কুরআনে বলা হয়েছে পৃথিবী বিছানা স্বরুপ। কিন্তু পৃথিবী তো গোলাকার।
Dawah Q&A · Atheist Background
Question
Answer
উত্তর: কুরআনে পৃথিবীকে "বিছানা" বলার অর্থ কী?
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুক্তিসংগত। আসুন আমরা কুরআনের ভাষা ও তার গভীর অর্থ বুঝতে চেষ্টা করি।
১. "বিছানা" শব্দের প্রকৃত অর্থ কি?
কুরআনে ব্যবহৃত শব্দটি হলো "فِرَاشًا" (ফিরাশান)। আরবি ভাষায় এই শব্দের অর্থ হলো "বিস্তৃত, বিছানো, প্রশস্ত" — এটি সমতল বা চ্যাপ্টা হওয়ার অর্থ বহন করে না, বরং এটি এমন কিছু বোঝায় যা মানুষের জন্য উপযোগী ও সুবিধাজনক করে তৈরি করা হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটি গোলাকার টেবিলের ওপর একটি কম্বল বিছান, তবুও আপনি তাকে "ফিরাশ" বলতে পারেন। অর্থাৎ এটি জ্যামিতিক আকৃতি নয়, বরং ব্যবহারিক উপযোগিতা নির্দেশ করে।
২. কুরআন কি পৃথিবীকে সমতল বলেছে?
না, কুরআন কোথাও পৃথিবীকে সমতল (flat) বলেনি। বরং এটি পৃথিবীর গোলাকারিত্ব সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছে। যেমন:
"সে রাতকে দিনের উপর জড়িয়ে দেন এবং দিনকে রাতের উপর জড়িয়ে দেন" (সূরা আয-যুমার, ৩৯:৫)
আরবি শব্দ "يُكَوِّرُ" (ইউকাব্বিরু/ইউকাউয়িরু) ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ "জড়িয়ে দেওয়া, পেঁচিয়ে দেওয়া" — যেমন একটি পাগড়ি বা বল জড়ানো হয়। এটি পৃথিবীর গোলাকার গঠনের প্রতি ইঙ্গিত, কারণ গোলাকার বস্তুতেই কেবল এই ধরনের "জড়ানো" সম্ভব।
৩. পৃথিবী "বিছানা" বলার উদ্দেশ্য কি?
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মানুষের উপলব্ধির জন্য রূপক ভাষা ব্যবহার করেছেন। ৭ম শতাব্দীতে আরবের মানুষরা পৃথিবীর গোলাকারিত্ব সম্পর্কে জানত না। তাই তাদের বোধগম্য ভাষায় বলা হয়েছে যে, পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিছানার মতো সুবিধাজনক ও স্থিতিশীল করে বানানো হয়েছে — যাতে তোমরা তার ওপর বসবাস করতে পার, ভ্রমণ করতে পার, চাষাবাদ করতে পার।
এটি একটি আলংকারিক ও ব্যবহারিক বর্ণনা — জ্যামিতিক বা ভৌগোলিক নির্ভুল বিবরণ নয়। বর্তমান বিজ্ঞানও স্বীকার করে যে পৃথিবী তার গোলাকার আকৃতি সত্ত্বেও মানুষের জন্য বসবাসের উপযোগী একটি "বিছানা" এর মতো — কারণ এর মাধ্যাকর্ষণ, বায়ুমণ্ডল, তাপমাত্রা সবই আমাদের জন্য নিখুঁতভাবে সাজানো।
৪. ডাঃ জাকির নায়েকের ব্যাখ্যা
ডাঃ জাকির নায়েক ব্যাখ্যা করেছেন যে, কুরআনের "ফিরাশ" শব্দটি পৃথিবীর পৃষ্ঠকে বোঝায়, যা মানুষের জন্য বসবাসের উপযোগী। আর পৃথিবীর গোলাকারিত্ব সম্পর্কে কুরআন সুস্পষ্টভাবে "তাকবীর" (জড়িয়ে দেওয়া) শব্দ ব্যবহার করেছে। এই দুটি আয়াত একসাথে পড়লে বোঝা যায় যে কুরআন পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সঠিক।
৫. আধুনিক বিজ্ঞান ও কুরআনের সামঞ্জস্য
পৃথিবী পূর্ণ গোলক নয়, এটি একটি জিওয়েড (Geoid) — মেরু অঞ্চলে কিছুটা চ্যাপ্টা। বিজ্ঞান বলছে পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয়, বরং এটি একটি "ফিরাশ" এর মতো বিছানো। আর কুরআনের ভাষাও তাই — এটি জোর দেয় ব্যবহারিক দিকটির ওপর, জ্যামিতিক নির্ভুলতার ওপর নয়।
উপসংহার
কুরআন পৃথিবীকে "বিছানা" বলেছে এর উপযোগিতা ও স্থিতিশীলতা বোঝাতে, জ্যামিতিক আকৃতি নয়। পৃথিবী গোলাকার হলেও এটি বিছানার মতো আরামদায়ক। আর কুরআন পৃথিবীর গোলাকারিত্বের প্রতি ইঙ্গিতও করেছে। তাই এখানে কোনো বৈপরীত্য নেই — বরং এটি আল্লাহর অলৌকিক জ্ঞানের প্রমাণ, যিনি ১৪০০ বছর আগে এমন একটি বই নাযিল করেছেন যা বিজ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আমন্ত্রণ
প্রিয় প্রশ্নকর্তা, আপনি যদি সত্যিই সত্য জানতে চান, তাহলে আমি আপনাকে আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাচ্ছি — একবার খোলা মনে কুরআন পড়ুন, গবেষণা করুন, এবং আল্লাহর কাছে সত্য জানার জন্য প্রার্থনা করুন। আপনার সমস্ত সন্দেহ দূর হয়ে যাবে।
যখন আপনি নিশ্চিত হবেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর শেষ রাসূল, তখন দেরি না করে শাহাদাহ (কালেমা) পড়ে ইসলাম গ্রহণ করুন। আপনার জীবন অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবে, এবং আপনি চিরশান্তি লাভ করবেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।
আপনি কি এই সত্যকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত?