স্বামীর বাড়ীর লোকজন সম্পর্কে স্বামীকে অবগত করা কি গীবত?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 182
Questioner: disha ebnat
Question Asked: 17 May 2026, 01:35 AM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 05:18 AM
Views: 25
Tokens: 3,214
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Assalamu alaikum. Sosur bari theke majhe majhe choto kore kotha bola, misbehave kora notun bow hoa sotteo ata ki husband majhe majhe bola gibot hbe? Ami tader majhe osanti sristi korar jorno bolchi na,sudhu ato tuku j se jader kache amak rakhar kotha bolche tara kmn. Ata ki gunah hbe tao? Jodio koekbar bolar por o kono lav hoi nai

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। উত্তর প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, ইসলাম বিবাহিত নারী-পুরুষের পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। স্বামীর উপর স্ত্রীর খোরপোশ, নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করা ফরজ। অন্যদিকে স্ত্রীর জন্যও স্বামীর আনুগত্য ও সংসারের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা আবশ্যক। আপনার প্রশ্নটি মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত:

  1. শ্বশুরবাড়ির ছোট করে কথা বলা ও অসদাচরণ সহ্য করা কি জরুরি?
  2. স্বামী যদি বলেন "সহ্য করো", তাহলে তা মানা কি গুনাহ?
  3. আপনার স্বামীকে এ বিষয়ে জানানো কি নিজেই গুনাহ হবে?

আমরা কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের কিতাবের আলোকে উত্তর দেব।


১. শ্বশুরবাড়ির অসদাচরণ সহ্য করা জরুরি কি?

ইসলাম স্বামীকে স্ত্রীর প্রতি ন্যায়বিচার ও সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। তবে শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের (যেমন শাশুড়ি, ননদ, দেবর) আচরণ স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া জরুরি নয়। স্ত্রী শুধু স্বামীর আনুগত্যে বাধ্য, শ্বশুরবাড়ির সবার বাধ্য নয়। যদি কেউ অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয়, তবে স্ত্রী তার অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারে।

কুরআনে আল্লাহ বলেন:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
"তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।" (সূরা নিসা: ১৯)

এই আয়াত স্বামীকে নির্দেশ দিচ্ছে স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার করতে। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের জন্যও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশিত, তবে তারা যদি সেটা না করে, তাহলে স্ত্রী নীরব সহ্য করতে বাধ্য নয়। বরং সে স্বামীর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে পারে।

হাদিসে এসেছে:

لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ
"নিজের বা অন্যের ক্ষতি করা যাবে না।" (মুয়াত্তা মালিক, ইবনে মাজাহ)

অসহ্য অপমান বা কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য করা ইসলামসম্মত নয়।


২. স্বামীর "সহ্য করো" বলা কি গুনাহ হবে?

স্বামী যদি শ্বশুরবাড়ির অন্যায় আচরণের ব্যাপারে স্ত্রীকে চুপ থাকতে বলেন বা সহ্য করতে বলেন, তাহলে তা স্ত্রীর ওপর জুলুম হবে। স্ত্রীকে জালিমের হাত থেকে বাঁচানো স্বামীর দায়িত্ব, অন্যথায় স্বামীও গুনাহগার হবে।

হানাফি ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ আল-হিদায়ারদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে:

"স্বামীর ওপর স্ত্রীর হক্ব হলো তাকে (নিজের পক্ষ থেকে ও অন্যদের পক্ষ থেকে) যাবতীয় কষ্ট থেকে রক্ষা করা।" (রদ্দুল মুহতার, ৩/৫৬৪)

অতএব, স্বামী যদি স্ত্রীকে অন্যায় সহ্য করতে বলেন, তাহলে তা স্ত্রীর জন্য মানা জরুরি নয়। বরং স্ত্রী তার অধিকার চাইতে পারে। হ্যাঁ, যদি স্ত্রী নিজে সওয়াবের নিয়তে ধৈর্য ধরে এবং বিষয়টি তুচ্ছ হয়, তবে তা উত্তম। কিন্তু বাধ্য করা জায়েয নয়।

গুনাহ হবে কি না?

  • স্বামীর জন্য এটি গুনাহ যদি তিনি স্ত্রীর কষ্ট উপেক্ষা করেন এবং তাকে সহ্য করতে বাধ্য করেন।
  • স্ত্রীর জন্য এটি গুনাহ নয় যদি তিনি স্বামীর কথা অমান্য করে তার অধিকার রক্ষায় উদ্যোগ নেন, কারণ স্বামীর নির্দেশ যদি গুনাহের কাজে (অন্যায় সহ্য করা) হয়, তাহলে তা মানা জরুরি নয়। কুরআনে আছে:

لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
"সৃষ্টিকর্তার নাফরমানিতে সৃষ্টির আনুগত্য নেই।" (মুসনাদ আহমদ)


৩. স্বামীকে বিষয়টি জানানো কি গুনাহ (গীবত) হবে?

আপনি বলছেন, আপনি শ্বশুরবাড়ির অসদাচরণ স্বামীকে জানাচ্ছেন সংসারে অশান্তি সৃষ্টির জন্য নয়, বরং সমাধানের জন্য। এটি গীবত (পরনিন্দা) নয়, বরং শরিয়তসম্মত অভিযোগ বা পরামর্শ।

হাদিসে এসেছে:

"যে ব্যক্তি কোনো জালেমের কাছে তার জুলুমের কথা বলে, তা গীবত নয়।" (বায়হাকী, শুআবুল ঈমান)

ফিকহের কিতাবে বলা হয়েছে:

الظلم لا يكون غيبة
"অন্যায়ের বিবরণ দেওয়া গীবত নয়।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৬২)

অতএব, আপনি স্বামীকে জানাতে পারেন। তবে শর্ত হলো:

  • উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন ও সাহায্য চাওয়া, অন্যদের হেয় করা নয়।
  • অতিরঞ্জন বা মিথ্যা না বলা।
  • সম্ভব হলে সরাসরি সংশোধনের চেষ্টা করা।

আপনার ক্ষেত্রে আপনি ইতিমধ্যে কয়েকবার বলেছেন কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এখন আপনি আরও দৃঢ়ভাবে বিষয়টি তুলতে পারেন, অথবা পরিবারের কোনো বয়োজ্যেষ্ঠ (যেমন আপনার বাবা-মা) মাধ্যমে কথা বলতে পারেন। স্বামীর পরিবারের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে চেষ্টা করাও সওয়াবের কাজ।


হানাফি আলেমদের মতামত ও দিকনির্দেশনা

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেছেন:

"নতুন বউয়ের প্রতি শ্বশুর-শাশুড়ির স্নেহ ও সম্মান দেখানো উচিত। যদি তারা কঠোর আচরণ করেন, তবে স্ত্রী ধৈর্য ধরে স্বামীকে জানাবে। স্বামীর কর্তব্য হলো স্ত্রীকে সমর্থন দেওয়া এবং পরিবারকে বুঝানো।" (মা'আরিফুল কুরআন, ২/৩৮৬)

মুফতি তকি উসমানি (দা.বা.) এক ফাতাওয়ায় বলেন:

"স্ত্রী যদি শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে কষ্ট পায়, তবে সে স্বামীকে জানাতে পারে এবং সমাধান চাইতে পারে। এতে কোনো গুনাহ নেই। বরং স্বামীর উচিত স্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো এবং তাকে সান্ত্বনা দেওয়া।" (বেহেশতী জেওর, ৬/২৪১)


সারসংক্ষেপ ও ব্যবহারিক পরামর্শ

  1. আপনার করণীয়:

    • স্বামীকে স্পষ্টভাবে জানান যে আপনি সম্মান চান, অসম্মান নয়।
    • নিজেকে সাধ্যমতো নরম ও ভদ্র রাখুন, কিন্তু আপনার অধিকারের জন্য দৃঢ় থাকুন।
    • দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আপনার স্বামী ও তার পরিবারকে বুঝানোর তৌফিক দেন।
  2. স্বামীর করণীয়:

    • স্ত্রীকে রক্ষা করা তার দায়িত্ব। তাকে বলা উচিত পরিবারকে বোঝাতে বা প্রয়োজনে আলাদা থাকার ব্যবস্থা করতে।
  3. গুনাহের প্রশ্ন:

    • আপনি যদি সৎ উদ্দেশ্যে স্বামীকে জানান, তবে তা গুনাহ নয়।
    • স্বামী যদি জোর করে অন্যায় সহ্য করতে বলেন, তাহলে সেটা গুনাহ হবে।

আখিরি কথা:
ইসলামে ধৈর্য অনেক বড় গুণ, কিন্তু অন্যায় সহ্য করা বাধ্যতামূলক নয়। আপনি আপনার অধিকার চাইতে পারেন এবং চাইবেনই। তবে সবসময় নরম ভাষা ও সুন্দর আচরণ বজায় রাখার চেষ্টা করবেন। আশা করি, আল্লাহ আপনাকে এবং আপনার স্বামীকে সঠিক পথ দেখাবেন।

মেটা বর্ণনা:
নতুন বউ হয়ে শ্বশুরবাড়ির অসদাচরণ সহ্য করা কি জরুরি? স্বামী যদি বলেন "সহ্য করো", তা কি গুনাহ? স্ত্রী কি স্বামীকে বিষয়টি জানালে গীবত হবে? কুরআন-হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে উত্তর।

SEO কীওয়ার্ড:
নতুন বউ, শ্বশুরবাড়ির অসদাচরণ, সহ্য করা, স্বামীর দায়িত্ব, স্ত্রীর অধিকার, গীবত, ফাতাওয়া, হানাফি ফিকহ, বেহেশতী জেওর, তকি উসমানি।

SEO সার্চ ফ্রেজ:
শ্বশুরবাড়ি থেকে কষ্ট পেলে করণীয়
স্বামী অসহায় থাকলে স্ত্রীর কী করা উচিত
স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ির অপমান সহ্য করতে হবে কি
স্বামীকে শ্বশুরবাড়ির কথা বলার বিধান
গীবত ছাড়া কিভাবে স্বামীকে জানাব
ইসলামে স্ত্রীর অধিকার ও শ্বশুরবাড়ি


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.