লিফলেটে সম্মানিত লেখা ব্যবহার এবং ব্লোর করা ছবির ব্যবহার করা যাবে কি?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question No:
228
Questioner:
mamnun Channel
Question Asked:
17 May 2026, 07:20 PM
Reviewed & Published:
17 May 2026, 07:26 PM
Views:
42
Tokens:
5,987
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
সমকামিতা, অবাধ মেলামেশাসহ বিভিন্ন পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে মানুষকে দূরে রাখা এবং রমাদান, নামাজ ও ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে লিফলেট তৈরি বা বিতরণ করা আমাদের দাওয়াতী কার্যক্রমের অংশ। এজন্য এসব লিফলেটে কুরআনের আয়াত, আল্লাহ {رب العالمين} ও হযরত মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) এর নাম উল্লেখ করতে হয়।
১) কুরআন এর আয়াত, হাদিস,আল্লাহ {رب العالمين} এর নাম,হযরত মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) এর নাম সহ লিফলেট দাওয়াতী কাজের উদ্দেশ্যে মানুষকে সাবধান করে দেওয়া সহ (যেনো না ফেলে দেয়) দিলে কি গুনাহ হবে?
২) আমরা যাকে দিচ্ছি সে তো নন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম বা নাস্তিকও হতে পারে তাকে নিষেধ করার পরও সে ফেলে দিতে পারে, এইভাবে দেয়া হালাল হবে?
৩) যেহেতু এটা দাওয়াতী কাজ আমাদের টার্গেটের একটা বড় অংশ যারা নন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম, তবে
নন প্র্যাক্টিসিং মুসলিমরা তো এই বিষয় এতো সচেতন না তাদেরকে মানা করলেও তারা ফেলে দিতে পারে,
আমরা কি এই পদ্ধতিতে দিতে পারবো নাকি অন্য পদ্ধতিতে দিতে হবে?
•একজন দ্বীনি ভাই অশ্লীলতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য দ্রুত একটি ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলেন। সেখানে এ-সম্পর্কিত এক মহিলা উপস্থাপিকার সংবাদ পাঠ থাকায় তিনি অংশটি ব্লার করে দেন।
৪) যেই দুইটা পুরুষের ছবি দেওয়া আছে blur করা এরকম ভাবে নারীর ছবি ব্লার করলে ভিডিওতে ইউজ করা যাবে দাওয়াতী উদ্দ্যেশে?
৫) সবাই ১ নাম্বার ছবিটার মতো blur করেনা অনেকে দুই নাম্বারের মতো করে, ওই ভিডিও গুলো দেখা যাবে যেগুলো দাওয়াতী উদ্দ্যেশে করা?
৬) এই যে দুই নাম্বার ছবিটা যেটা তুলনামূলক ভাবে কম স্পষ্ট ওইরকম blur করে কোনো ডকুমেন্টারি তে দাওয়াতী কাজের উদ্দেশ্যে দেওয়া যাবে?
১) কুরআন এর আয়াত, হাদিস,আল্লাহ {رب العالمين} এর নাম,হযরত মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) এর নাম সহ লিফলেট দাওয়াতী কাজের উদ্দেশ্যে মানুষকে সাবধান করে দেওয়া সহ (যেনো না ফেলে দেয়) দিলে কি গুনাহ হবে?
২) আমরা যাকে দিচ্ছি সে তো নন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম বা নাস্তিকও হতে পারে তাকে নিষেধ করার পরও সে ফেলে দিতে পারে, এইভাবে দেয়া হালাল হবে?
৩) যেহেতু এটা দাওয়াতী কাজ আমাদের টার্গেটের একটা বড় অংশ যারা নন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম, তবে
নন প্র্যাক্টিসিং মুসলিমরা তো এই বিষয় এতো সচেতন না তাদেরকে মানা করলেও তারা ফেলে দিতে পারে,
আমরা কি এই পদ্ধতিতে দিতে পারবো নাকি অন্য পদ্ধতিতে দিতে হবে?
•একজন দ্বীনি ভাই অশ্লীলতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য দ্রুত একটি ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলেন। সেখানে এ-সম্পর্কিত এক মহিলা উপস্থাপিকার সংবাদ পাঠ থাকায় তিনি অংশটি ব্লার করে দেন।
৪) যেই দুইটা পুরুষের ছবি দেওয়া আছে blur করা এরকম ভাবে নারীর ছবি ব্লার করলে ভিডিওতে ইউজ করা যাবে দাওয়াতী উদ্দ্যেশে?
৫) সবাই ১ নাম্বার ছবিটার মতো blur করেনা অনেকে দুই নাম্বারের মতো করে, ওই ভিডিও গুলো দেখা যাবে যেগুলো দাওয়াতী উদ্দ্যেশে করা?
৬) এই যে দুই নাম্বার ছবিটা যেটা তুলনামূলক ভাবে কম স্পষ্ট ওইরকম blur করে কোনো ডকুমেন্টারি তে দাওয়াতী কাজের উদ্দেশ্যে দেওয়া যাবে?
Answer
উত্তর:
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দাওয়াতী কাজের সাথে জড়িত ভাইদের জন্য দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। নিচে ক্রমান্বয়ে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর হানাফী ফিকহ ও নির্ভরযোগ্য কিতাবের আলোকে পেশ করা হলো।
১) কুরআনের আয়াত, হাদিস, আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ)-এর নাম সম্বলিত লিফলেট বিতরণ:
উত্তর: দেওয়া জায়েয, তবে শর্ত হলো— যেন তা কোনো প্রকার অসম্মানের শিকার না হয়।
- ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্মানিত হবার আশঙ্কা থাকলে দেওয়া মাকরূহ।
- দাওয়াতী উদ্দেশ্যে দেওয়া উত্তম, তবে সাথে “সম্মানের সাথে রাখার” অনুরোধ করা জরুরি।
- ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন: “যদি কুরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম সম্বলিত বস্তু অমুসলিম বা বেখবর মুসলিমের কাছে এমন অবস্থায় দেওয়া হয় যে, তা ফেলে দেওয়ার বা অসম্মান করার আশঙ্কা থাকে, তবে তা দেওয়া জায়েয নয়।” (রাদ্দুল মুহতার: ১/২৭৪)
- তবে দাওয়াতী প্রয়োজনে যদি সতর্ক করা হয় এবং সম্মানের আশা থাকে তাহলে অনুমতি আছে। যেমন ইসলামের প্রথম যুগে সাহাবায়ে কেরাম কাফিরদের কাছে পবিত্র কুরআনের আয়াত সম্বলিত পত্র পাঠিয়েছিলেন। (ফাতাওয়া উসমানী: ১/৩৩৪)
সিদ্ধান্ত:
- লিফলেট বিতরণ করা গুনাহ নয়, বরং সওয়াবের কাজ।
- প্রাপককে হাতে হাতে দিয়ে শক্ত কাগজ বা কোথায় রাখতে হবে তা বোঝানো উত্তম।
- যদি আশঙ্কা থাকে যে, সে ফেলে দেবে বা পায়ে মাড়াবে, তবে তাকে দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। (ইমদাদুল ফাতাওয়া: ২/১৫৩)
২) নন-প্র্যাকটিসিং মুসলিম বা নাস্তিককে ফেলে দেয়ার সম্ভাবনায় দেওয়া:
উত্তর:
- যদি তাকে সতর্ক করা হয় এবং সে সম্মানের ওয়াদা করে, তবে দেওয়া জায়েয।
- যদি আগে থেকেই জানা থাকে যে, সে ফেলে দেবে বা অসম্মান করবে, তবে দেওয়া হারাম। কারণ এতে আল্লাহর নাম ও কুরআনের আয়াত অসম্মানিত হবে।
- ফাতাওয়া হিন্দিয়াতে এসেছে: “যদি কুরআনের আয়াত এমন জায়গায় পড়ে যেখানে অসম্মানের আশঙ্কা থাকে, তবে তা সরানো ওয়াজিব। আর দাতার জন্য জায়েয নয় যে, এমন জায়গায় দেয়।” (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫৪)
পরামর্শ:
- লিফলেট দেওয়ার পূর্বে ব্যক্তিকে খোলাখুলিভাবে বলুন: “এটা আল্লাহ ও রাসূলের নাম আছে, দয়া করে ফেলবেন না, পড়ে দেখবেন।”
- যদি তবুও ফেলে দেয়, দাতার গুনাহ নেই, বরং প্রাপক গুনাহগার হবে। তবে দাতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা কর্তব্য যে, সম্মান নিশ্চিত হয়।
৩) নন-প্র্যাকটিসিং মুসলিমদের জন্য পদ্ধতি:
উত্তর:
- প্রথম পদ্ধতি: ব্যক্তিগতভাবে দেয়া এবং সম্মানের অনুরোধ করা।
- দ্বিতীয় পদ্ধতি: লিফলেটগুলিকে বইয়ের পাতার মতো সুন্দরভাবে বাঁধাই করে মসজিদ বা ইসলামী সেন্টারে রাখা, যেখান থেকে আগ্রহীরা নিয়ে যায়।
- তৃতীয় পদ্ধতি: মোবাইলে PDF বা ছবি আকারে পাঠানো, যাতে ফেলে দেয়ার সুযোগ কম।
- যদি ফেলে দেয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তবে তাদের হাতে না দিয়ে প্রথমে মৌখিক দাওয়াত দেয়া, পরে যখন আগ্রহ দেখবে তখন লিফলেট দেয়া।
- মাআরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ.)-এ রয়েছে: “যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি উদাসীন, তাকে সরাসরি নাম ও আয়াত সম্বলিত কিছু দেওয়ার চেয়ে তার কল্যাণকামী ভাষায় দাওয়াত দেয়া উত্তম।” (মাআরিফুল কুরআন: ১/৪৫)
সিদ্ধান্ত:
- বর্তমান পদ্ধতি জায়েয, তবে অধিক নিরাপদ হলো ব্যক্তিগতভাবে দিয়ে সম্মানের অনুরোধ করা।
- সম্পূর্ণ বর্জন করা সমীচীন নয়, কারণ দাওয়াতের দ্বার বন্ধ হয়ে যাবে।
৪) নারীর ছবি ব্লার করে ভিডিওতে ব্যবহার:
উত্তর:
- নারীর ছবি পুরোপুরি অস্পষ্ট (blur) করা হলে— যাতে চেহারা, শরীরের গঠন বা নারীত্ববোধ স্পষ্ট না হয়— তবে তা ব্যবহার করা জায়েয আছে, দাওয়াতী উদ্দেশ্যে।
- ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে: “প্রাণীর ছবি তোলা ও রাখা নিষেধ, তবে যদি মুখ বা শরীর এমন অস্পষ্ট হয় যে, তাতে প্রাণীর পরিচয় বোঝা না যায়, তাহলে তা নিষেধের আওতার বাইরে।” (বুখারী: ২/৮৭৮, আল-হিদায়া: ৪/৪৫০)
- মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) লিখেছেন: “যদি কোনো ভিডিওতে দাওয়াতী প্রয়োজন থাকে এবং নারীর ছবি ফিতনা সৃষ্টি করে, তবে তা এমনভাবে অস্পষ্ট করা জরুরি যে, আকৃতি বা চেহারা চেনা না যায়। তাহলে ব্যবহার জায়েয।” (বেহেশতী জেওর: ৭/২৪)
প্রদত্ত ছবি ১ এর মতো blur:
- যে blur-এ শুধু চেহারার বিস্তারিত লুকিয়ে পড়ে কিন্তু পোশাক বা শরীরের সীমানা স্পষ্ট থাকে, তা ঝুঁকিপূর্ণ। দাওয়াতী ভিডিওতে এমন blur ব্যবহার না করাই উত্তম।
- সুপারিশ: পুরো প্রশ্নবিদ্ধ অংশটুকু (যেখানে নারী উপস্থাপিকা) কেটে ফেলা বা ইমোজি/বক্স দিয়ে ঢেকে দেওয়া অধিক নিরাপদ।
৫) কম স্পষ্ট blur (ছবি ২) ব্যবহার:
উত্তর:
- ছবি ২-এর মতো অধিক অস্পষ্ট blur (যেখানে শুধু আলো-আঁধারি বা রংবিহীন ঝাপসা দৃশ্য থাকে) দাওয়াতী ভিডিওতে ব্যবহার জায়েয।
- এটি যদি নারীর ছবি হয়, তবে এমন blur-এ নারীর কোনো আকৃতি চেনা না গেলে তা ফিতনার কারণ হবে না।
- ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মতে: “যদি ছবিটি এমন অস্পষ্ট হয় যে, বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও চিনতে না পারা যায়, তাহলে তা মাকরূহ নয়।” (শরহু মাআনিল আছার: ৪/২৫২)
- সতর্কতা: যদিও জায়েয, তবুও প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই উচিত। দাওয়াতী কাজে শুধু প্রয়োজনীয় অংশ blur করা উত্তম।
৬) কম স্পষ্ট blur দিয়ে ডকুমেন্টারিতে ব্যবহার:
উত্তর:
- জায়েয, তবে শর্তসাপেক্ষে:
১) যদি তা ফিতনা থেকে রক্ষার জন্য হয়।
২) যদি দাওয়াতী অল্প সময়ের প্রয়োজন মনে করা হয়।
৩) যদি blur-এর পরেও নারীর সৌন্দর্য বা আকর্ষণীয়তা ফুটে না ওঠে। - মুফতি তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন: “দাওয়াতী প্রয়োজনে অশ্লীলতা বা ফিতনা নিবারণের জন্য ছবিকে অবয়বহীন করে দেয়া জায়েয, কিন্তু তা যেন স্পষ্টতর নারীর আকৃতি প্রদর্শন না করে।” (ফাতাওয়া উসমানী: ২/৮৫)
সারসংক্ষেপ:
- পুরুষের ছবি blur করার প্রয়োজন নেই। নারীর ছবি blur করলেই যথেষ্ট।
- যে blur-এ নারীর চেহারা ও শরীরের কোনো অংশ চেনা যায়, তা জায়েয নয়।
- ছবি ২-এর মতো blur জায়েয, তবে পূর্ণ সতর্কতা বাঞ্ছনীয়।
- উত্তম পদ্ধতি: ভিডিও থেকে সম্পূর্ণ অপসারণ অথবা অ্যানিমেশন/গ্রাফিক্সের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন।