গোপনে বিয়ে করার পর যদি কেউ বলে, "বিয়ে করে আমি ভুল করি নি" তাহলে কি ঈমানে সমস্যা হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্নটি স্পষ্ট নয় বলে মনে হচ্ছে। তবে আমি আপনার প্রশ্নের মূল বক্তব্য অনুযায়ী উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।
প্রশ্নের সারমর্ম:
একজন মহিলা পরিবারের অজান্তে (সম্ভবত প্রেমের সম্পর্ক করে) বিয়ে করেছেন। পরিবার এবং বন্ধুরা তাকে বারবার বকাঝকা করছে। এ অবস্থায় তিনি বলছেন: "আমি বিয়ে করে কোনো ভুল করিনি, আমার কোনো অনুশোচনা নেই।" এমনকি বন্ধুদের কাছে বোঝানোর সময় তিনি বলেন: "বিয়ের পর আমি অনেক কষ্ট সহ্য করছি।" প্রশ্ন হলো:
১) এসব কথা বলার কারণে কি তার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
২) তিনি যদি জানেন যে প্রেম করা হারাম, কিন্তু তিনি বলেন না যে প্রেম হালাল— তাহলে কি কুফরি হবে?
৩) পরিবারকে না জানিয়ে (গোপনে) বিয়ে করায় কি তার ঈমান বা বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা হবে?
উত্তর:
১) কুফরি বা ঈমানের সমস্যা সম্পর্কে:
ইসলামের দৃষ্টিতে, কোনো ব্যক্তি যদি হারাম কাজকে হালাল মনে করে বা আল্লাহ ও রাসূলের স্পষ্ট নির্দেশকে অস্বীকার করে, তাহলে তা কুফরি হতে পারে। কিন্তু এখানে উক্ত মহিলা বলছেন: "আমি বিয়ে করে ভুল করিনি, কোনো অনুশোচনা নেই।"
- বিয়ে করা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ ও প্রশংসনীয় কাজ। তিনি পরিবারের অজান্তে বিয়ে করলেও বিয়ে নিজে কোনো হারাম কাজ নয়। ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) ও তাঁর শিষ্যদের মতে, পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে বিয়ে সহীহ হয়, তবে তা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হতে পারে। (রদ্দুল মুহতার, ৩/১২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩০২)
- তিনি যদি বলেন: "আমি প্রেম করেছি এবং প্রেম হালাল" — তাহলে সেটা কুফরি হতে পারত। কিন্তু তিনি তা বলেননি। তিনি শুধু নিজের বিয়েকে ভুল মনে করছেন না। এতে ঈমানের সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই। তবে পরিবারের অজান্তে বিয়ে করায় তার উচিত তওবা করা এবং পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করা। কিন্তু এটি কুফরি নয়।
২) "প্রেম হারাম, কিন্তু আমি তা বলছি না" — এটি কুফরি নয়:
যদি তিনি জানেন যে প্রেম করা হারাম, এবং তিনি তা স্বীকার করছেন, বরং তিনি শুধু নিজের বিয়েকে বৈধ বলছেন— তাহলে এতে আকীদার কোনো ক্রটি হয় না। কেননা বিয়ে একটি বৈধ কাজ। তিনি পরিবারের অজান্তে বিয়ে করে অন্যায় করলেও তা কুফরির পর্যায়ে যায় না।
৩) "বিয়ের পর কষ্ট সহ্য করছি" বলায় দোষ নেই:
এটি সম্পূর্ণ সত্য কথা। বিয়ের পর কষ্ট হলে তা বলা জায়েজ, যদি গীবত বা অন্যায় উদ্দেশ্য না থাকে। এমন কথা বলায় ঈমানের কোনো সমস্যা নেই।
৪) পরিবারকে না জানিয়ে (গোপনে) বিয়ে করায় বৈবাহিক অবস্থা:
ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজে নিজে বিয়ে করতে পারেন, তবে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে তা মাকরূহ হলেও সহীহ। ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতে, এ ধরনের বিয়ে বৈধ। তবে অধিকাংশ ফকীহের মতে, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করলে তা নাজায়েয হতে পারে। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, যেহেতু বিয়ে সহীহ, তাই বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ থাকবে, তালাক দিতে হবে না। তবে নারীর উচিত পরিবারের সঙ্গে মীমাংসা করে বিয়ে পুনরায় ঘোষণা করা বা মা-বাবার সম্মতি নেওয়া। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৫২৫; রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৮)
উপসংহার:
- উক্ত মহিলার কথায় কুফরি হয়নি এবং ঈমানে কোনো সমস্যা হয়নি।
- তিনি যদি বলেন যে "প্রেম হালাল" বা "হারামকে হালাল জানি" — তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু তিনি তা বলেননি।
- গোপনে বিয়ে করায় বিয়ে সহীহ হয়েছে, তবে পরিবারকে জানানো ও তাদের সম্মান রক্ষা করা উচিত।
- তার উচিত তওবা করা এবং পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। আল্লাহ বেশি ক্ষমাশীল।
সতর্কীকরণ:
কখনো কখনো কষ্টের কারণে বা জেদের বশবর্তী হয়ে কেউ এমন কথা বলতে পারেন যা কুফরি পর্যায়ে চলে যেতে পারে। যেমন: "আল্লাহর বিধান মানি না" বা "হারামকে হালাল বলি" ইত্যাদি। তাই মুখের কথায় সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমান বক্তব্যে তা দেখা যাচ্ছে না।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া উসমানী, ২/৫২৫
- রদ্দুল মুহতার, ৩/১২৮, ৩/৫৮
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩০২
- বেহেশতী জেওর, ২/২২