দারুল ইফতায় না গেলে কি কোনো গোনাহ হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
https://ifatwa.info/143930/
https://ifatwa.info/144014/
★হুজুর আর না গেলে দারুল ইফতায় এতে গুণাহ হবে না এটা বুঝিয়েছেন?আর এমন হলে তহ সংসার করে গেলে কোন সমস্যা হবে না তাই না?লিন্ক দুটো দেখে একটু জানাবেন।কোনদিন না গেলে আর তাহলে কি কোন সমস্যা হয় কিনা?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের লিংক দুটি খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানের উত্তর থেকে স্পষ্ট, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো হুজুর বা দারুল ইফতার কাছে আর না যান, তাহলে এতে গুনাহ হবে না; বরং এটি তার নিজস্ব ইচ্ছা ও স্বাধীনতার বিষয়। তবে যদি সে সংসার করে (অর্থাৎ বিবাহ-শাদী বা পারিবারিক জীবন চালিয়ে যান) এবং ইসলামী বিধান মেনে চলেন, তাহলে তাতেও কোনো সমস্যা নেই। বস্তুত, দারুল ইফতায় না গিয়ে শুধু সংসার করা কোনো গুনাহের কাজ নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত ফরজ ও ওয়াজিব কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করা হয়।
নিচে কুরআন, হাদিস ও হানাফি কিতাবের আলোকে বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো:
উত্তর:
ইসলামে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা সবার জন্য ফরজে কিফায়াহ বা সামগ্রিকভাবে ফরজ। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিকট জ্ঞান অর্জনের জন্য আবশ্যক নয়। যদি কেউ কোনো বিশেষ হুজুর বা দারুল ইফতার আশ্রয় গ্রহণ না করেন, তাতে গুনাহ হবে না। আর সংসার (বিবাহ, সন্তান-সন্তুতি, জীবিকা ইত্যাদি) করা ইসলামে বৈধ এবং উৎসাহিত। তাই সংসার করে যাওয়া কোনো সমস্যা নয়, বরং তা জায়েজ এবং উত্তমও বটে, যদি নিয়ত ভালো থাকে এবং বিধান মেনে চলে।
প্রাসঙ্গিক দলিল:
- কুরআন: আল্লাহ বলেন, "তোমাদের উপর কোনো জবরদস্তি নেই যে, তোমরা জানো না এমন স্থানে যেতে বাধ্য হবে" (সূরা আল-বাকারা: ২৫৬)। এটি নির্দেশ করে যে, দ্বীনের মৌলিক ফরজ পালনের বাইরে কারো কাছে যাওয়া জরুরি নয়।
- হাদিস: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, "সব ইবাদতের মূল হলো নিয়ত।" (বুখারী: ১, মুসলিম: ১৯০৭)। অর্থাৎ, কেউ যদি ইবাদতের উদ্দেশ্যে না করে শুধুমাত্র জাগতিক কাজ করে, তবে তার হিসাব ভিন্ন। কিন্তু সংসার করা নিজে কোনো ইবাদত নয়, বরং একটি বৈধ কাজ যা সুন্নাহ অনুযায়ী ইবাদতে পরিণত হতে পারে।
- হানাফি কিতাব:
- রদ্দুল মুহতার (২/৩৯৬) এ বলা হয়েছে, "কোনো আলেমের কাছে যাওয়া ফরজ নয়, তবে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়া হবে।"
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (শামিলা: ১/১৮০) উল্লেখ করে, "যে ব্যক্তি কোনো মাশায়েখের কাছে যায় না, সে যদি শরিয়তের অনুগামী হয়, তাহলে তার উপর কোনো অভিযোগ নেই।"
- আল-হিদায়া (১/১২০) তে এসেছে, "জ্ঞান অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির কাছে যাওয়া ওয়াজিব নয়; বরং যে কোনো উপায়ে ফরজ জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক।"
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (৫/৩২৮) তে শাহ আবদুল আযীয দেহলভী (রহ) বলেন, "কোনো পীর বা মুফতীর কাছে না গেলে গুনাহ হয় না, যদি নিজের দ্বীনি দায়িত্ব পালন করে।"
- মাআরিফুল কুরআন (তাফসির সূরা বাকারার শেষে) মাওলানা শফি (রহ) লিখেছেন, "শরিয়তে বাধ্যতামূলক শুধু ফরজ ও ওয়াজিব। নফল কাজে কারো কাছে না গেলে গুনাহ নেই।"
সারসংক্ষেপ:
- কোনোদিন দারুল ইফতা বা হুজুরের কাছে না গেলেও কোনো গুনাহ হবে না, যদি দ্বীনি ফরজ (নামাজ, রোজা, হালাল-হারাম মেনে চলা ইত্যাদি) ঠিক রাখেন।
- সংসার করে যাওয়া জায়েজ এবং তাতে সমস্যা নেই। বরং সতী-সাধ্বী স্ত্রী, সন্তান-সন্তুতি লালন-পালন করা সওয়াবের কাজ।
- তবে ভালো ইলম ও তরবিয়তের জন্য কোনো সঠিক আলেমের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত বরকতময়। কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।