বিয়ের সময় কোনো খৃষ্টান নারী নিজেকে মুসলমান বলে প্রকাশ করলে ঈমানে কি কোনো সমস্যা হয়? এবং বিয়ে কি হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলে যে, মহিলাটি বিয়ের আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাহলে এই মিথ্যা বলার কারণে ঈমান নষ্ট হবে না। কারণ ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য সরাসরি আল্লাহ, রাসূল, কুরআন বা ইসলামের কোনো মৌলিক বিষয়কে অস্বীকার করা বা বিদ্রূপ করা প্রয়োজন। এখানে মিথ্যা বলা একটি গুনাহ (পাপ), কিন্তু এটি কুফরী নয়।
তবে মিথ্যা বলা হারাম এবং কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ"
"এবং যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না।" (সূরা আল-ফুরকান: ৭২)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"إِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ، فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ، وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ"
"তোমরা মিথ্যা বলা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।" (সহীহ বুখারী: ৬০৯৪)
সুতরাং পরিবারের ঐ ব্যক্তির উচিত তওবা করা এবং ভবিষ্যতে মিথ্যা না বলা। তবে মহিলার ঈমানের উপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, কারণ তিনি নিজে তো মিথ্যা বলেননি।
হানাফী কিতাবের নির্দেশনা:
- রদ্দুল মুহতার (৪/২৪): মিথ্যা বলা কবিরা গুনাহ, তবে ঈমান ভঙ্গের কারণ নয়।
- ফাতওয়া হিন্দিয়া (২/২৭৭): যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে, সে ফাসিক (পাপী) হয়, কিন্তু কাফির হয় না।
- ফাতওয়া উসমানী (১/২৪০): শুধু মিথ্যা বলার কারণে কেউ ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় না; যতক্ষণ না সে ইসলামের কোনো মৌলিক বিষয়কে অস্বীকার করে।
সারসংক্ষেপ:
- ঈমানে সমস্যা হবে না যদি কেউ মিথ্যা বলে যে, মহিলাটি বিয়ের আগে মুসলিম ছিলেন।
- তবে এই মিথ্যা বলা গুনাহ, এবং পরিবারের ব্যক্তির উচিত তওবা করা ও সত্য কথা বলা।
বিয়ে কি বিশুদ্ধ হয়েছে বিয়ের সময় ঐ খৃষ্টান নারী যদি নাস্তিক না হয়, বরং ঈসায়ী ধর্মকে সত্যিই মেনে থাকে, তাহলে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে। কেননা শর্তসাপেক্ষে খৃষ্টান নারীর সাথে বিযের রুখসত রযেছে যদিও সেটা সর্বদা অনুচিত ও অনুত্তম।
আল্লাহ অধিক জ্ঞানী।