শুধুমাত্র ১+ ভড়ি স্বর্ণ আছে,কোনো জমান টাকা নেই, কুরবানি কি ওয়াজিব হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমার কাছে শুধু ১+ ভড়ি গোল্ড আছে। এ ছাড়া আর কোনো জমান টাকা নেই।
**কুরবানির ঐ ৩ দিনে কেউ যদি আমাকে ঈদ সেলামি দেয় সেই টাকা নিলে কি আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে?
** ঈদ সেলামি নেওয়ার আগে থেকেই নিয়ত করেছি কেউ যদি ঈদ সেলামি দেয় তাহলে আমি ডিম কিনব + জাজিম বানাতে দিব এগুলো আমার প্রয়োজন। এমতাবস্থায় কি আমার জন্য ঐ৩ দিনে কুরবানি ওয়াজিব হবে?
*** যদি সেলামি গ্রহন না করে যদি বলি আমার সলামি ওমক ব্যাক্তিকে দিন (হাদিয়া হিসেবে)
তাহলে কি আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে?
***যদি উপরের সকল অবস্থাতেই কুরবানি ওয়াজিব হয়, তাহলে যদি ঈদ সেলামিই গ্রহন না করি তাহলে আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে না তাই না?
জাঝাকাল্লাহ্ খইরন
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاتة
আপনার কাছে শুধু ১+ ভড়ি (প্রায় ১১.৬৬ গ্রাম) স্বর্ণ আছে। স্বর্ণের নেসাব হল ২০ মিসকাল = প্রায় ৮৫ গ্রাম। তাই আপনার কাছে যে স্বর্ণ আছে তা নেসাবের পরিমাণ নয়। কুরবানির দিনসমূহের শুরুতে (১০ই জিলহজ ফজরের সময়) আপনার নেসাব না থাকায় আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।
এখন ঈদ সেলামি পাওয়া প্রসঙ্গে:
১) যদি কুরবানির দিনসমূহের (১০-১২ জিলহজ) মধ্যে কেউ আপনাকে সেলামি দেয় এবং সেই টাকা আপনি গ্রহণ করেন:
- হানাফি মতে কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য ১০ই জিলহজ ফজরের সময় নেসাবের মালিক হওয়া শর্ত। ক্রমবর্ধমান হওয়া শর্ত নয়।বরং অক্রমবর্ধমান নেসাব পরিমাণ হলেও কুরবানি ওয়াজিব হবে। যদি আপনি ফজরের সময় নেসাবের মালিক না হন, তারপরও পরে (যেমন সকালে বা দিনের বেলা) সেলামি পেয়ে নেসাবের মালিক হলেও কুরবানি ওয়াজিব হয় না। (আল-হিদায়া, ফাতাওয়া আলমগীরী, রদ্দুল মুহতার)
- তবে কিছু হানাফি উলামা মনে করেন যে, যদি জিলহজের ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগে নেসাব হয় এবং কুরবানি করার সুযোগ থাকে তবে ওয়াজিব হয়। কিন্তু অধিক গ্রহণযোগ্য মত হল প্রথমটি। আপনার কাছে ১১.৬৬ গ্রাম সোনা থাকায় এটি ইতিমধ্যে নেসাবের নিচে, তাই সেলামির টাকা যোগ হলেও সম্ভবত নেসাব হবে না (যদি সেলামির পরিমাণ খুব বেশি না হয়)। আর নেসাব হলেই শুধু সেই দিনের ফজরের সময় নেসাব না থাকায় ওয়াজিব হবে না।
২) আপনি আগেই নিয়ত করেছেন যে সেলামির টাকা ডিম ও জাজিম কেনার প্রয়োজনে খরচ করবেন:
- টাকা আপনার নিকট পৌঁছানোর পর তা আপনার মালিকানাধীন হয়। আপনি তা খরচ করার নিয়ত করলেও টাকা আপনার সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। তবে কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার সময় (ফজর) এ টাকা আপনার কাছে ছিল না, তাই ওয়াজিব হবে না। আর যদি টাকা পাওয়ার পরও নেসাব না হয় (যা সম্ভব), তবে কোনো প্রভাব নেই।
৩) যদি আপনি সেলামি গ্রহণ না করে দাতাকে বলেন যে তা অমুক ব্যক্তিকে হাদিয়া দিয়ে দিন:
- তাহলে টাকা আপনার মালিকানায় আসে না। ফলে আপনার সম্পদ বৃদ্ধি পায় না। ফলে কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
৪) যদি আপনি সেলামিই গ্রহণ না করেন:
- তাহলে আপনার সম্পদ অপরিবর্তিত থাকে, নেসাব না হওয়ায় কুরবানি ওয়াজিব নয়।
সারসংক্ষেপ:
যেহেতু আপনার কাছে শুধু ১+ ভড়ি সোনা আছে, যা নেসাবের পরিমাণ নয়, এবং কোনো জমানো টাকা নেই, তাই কুরবানির দিনগুলোতে কেউ সেলামি দিলেও তা আপনার কুরবানির ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে না, যদি না সেই সেলামির টাকা যোগ করে আপনার মোট সম্পদ নেসাবের পরিমাণ হয় এবং তা ১০ই জিলহজ ফজরের সময় আপনার কাছে বিদ্যমান থাকে (যা সম্ভব নয়)।
মূলকথা: আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। আপনি ইচ্ছা করলেও কুরবানি করতে পারেন, তবে তা সুন্নত হবে, ওয়াজিব নয়।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া (كتاب الأضحية)
- রদ্দুল মুহতার (৫/২২২)
- ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/২৯২)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২২৫)
- বেহেশতী জেওর (দশম অধ্যায়, কুরবানি)
আল্লাহু আলাম
(و الله أعلم بالصواب)