ফরজ নামাজের সময় মায়ের ডাকে সাড়া দেয়া যাবে কিনা
Salah-Prayer · Hanafi
Question
ফরজ বা অন্যান্য সালাত আদায় করার সময় আম্মু ডাকলে ❝আমি নামাজ পড়ছি❞ বলে জবাব দেয়া যাবে কিনা? (আম্মু জানেননা আমি সালাতে আছি)
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রশ্নের উত্তর:
নামাযরত অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কথা বলা (এমনকি "আমি নামায পড়ছি" বলাও) নামায ভঙ্গের কারণ। এটি হানাফী মাযহাবের সুস্পষ্ট ফতওয়া। তবে মা যদি ডাকেন এবং তিনি জানেন না যে আপনি নামাযে আছেন, তাহলে আপনি ইশারা বা সংকেতের মাধ্যমে তাকে বোঝাতে পারেন—যেমন আওয়াজ না করে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা বা হাতের ইশারা করা। এটি নামাযের ভিতরে বৈধ। কিন্তু মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে বলা জায়েয নয়, কারণ তা নামায ভঙ্গ করবে।
হাদীস ও গ্রন্থের দলিল:
১. সহীহ মুসলিমের হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "নামাযের মধ্যে মানুষের সঙ্গে কথোপকথন করা উচিত নয়; বরং (প্রয়োজনে) তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়া বা ইশারা করা।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৫৩৭)
২. ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, নামাযে ইচ্ছাকৃত কথা বলা নামায নষ্ট করে। (আল-হিদায়া, ১/১০৪)
৩. ফাতাওয়া আলমগীরীতে উল্লেখ আছে, "নামাযে কেউ ডাকলে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা বা হাতের ইশারা করা জায়েয, কিন্তু কোনো শব্দ উচ্চারণ করা নাজায়েয।" (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/১০৭)
৪. ইমদাদুল ফাতাওয়া (৬/২৫৭) ও রদ্দুল মুহতার (১/৬২৩)-এ স্পষ্ট: "নামাযরত ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি শব্দও উচ্চারণ করে, তাহলে তার নামায ভেঙে যায়।"
প্রয়োজনীয় পরামর্শ:
যেহেতু আপনার আম্মু জানেন না যে আপনি নামাযে আছেন, তাই আপনি নামাযরত অবস্থায় যদি তিনি ডাকেন, তাহলে:
- দ্রুত একটি ইশারা (হাত নেড়ে বা মাথা নাড়িয়ে) বোঝাতে পারেন যে আপনি নামাযে আছেন।
- অথবা ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে তাকে সতর্ক করতে পারেন, যা নামাযের জন্য বৈধ।
- কিন্তু "আমি নামায পড়ছি" বলা যাবে না, কারণ তা নামায ভঙ্গ করবে এবং পরে পুনরায় নামায পড়তে হবে।
যদি মা ক্রমাগত ডাকতে থাকেন এবং ইশারায় বোঝানো সম্ভব না হয়, তাহলে আপনি দাঁড়ানো অবস্থায় হালকা নড়াচড়া বা পা নেড়ে ইশারা করতে পারেন। তবে কোনো অবস্থায় মুখ দিয়ে কথা বলা জায়েয নয়।
সারসংক্ষেপ:
নামাযরত অবস্থায় মা ডাকলে ইশারা বা তাসবীহের মাধ্যমে বোঝানো জায়েয, কিন্তু "আমি নামায পড়ছি" বলা যাবে না—তা নামায ভঙ্গ করবে। উল্লিখিত হানাফী কিতাবসমূহ (রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া আলমগীরী, ইমদাদুল ফাতাওয়া) থেকে এটাই প্রমাণিত।
والله أعلم بالصواب
(আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী)