শরীয়াহ আইন নিয়ে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 417
Questioner: Saiful Islam
Question Asked: 20 May 2026, 04:25 PM
Reviewed & Published: 20 May 2026, 04:54 PM
Views: 13
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।কেউ যদি শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন না হোক চায় কারন গোনাহ অপরাধ করে বাচতে পারবে তার ইমান চলে যাবে কি?

২।কেউ যদি এই চিন্তা ভাবনা করে বা মনে করে শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন হয়নাই ভালো হইছে কারন প্রচিলিত আইনে গোনাহ করে অপরাধ করলে ছাড় পাওয়া যাবে তার ইমান চলে যাবে কি?

৩। শরীয়াহ আইন নিয়ে ১ ও ২ প্রশ্নের বেপার গুলো মনে বা ভিতরে আসে ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছায় জানিনা তাহলে ইমান চলে যাবে কি?

Answer

بسم اللہ الرحمن الرحیم

উত্তর:

আপনার প্রশ্নগুলো ইসলামী শরীয়াহ আইনের প্রতি মনোভাব ও ইমানের সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে কুরআন, হাদিস এবং হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহের আলোকে উত্তর প্রদান করা হলো:

প্রশ্ন ১ ও ২: কেউ যদি শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন না হওয়াকে পছন্দ করে বা মনে করে যে তা ভালো হয়েছে, কারণ প্রচলিত আইনে গুনাহ করলে শাস্তি থেকে বাঁচা যাবে, তবে তার ইমান চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এটি আল্লাহর বিধানকে অপছন্দ করার শামিল, যা কুফরির পর্যায়ে পড়ে।

  • কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: "যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করে, তার থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।" (সূরা আলে ইমরান: ৮৫)
  • হাদিসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানকে অপছন্দ করে, সে কাফির।" (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৫৭)
  • হানাফি ফিকহের কিতাব 'রাদ্দুল মুহতার' (কিতাবুল ঈমান) এ উল্লেখ আছে: যদি কেউ আল্লাহর কোনো হুকুমকে হালাল মনে করে অথবা হারামকে হালাল মনে করে, কিংবা সেগুলোকে অপছন্দ করে, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। (রাদ্দুল মুহতার, ৪/২৪০)
  • ফাতাওয়া উসমানীতে (২/৫৪) বর্ণিত: যদি কেউ মনে করে যে ইসলামী শরীয়াহর কোনো বিধান পরিবর্তন করা ভালো, তাহলে তা ইমানের পরিপন্থি।

সুতরাং, প্রথম দুই প্রশ্নের বক্তব্য যদি কারো অন্তরে ইচ্ছাকৃতভাবে স্থান পায় এবং সে তা পছন্দ করে, তাহলে তার ইমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাকে অবিলম্বে তওবা করতে হবে এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাক্ষ্য পুনরায় উচ্চারণ করতে হবে।

প্রশ্ন ৩: যদি কোনো ব্যক্তির মনে বা ভিতরে এসব চিন্তা অনিচ্ছাকৃতভাবে আসে এবং সে নিজেও জানেন না যে তা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত, কিন্তু তিনি এসব চিন্তাকে অপছন্দ করেন এবং অন্তরে ঘৃণা করেন, তাহলে তার ইমান নষ্ট হবে না। হানাফি ফিকহে বলা হয়েছে: "যে ব্যক্তির অন্তরে কুফরী চিন্তা আসে, কিন্তু সে তা পছন্দ করে না বরং ঘৃণা করে, তাহলে তার ইমান অক্ষুণ্ণ থাকে।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/২৯৩; শামী, ১/৪২)

তবে যদি এসব চিন্তা ধারণ করতে থাকেন এবং তার প্রতি উদাসীন হন, তাহলে কর্তব্য হলো আলেমদের কাছে গিয়ে মাসআলা জানা এবং তওবা করা।

সংক্ষেপে:

  • প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্ন: ইচ্ছাকৃতভাবে শরীয়াহ আইনকে অপছন্দ করা বা তার অবাস্তবায়নকে ভালো মনে করা ইমান নষ্ট করে। অবিলম্বে তওবা ফরজ।
  • তৃতীয় প্রশ্ন: অনিচ্ছাকৃত এবং অপছন্দনীয় চিন্তা ইমান নষ্ট করে না। তবে একে গুরুত্ব না দিয়ে দূর করার চেষ্টা করতে হবে।

সতর্কতা: ইসলামী শরীয়াহর কোনো বিধানকে হেয় বা অপছন্দ করা অত্যন্ত সতর্কতামূলক বিষয়। যেকোনো মুসলিমের উচিত আল্লাহর বিধানকে হৃদয়ে ভালোবাসা এবং তা বাস্তবায়নের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা।

রেফারেন্সসমূহ:

  • سورة آل عمران: 85
  • مشكاة المصابيح، كتاب الإيمان، حديث: 57
  • رد المحتار، كتاب الإيمان، 4/240
  • فتاویٰ عثمانی، 2/54
  • فتاویٰ ہندیہ، 2/293
  • شامی، 1/42

(والله أعلم بالصواب)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.