ঋণ করে হলেও ছেলের পক্ষ থেকে কুরবানী করা
Qurbani-Slaughtering · Ahle Hadith / Salafi
Question
মা চাচ্ছে যেভাবেই হোক ঋণ করে হলেও কুরবানী দিতে। এখন ছেলের করনিয় কী?
Answer
উত্তর:
প্রথমেই জানতে হবে, কুরবানী দেওয়া সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব (অর্থাৎ আবশ্যক) — এটি ইমাম আহমাদ, ইমাম আবু হানিফা এবং সালাফি আলেমদের (শায়খ ইবনে বায, শায়খ আলবানী, শায়খ উসাইমীন, শায়খ ফাওযান) শক্তিশালী মত। কিন্তু সামর্থ্য বলতে বোঝায়, নিজের ও পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, ঋণ পরিশোধ ইত্যাদি) পূরণের পর অতিরিক্ত অর্থ থাকা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি কুরবানী দেওয়ার সামর্থ্য রাখে অথচ কুরবানী দেয় না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছে না আসে।"
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩১২৩; সহীহ ইবনে মাজাহ, আলবানী)
তবে এটি তখনই ওয়াজিব, যখন ব্যক্তি নিজের অর্থ থেকে দিতে সক্ষম। ধার করে কুরবানী দেওয়া শরীয়তসম্মত নয়, বরং তা নিষিদ্ধ না হলেও অন্তত উচিত নয়। কারণ ইসলাম কখনো বান্দাকে এমন কাজে বাধ্য করে না যা তার সামর্থ্যের বাইরে। আল্লাহ বলেন:
"আল্লাহ কারো ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।" (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)
ধার করে কুরবানী দেওয়ার বিধান:
প্রখ্যাত সালাফি আলেমগণ এ ব্যাপারে স্পষ্ট মত দিয়েছেন:
শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন (রহ.) বলেছেন:
"কুরবানীর জন্য ঋণ নেওয়া জায়েয নয়, কারণ কুরবানী ওয়াজিব হয় শুধুমাত্র সেই ব্যক্তির ওপর যে সামর্থ্য রাখে। ঋণ নেওয়ার অর্থ হলো নিজের ওপর বোঝা চাপানো, যা শরীআত সমর্থন করে না।"
(ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ, ২/৩২৪)
শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে বায (রহ.) বলেছেন:
"যার কুরবানী দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। ধার করে কুরবানী দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং এটি অনুচিত।"
(মাজমু ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৮/৩৮)
শায়খ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন:
"ধার করে কুরবানী দেওয়া জায়েয নয়, কারণ এটি অপচয় এবং নিজেকে অপ্রয়োজনীয় কষ্টে ফেলা। কুরবানী তো কেবল তার জন্যই বিধিবদ্ধ, যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে।"
(আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওযান, ১০/২২৯)
তাকে নম্রভাবে বুঝানো উচিত যে:
"মা, আল্লাহ আমার সামর্থ্য জানেন। আমি ধার করে কুরবানী দিলে তা অহেতুক ঋণের বোঝা হবে, যা ইসলাম পছন্দ করে না। বরং আমি অন্যান্য নেক কাজ করব, যেমন বেশি বেশি দান-সদকা, রোযা, ইবাদত। আপনার জন্যও দোয়া করব।"
যদি মায়ের নিজের সামর্থ্য থাকে, তাহলে তিনি নিজে কুরবানী করতে পারেন। কিন্তু ছেলে যদি অক্ষম হয়, তাহলে তার ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
ছেলের করণীয় (সারসংক্ষেপ):
- নিজের সামর্থ্য যাচাই করুন: আপনার কাছে কুরবানী দেওয়ার মতো অতিরিক্ত অর্থ নেই? তাহলে আপনার ওপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।
- ধার করবেন না: কারণ ধার করে কুরবানী দেওয়া ঠিক নয় এবং এটি অপচয় ও অযথা কষ্টের কারণ।
- মাকে বুঝান: নম্র ও দয়ালু ভাষায় ইসলামী দলিলসহ বোঝান যে আল্লাহ তাকে সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।
- অন্য নেক আমল করুন: কুরবানী না দিলে আপনি বেশি বেশি সদকা, রোযা, জিকির ইত্যাদির মাধ্যমে নেকি অর্জন করতে পারেন।
- মায়ের প্রতি ভালোবাসা বজায় রাখুন: অস্বীকৃতি জানালেও তাকে সম্মান করুন এবং তার জন্য দোয়া করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।