হায়েজ শেষে গোসল না করে নামাজ পড়া যাবে কি? এবং ২২ বছর বয়সে বাবার সাথে ঘুমানো যাবে কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5562
Questioner: Champa0395
Question Asked: 16 Sep 2026, 09:00 PM
Reviewed & Published: 16 Sep 2026, 10:23 PM
Views: 23
Tokens: 5,093
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১.যেদিন আমার পরীক্ষা থাকে, সেদিন পরীক্ষা শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে সাধারণত সন্ধ্যা হয়ে যায়। যদি কোনো পরীক্ষার দিন দুপুরে, অর্থাৎ যোহরের সময় আমার মাসিক শেষ হয়ে যায়, তাহলে আমার ওপর গোসল ফরজ হবে।
কিন্তু আমি যেহেতু তখন কলেজের পরীক্ষার কেন্দ্রে থাকব, সেখানে আমার গোসল করার কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। আবার পরীক্ষা শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে যোহর, আসর এই দুই নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় মাগরিবের সময় চলে আসে, তাহলে আমার করণীয় কী?

২.আমি মেয়ে আমার বয়স ২২ আমি আমার আব্বা -মার সাথে ঘুমাই,..মা বেড়াতে গেলে আব্বার সাথে ঘুমাই আমার
রাতে একা ঘুমাতে ভয় করে..এটা কি জায়েজ?

Answer

প্রশ্নোত্তর: নামাজ, হায়েজ ও ঘুম সংক্রান্ত

প্রশ্ন ১: পরীক্ষার দিন মাসিক শেষ হলে গোসল ও নামাজের বিধান

উত্তর:

আপনার প্রশ্নের দুটি দিক রয়েছে — (ক) মাসিক শেষ হওয়ার পর গোসল ও নামাজের বিধান, এবং (খ) ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলে করণীয়।

(ক) মাসিক শেষ হলে গোসল ফরজ হওয়া ও নামাজ

হায়েজ (মাসিক) শেষ হয়ে গেলে গোসল করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ "তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) কাছে যেয়ো না যতক্ষণ তারা পবিত্র না হয়। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হয়ে যায় (গোসল করে)..." — (সূরা বাকারা: ২২২)

হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ হায়েজা মহিলাকে বলেছেন:

فَإِذَا أَقْبَلَتْ حَيْضَتُكِ فَدَعِي الصَّلَاةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي "যখন হায়েজ আসে, নামাজ ছেড়ে দাও; আর যখন চলে যায়, তখন রক্ত ধুয়ে গোসল করো এবং নামাজ পড়ো।" — (সহিহ বুখারি: ৩০৬, সহিহ মুসলিম: ৩৩৩)

গোসলের ফরজ ৩টি:

  1. কুলি করা (মুখের ভেতর পানি পৌঁছানো)
  2. নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো
  3. সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো (মাথার চুলের গোড়া পর্যন্ত)

— (আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত; রাদ্দুল মুহতার: ১/১৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৩)

(খ) ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলে করণীয়

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: হায়েজ শেষ হওয়ার পর গোসল করা পর্যন্ত নামাজ আদায় করা যাবে না। গোসল ছাড়া নামাজ শুদ্ধ হবে না। তবে গোসলের আগে অজু করে থাকলে এবং পরে গোসল করলে — শুধু গোসল করলেই যথেষ্ট, নতুন করে অজু লাগবে না (যদি অজু ভঙ্গ না হয়)।

এখন আপনার করণীয়:

১. যোহরের ওয়াক্তে মাসিক শেষ হলে: যোহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে যদি গোসল করা সম্ভব না হয়, তাহলে যোহরের নামাজ কাযা হয়ে যাবে। তবে আপনি যদি যোহরের ওয়াক্তের ভেতরেই গোসল করে নিতে পারেন (যেমন: কলেজে কোনো বাথরুম বা অন্য ব্যবস্থায়), তাহলে যোহর আদায় করে নিন।

২. আসরের ওয়াক্তে গোসল করা সম্ভব হলে: আসরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে গোসল করে আসর আদায় করে নিন।

৩. যদি যোহর ও আসর উভয় ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়: অর্থাৎ মাগরিবের সময় বাসায় পৌঁছান, তাহলে যোহর ও আসর উভয় নামাজ কাযা হিসেবে পড়বেন। কাযা নামাজ পড়া ফরজ।

৪. কাযা নামাজের নিয়ম: ২ রাকাত সুন্নাত (মুয়াক্কাদা) + যোহরের ৪ রাকাত ফরজ + ২ রাকাত সুন্নাত (মুয়াক্কাদা) — তবে কাযায় শুধু ফরজ ও ওয়াজিব (বিতর) পড়া জরুরি। সুন্নাতে মুয়াক্কাদাও কাযা পড়া উত্তম। আসরের ৪ রাকাত ফরজ কাযা পড়বেন।

৫. গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: পরীক্ষার দিন সকালে যদি মাসিক বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সকালেই গোসল করে ফেলুন এবং পরীক্ষার সময় প্যাড ব্যবহার করুন। এতে নামাজ কাযা হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন। আর যদি দুপুরে বন্ধ হয়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব গোসল করে নামাজ আদায় করুন — সম্ভব হলে কলেজের বাথরুমে হলেও।

নোট: হায়েজের সময় নামাজ মাফ, কিন্তু হায়েজ শেষ হওয়ার পর যে নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে বা চলমান আছে, তা আদায় করা ফরজ। ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলে কাযা পড়তে হবে।

— (রাদ্দুল মুহতার: ১/২৯৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১/২৮৯; ফাতাওয়া উসমানি: ১/১৭৯)


প্রশ্ন ২: ২২ বছর বয়সী মেয়ের বাবা-মায়ের সাথে ঘুমানো

উত্তর:

ইসলামে মাহরাম (যাদের সাথে পর্দা নেই) সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঘুমানোর বিধান নিম্নরূপ:

১. মায়ের সাথে ঘুমানো:

মেয়ের জন্য মায়ের সাথে একই বিছানায় বা একই ঘরে ঘুমানো জায়েজ। এতে কোনো সমস্যা নেই। মা-মেয়ের মধ্যে পর্দার বিধান নেই।

২. বাবার সাথে ঘুমানো:

বাবা মেয়ের মাহরাম। তবে ২২ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের জন্য বাবার সাথে একই বিছানায় বা একই কম্বলের নিচে ঘুমানো জায়েজ নয়। কারণ:

  • প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বাবা-মেয়ের মধ্যে শরীয়তের পর্দার বিধান কিছুটা হলেও খেয়াল রাখা কর্তব্য।
  • ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন: প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ও বাবার মধ্যে আলাদা বিছানা বা আলাদা কম্বল ব্যবহার করা উচিত।
  • একই ঘরে ঘুমানো যাবে, কিন্তু আলাদা বিছানায়

দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ "মুমিন নারীদের বলো, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখবে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে।" — (সূরা নূর: ৩১)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ، وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ "তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের আদেশ দাও, দশ বছর বয়সে (না পড়লে) প্রহার করো, এবং তাদের শোয়ার স্থান আলাদা করে দাও।" — (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৫)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বয়স বাড়ার সাথে সাথে শোয়ার স্থান আলাদা করার নির্দেশ রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ক্ষেত্রে এটি আরও জরুরি।

৩. রাতে একা ঘুমাতে ভয় করলে করণীয়:

  • একই ঘরে আলাদা বিছানায় ঘুমান — এটি জায়েজ ও নিরাপদ।
  • ঘরের দরজা খোলা রাখুন বা লাইট জ্বালিয়ে রাখুন।
  • প্রয়োজনে মায়ের সাথে ঘুমান (মা বাড়িতে থাকলে)।
  • মা বেড়াতে গেলে বাবার সাথে একই ঘরে আলাদা বিছানায় ঘুমাতে পারেন — এতে শরীয়তগত কোনো বাধা নেই।
  • তবে একই বিছানায় বা একই কম্বলের নিচে ঘুমানো থেকে বিরত থাকুন।

সারসংক্ষেপ: | বিষয় | বিধান | |------|--------| | মায়ের সাথে একই বিছানায় ঘুমানো | জায়েজ | | বাবার সাথে একই ঘরে আলাদা বিছানায় | জায়েজ | | বাবার সাথে একই বিছানায়/একই কম্বলে | জায়েজ নয় (প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের জন্য) | | একা ঘুমাতে ভয় করলে | আলাদা বিছানায় বাবার সাথে একই ঘরে ঘুমানো যাবে |

— (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩২৮; বাহিশতী জেওর: ১/২৪৫; ফাতাওয়া উসমানি: ২/৩৩১)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.