওয়া লাকা নুসাল্লি ওয়া নাসজুদু ওয়া লাকা নাস'আ ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিল কুফফারি মুলহিক।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই, তোমারই কাছে ক্ষমা চাই, তোমার প্রতি ঈমান আনি, তোমারই উপর ভরসা করি, তোমারই প্রশংসা করি, তোমার শোকর আদায় করি, তোমার অকৃতজ্ঞ হই না। আমরা সেই ব্যক্তিকে বর্জন করি যে তোমার অবাধ্য হয়। হে আল্লাহ! আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি ও সিজদা করি, তোমারই দিকে দৌড়াই ও পরিশ্রম করি, তোমার রহমতের আশা করি এবং তোমার আযাবকে ভয় করি। নিশ্চয়ই তোমার আযাব কাফিরদের জন্য নির্ধারিত।
দলিল: উবাই ইবনে কা'ব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বিতরে দুআয়ে কুনুত পড়তেন। (সুনানে নাসাঈ: ১৭৪৬)