জোহরের কাজা নামাজ কি আসরের সাথে পড়া যায়?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
উত্তর: প্রশ্ন হলো—আজকের জোহরের কাজা (যে জোহর ছুটে গেছে) কি আসরের সময় আদায় করা যাবে? আর যদি যায়, তাহলে আগে কোনটি পড়তে হবে?
হানাফি মতে উত্তর:
১. জোহরের কাজা আসরের সময় পড়া যায় কি?
হ্যাঁ, যায়। হানাফি ফিকহ অনুসারে, কোনো ফরজ নামাজ কাজা হওয়ার পর তা যে কোনো সময় আদায় করা জায়েজ, কেবল তিনটি মাকরুহ সময় ছাড়া (সূর্যোদয়, সূর্য মধ্যাকাশে, সূর্যাস্ত)। আসরের সময় এ মাকরুহ সময়ের মধ্যে পড়ে না, তাই জোহরের কাজা আসরের সময় পড়া সম্পূর্ণ বৈধ। মাসয়ালাটি নিম্নোক্ত কিতাব থেকে প্রমাণিত:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): কাজা নামাজের সময় সম্পর্কে বলা হয়েছে, "মাকরুহ তিন সময় ব্যতীত অন্য সব সময় কাজা পড়া জায়েজ।" (২/৫৬)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি): "যে ব্যক্তি জোহরের নামাজ কাজা করেছে, সে আসরের সময় তা পড়তে পারে।" (১/১২২)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী): "ছুটে যাওয়া নামাজ যেকোনো সময় পড়া যায়, তবে তাকদিরে সালাত (প্রশংসনীয়) এটা যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পড়ে নেওয়া।" (১/১৯২)
২. আগে কোনটি পড়বে—জোহরের কাজা নাকি আসর?
উত্তর: প্রথমে জোহরের কাজা পড়া উচিত, তারপর আসর। কারণ কাজা নামাজের হক্ব (অধিকার) আগে বর্তায়। হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো:
- রদ্দুল মুহতার: "যদি কারো উপর কাজা থাকে এবং বর্তমান ওয়াক্তের নামাজের সময় থাকে, তাহলে সে প্রথমে কাজা পড়বে, তারপর বর্তমান ফরজ পড়বে। তবে যদি বর্তমান ফরজের সময় শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে আগে বর্তমান ফরজ পড়ে নেওয়া জায়েজ।" (২/৫৩)
- বেহেশতী জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী): "কাজা নামাজ এমন সময় পড়া ভালো যখন অন্য ফরজের সময় না থাকে, কিন্তু যদি সময় থাকে, তাহলে আগে কাজা পড়বে, তারপর সময়ের ফরজ পড়বে।" (নামাজ অধ্যায়)
সুতরাং, সাধারণ নিয়ম হলো:
- যদি আসরের সময় যথেষ্ট থাকে (অর্থাৎ সূর্যাস্তের আগে যথেষ্ট সময়), তাহলে প্রথমে জোহরের কাজা পড়ুন, তারপর আসর পড়ুন।
- যদি আসরের সময় শেষ হওয়ার মতো হয় (যেমন সূর্যাস্তের মাত্র ১০-১৫ মিনিট বাকি), তাহলে প্রথমে আসর পড়ুন (যাতে ওয়াক্তের মধ্যে পড়তে পারেন), তারপর জোহরের কাজা পড়ুন। তবে এ ক্ষেত্রে সময় শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে আসর পড়ার পর জোহর পড়তে হবে; আর যদি আসর পড়ার পরেও জোহর পড়ার সময় থাকে, তাহলে পড়বেন।
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
- পড়া যাবে: হ্যাঁ, জোহরের কাজা আসরের সময় পড়া জায়েজ।
- আগে কোনটি: সাধারণত প্রথমে জোহরের কাজা, তারপর আসর পড়বেন। তবে আসরের সময় শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে আগে আসর পড়ে নিন।
তবে আপনি যদি সাহেবে তারতিব হোন অর্থাৎ আপনার জিম্মায় যদি ৫ ওয়াক্তের বেশি নামাজ কাজা না থাকে,সেক্ষেত্রে আসরের সময় শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও আগে জোহর পড়ে নিতে হবে।
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার, ২/৫৩, ২/৫৬
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১২২
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৯২
- বেহেশতী জেওর (নামাজ অধ্যায়)
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানী) – ২/৩৪৫