৩ মাসের ভ্রূণ পেটের ভিতর মারা গেলে নামাজ এর নিয়ম কি

Salah-Prayer · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 1296
Questioner: Afra Aroya
Question Asked: 06 Jun 2026, 03:39 PM
Reviewed & Published: 06 Jun 2026, 03:46 PM
Views: 24
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ। ৩ মাসের ভ্রূণ পেটের ভিতর মারা গেলে নামাজ এর নিয়ম কি। এটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি ইন শা আল্লাহ। ভিতরে ভ্রূণের কিছু অংশ আছে এটা বের করার জন্য ওষুধ চলছে।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় (৩ মাসের ভ্রূণ পেটের ভিতরে মৃত) মহিলার যে রক্তপাত হচ্ছে, তা নিফাস (প্রসবোত্তর রক্ত) নয় বরং ইস্তিহাদা (অস্বাভাবিক/দীর্ঘস্থায়ী রক্ত) হিসাবে গণ্য হবে। তাই তিনি নামাজ পড়তে থাকবেন, রোজা রাখবেন এবং অন্যান্য ইবাদত করবেন।

দলিল ও ফকিহদের মতামত

১. ভ্রূণের আকৃতি ও নিফাসের শর্ত:

  • নবী ﷺ বলেছেন:

    “নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি মায়ের পেটে চল্লিশ দিন নুতফা (বীর্য) হিসেবে, তারপর চল্লিশ দিন আলাকা (জমাট রক্ত) হিসেবে, তারপর চল্লিশ দিন মুদগাহ (গোশতপিণ্ড) হিসেবে থাকে। অতঃপর ফেরেশতা প্রেরণ করা হয় এবং তাতে রূহ ফুঁক দেওয়া হয়…” (সহীহ বুখারী: ৩৩৩৪, সহীহ মুসলিম: ২৬৪৩)

  • ৩ মাস (প্রায় ১২ সপ্তাহ) ভ্রূণের বয়স ১২০ দিনের কম হওয়ায় এখনও রূহ ফুঁকানো হয়নি। অধিকাংশ সালাফি ফকিহের মতে, নিফাস তখনই হয় যখন ভ্রূণ মানবাকৃতি ধারণ করে বা কমপক্ষে ৮০ দিন অতিক্রম করে। ৩ মাসে সাধারণত হাত-পা ইত্যাদি স্পষ্ট না থাকায় এটি নিফাসের অন্তর্ভুক্ত নয়।

২. ইমাম ও শাইখদের ফতোয়া:

  • শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

    “যদি মহিলা এমন ভ্রূণ গর্ভপাত করে যা মানবাকৃতি ধারণ করেনি, তাহলে তার রক্ত নিফাস নয়; বরং ইস্তিহাদা। সে নামাজ পড়বে, রোজা রাখবে এবং সহবাস করা তার জন্য হালাল।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া: ২২/২৫৫)

  • শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন:

    “যে মহিলা এমন সন্তান প্রসব করে যার হাত-পা ইত্যাদি স্পষ্ট নয়, তার রক্ত নিফাস নয়; বরং ইস্তিহাদা। সে ওজু করে নামাজ পড়বে।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবন বায: ১০/২২২)

  • শাইখ আলবানী (রহ.) বলেন:

    “নিফাসের রক্ত শুধুমাত্র সেই শিশুর প্রসবের পর হয় যা মানবাকৃতি ধারণ করেছে। এর আগে যা কিছু আসে তা ইস্তিহাদা।” (সিলসিলা সহীহা: ৩/৩৩১)

  • শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন:

    “যদি ভ্রূণ ৮০ দিনের কম হয় এবং মানবাকৃতি না থাকে, তবে রক্ত ইস্তিহাদা। মহিলা নামাজ পড়বে, রোজা রাখবে এবং স্বামীর সাথে মেলামেশা করতে পারবে।” (আশ-শারহুল মুমতি‘: ১/৪৪২)

  • শাইখ সালেহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন:

    “যে মহিলার গর্ভপাত হয়েছে এবং ভ্রূণ এখনও মানবাকৃতি ধারণ করেনি, তার রক্ত নিফাস নয়। সে নামাজ ও রোজা করবে।” (আল-মুনতাকা শারহ আল-মুহাজ্জাব: ২/১১২)

বর্তমান অবস্থার বিধান

  • এখন ওষুধ চলছে এবং ভ্রূণের কিছু অংশ ভিতরে আছে। যতক্ষণ রক্তপাত চলছে, ততক্ষণ তাকে ইস্তিহাদার রোগিণী হিসাবে গণ্য হবে
  • নামাজ পড়ার পদ্ধতি:
    ১. প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য নতুন ওজু করবেন।
    ২. কাপড়ে রক্ত লাগলে তা ধুয়ে নেবেন বা পরিষ্কার কাপড়ে নামাজ পড়বেন।
    ৩. রক্ত বন্ধ হওয়া পর্যন্ত এভাবে নামাজ পড়তে থাকবেন।
    ৪. যদি রক্তের পরিমাণ কম থাকে (যেমন: স্বাভাবিক ইস্তিহাদা), তবে তিনি মাসয়ালা অনুযায়ী ওজু করে একাধিক নামাজও পড়তে পারেন – তবে উত্তম হলো নতুন করে ওজু করা।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • নামাজ ছাড়া যাবে না। নিফাস না হলে নামাজ বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই।
  • যদি ভ্রূণের মানবাকৃতি স্পষ্ট হয় (যেমন: হাত-পা চোখে দেখা যায়), তবে কিছু আলিম নিফাস গণ্য করেছেন। কিন্তু আপনার বর্ণনা অনুযায়ী ৩ মাসের ভ্রূণ সাধারণত তেমন অবস্থায় পৌঁছায় না।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সম্পূর্ণ অংশ বের হওয়া পর্যন্ত ইস্তিহাদার নিয়ম মেনে চলুন।

সারসংক্ষেপ: ৩ মাসের ভ্রূণ মারা গেলে যে রক্তপাত হয় তা নিফাস নয়। আপনি স্বাভাবিক নামাজ পড়বেন, ওজু করে নামাজ আদায় করবেন এবং ইবাদত চালিয়ে যাবেন। ইনশাআল্লাহ।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.