মসজিদ ওয়াকফ কিভাবে করবো? পদ্ধতি কি? বিস্তারিত জানাবেন।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 504
Questioner: Luthfa sharmin Sharmin
Question Asked: 21 May 2026, 11:02 PM
Reviewed & Published: 21 May 2026, 11:09 PM
Views: 28
Tokens: 2,693
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একটা এলাকায় প্রায় ৪০ জন ফ্যামিলি আছে। কবরস্থানের জায়গা নাই। আমার একটা খাস জায়গা আছে। মসজিদ এবং কবর স্থান দিতে চাচ্ছি। কিভাবে দেবো এবং ওয়াকফা লিখা যাবে কিনা?

Answer

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ দেওয়া হলো:

আপনার জমিটি মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য ওয়াকফ করা জায়েজ এবং অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। ইসলামি শরিয়তে ওয়াকফের অর্থ হলো কোনো সম্পদকে তার মূলসহ স্থায়ীভাবে আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেওয়া, যাতে তার উপকারিতা চলতে থাকে এবং তা বিক্রি, দান বা উত্তরাধিকারে বণ্টন করা না যায়।

কিভাবে ওয়াকফ করবেন?

ওয়াকফের জন্য নিম্নলিখিত শর্ত ও পদ্ধতি অনুসরণ করুন:

১. ওয়াকফের ইচ্ছা প্রকাশ: আপনি আপনার জমিটি মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য ওয়াকফ করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করুন। ওয়াকফের জন্য নির্দিষ্ট কোনো শব্দ আবশ্যক নয়, তবে স্পষ্টভাবে বলে দিন: "আমি আমার এই জমিটি মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য ওয়াকফ করলাম।" অথবা লিখিত দলিল তৈরি করে প্রকাশ করুন।

২. লিখিত দলিল (ওয়াকফনামা): ওয়াকফের একটি লিখিত দলিল তৈরি করা উত্তম। এতে জমির বিবরণ, সীমানা, ওয়াকফের উদ্দেশ্য (মসজিদ ও কবরস্থান) এবং শর্তাবলি উল্লেখ থাকবে। এটি স্থানীয় কাজী, ইমাম বা মাদ্রাসার শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা যেতে পারে।

৩. সাক্ষী রাখা: ওয়াকফের সাক্ষী হিসেবে কমপক্ষে দুইজন মুসলিম পুরুষ বা এক পুরুষ ও দুই নারী রাখা জরুরি। (সহীহ মুসলিম: ১৬৬৪)

৪. ওয়াকফ সম্পাদনের পর ক্রিয়াবাস্তবায়ন: ওয়াকফ হওয়ার পর আপনার জমি আর আপনার মালিকানায় থাকবে না। আপনি এর কোনো প্রকার হস্তান্তর করতে পারবেন না। মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য জমি ব্যবহারের ব্যবস্থা করুন।

ওয়াকফের শর্ত ও বিধান:

  • শর্ত: ওয়াকফকারী (আপনি) অবশ্যই সুস্থ মস্তিষ্কের, প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বেচ্ছায় ওয়াকফ করছেন। (রদ্দুল মুহতার: ৪/৩৭৮)
  • স্থায়িত্ব: ওয়াকফ স্থায়ী সম্পত্তি। এটি বিক্রি, দান বা উত্তরাধিকারে বণ্টন করা যাবে না। (সহীহ বুখারী: ২৭৩৭)
  • উদ্দিষ্ট কাজের সীমাবদ্ধতা: মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য ওয়াকফ করলে তা শুধু এসব কাজেই ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা জায়েজ নয়।

হানাফি ফিকহের রেফারেন্স:

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ) ও তার শিষ্যদের মতে, ওয়াকফের জন্য শুধু মৌখিক ঘোষণাই যথেষ্ট, তবে লিখিত দলিল তৈরি উত্তম। (আল-হিদায়া: ৩/১৪২)
  • ইবনে আবেদিন (রহ) রদ্দুল মুহতারে উল্লেখ করেন: "ওয়াকফকারী যদি ওয়াকফ ঘোষণা করে এবং তার দখল থেকে বের করে দেয়, তাহলে ওয়াকফ সহীহ হয়।" (রদ্দুল মুহতার: ৪/৩৮০)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় (৪/৩৯৮) বলা হয়েছে: "মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য জমি ওয়াকফ করা জায়েজ এবং এর সওয়াব চিরস্থায়ী।"

মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য পৃথক ব্যবস্থা:

একই জমিতে মসজিদ ও কবরস্থান উভয় স্থান দেওয়া সম্ভব। তবে জমির ভাগ নির্ধারণ করে দিন:

  • এক অংশ মসজিদ নির্মাণের জন্য,
  • আরেক অংশ কবরস্থানের জন্য।

অথবা বর্তমানে জরুরি প্রয়োজনে পুরো জমি প্রথমে কবরস্থান হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন, পরে মসজিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করবেন।

সতর্কতা:

ওয়াকফ করার পর আপনাকে এর তত্ত্বাবধান করতে হবে না। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করতে পারেন, যারা এর দেখভাল করবে।

সারসংক্ষেপ: আপনার জমি ওয়াকফ করা জায়েজ ও সওয়াবের কাজ। লিখিত দলিল তৈরি করে সাক্ষীর উপস্থিতিতে ওয়াকফের ঘোষণা দিন। একই জমি মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য নির্ধারণ করতে কোনো বাধা নেই। ওয়াকফের পর জমি আপনার মালিকানা থেকে বেরিয়ে যাবে, তাই একবার করার পর তা স্থায়ীভাবে আল্লাহর পথে দান গণ্য হবে।

আল্লাহ তাআলা আপনার এই মহৎ কাজকে কবুল করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.