মিসড মিসক্যারেজ এর পরে স্বলাতের বিধান কি?

Salah-Prayer · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 2815
Questioner: Vikarunnessa Lira
Question Asked: 17 Jul 2026, 06:58 PM
Reviewed & Published: 17 Jul 2026, 08:04 PM
Views: 51
Tokens: 5,619
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আমার মিসড মিসক্যারেজ হয়।১৪ দিন হালকা ব্লিডিং ছিলো।পরে ৭ দিন হেভি ফ্লো ছিলো।৭ দিন পরে আবার হালকা ব্লিডিং হচ্ছে ৩ দিন ধরে যা কখনো বন্ধ হচ্ছে কখনো আবার হালকা দেখা যাচ্ছে।এমতাবস্থায় আমার স্বলাত আদায়ের বিধান কি? দয়া করে জানাবেন।
জাযাকুমুল্লাহু খইরান ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখিরহ

Answer

উত্তর:
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রথমেই জেনে নিন, মিসড মিসক্যারেজ (Missed Miscarriage) সাধারণত গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে (১২ সপ্তাহের আগে) ঘটে, যখন ভ্রূণ মারা যায় কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে বের হয় না। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  • ১৪ দিন হালকা ব্লিডিং
  • ৭ দিন হেভি ফ্লো
  • বর্তমানে আবার ৩ দিন ধরে হালকা ব্লিডিং (কখনো বন্ধ, কখনো শুরু)

এখন রক্তের প্রকৃতি নির্ধারণের জন্য দেখতে হবে:

১.

যদি মিসক্যারেজ ৮০ দিন (প্রায় ১২ সপ্তাহ) এর পরে হয় (অর্থাৎ ভ্রূণের আকৃতি স্পষ্ট হয়েছিল):
তবে এই রক্ত নিফাস (প্রসবোত্তর রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে।

  • নিফাসের কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম সময় নেই, তবে সর্বোচ্চ ৪০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। (ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়িম, ইবনে উসাইমীন, আলবানী)
  • বিধান: নিফাসের রক্ত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আপনি সালাত, রোযা ও কুরআন স্পর্শ থেকে বিরত থাকবেন। রক্ত বন্ধ হলে গোসল করে পুনরায় সালাত শুরু করবেন।
  • হালকা ব্লিডিং বন্ধ-চালু থাকলে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবেন, যতক্ষণ না পুরোপুরি বন্ধ না হয়। যদি ৪০ দিন পূর্ণ হবার পরও রক্ত চলতে থাকে, তবে তা ইস্তিহাদা (অসুস্থতাজনিত রক্ত) ধরা হবে এবং তখন সালাত আদায় করবেন।

২. যদি মিসক্যারেজ ৮০ দিনের আগে হয় (যেমন ১০-১২ সপ্তাহের মধ্যে, যা মিসড মিসক্যারেজের ক্ষেত্রে বেশি সাধারণ):

তবে এই রক্ত ইস্তিহাদা (অসুস্থতাজনিত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে।

  • বিধান: আপনি নিয়মিত সালাত আদায় করবেন। প্রতিটি ফরজ সালাতের জন্য নতুন অজু করে নেবেন। রক্ত আসলেও নামাজ পড়বেন, রোযা রাখতে পারবেন, কুরআন তিলাওয়াত করতে পারবেন।
  • হাদীস:
    নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইস্তিহাদায় আক্রান্ত নারীকে বলেছেন:

    "এটি রক্তের শিরা থেকে আসে, হায়েয নয়। তুমি যখন হায়েয শুরু হবে তখন নামাজ ছেড়ে দেবে, আর যখন শেষ হবে তখন গোসল করে নামাজ পড়বে।" (বুখারী: ৩০৬, মুসলিম: ৩৩৩)

আপনার বর্তমান অবস্থার জন্য নির্দিষ্ট সমাধান:

  • যদি নিশ্চিত না হন যে মিসক্যারেজ কত সপ্তাহে হয়েছিল, তবে অধিকাংশ সালাফি আলিম (ইবনে বায, উসাইমীন, ফাওযান) বলেছেন: স্বাভাবিক গর্ভপাতের রক্ত ইস্তিহাদা, যদি না ভ্রূণ স্পষ্ট আকৃতি ধারণ করে থাকে (৮০ দিনের বেশি)
  • প্র্যাকটিক্যাল পরামর্শ:
    ১. আপনার ডাক্তারের কাছে ভ্রূণের বয়স (গর্ভকালীন সপ্তাহ) জেনে নিন।
    ২. যদি ১২ সপ্তাহের কম হয়, তবে ইস্তিহাদা ধরে নিয়মিত সালাত পড়ুন।
    ৩. রক্ত আসলেও নামাজ পড়বেন, শুধু অজু করে নেবেন প্রতি নামাজের জন্য।

মহান আলিমগণের ফতোয়া:

  • শাইখ ইবনে বায (রহ.) বলেছেন: “গর্ভপাতের পর রক্ত নিফাস হবে যদি ভ্রূণ আকৃতি ধারণ করে থাকে; অন্যথায় তা ইস্তিহাদা।” (মাজমু’ ফাতাওয়া: ১০/২২৪)
  • শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেছেন: “ইস্তিহাদার ক্ষেত্রে সালাত ও রোযা বাধ্যতামূলক; রক্ত নামাজের জন্য বাধা নয়।” (লিকা আল-বাব আল-মাফতুহ: ১১/২৫)
  • শাইখ সালেহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেছেন: “নিফাসের সর্বোচ্চকাল ৪০ দিন; এর বেশি হলে ইস্তিহাদা ধরা হবে। কিন্তু নিফাসের কোনো ন্যূনতম সময় নেই।” (আল-মুনতাকা: ১/১৫২)

সারসংক্ষেপ:

  • মিসক্যারেজ যদি ১২ সপ্তাহের আগে হয়: নিয়মিত সালাত পড়ুন (ইস্তিহাদার বিধান)।
  • ১২ সপ্তাহের পরে হলে: রক্ত বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সালাত ত্যাগ করুন (নিফাসের বিধান), অতঃপর গোসল করে পুনরায় শুরু করুন।

আল্লাহই আপনাকে উত্তম পথ দেখান।
(জাযাকুমুল্লাহু খইরান)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.