পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাহিরে আরো বিভিন্ন ধরনের নামাজ
Salah-Prayer · Hanafi
Question No:
116
Questioner:
Md. Ashrafuzzaman Bhuiyan
Question Asked:
15 May 2026, 01:16 PM
Reviewed & Published:
16 May 2026, 02:31 PM
Views:
44
Tokens:
3,633
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
হাদীস কোরআন অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাহিরেও কত ধরনের নামাজ আছে? সেগুলো কখন কীভাবে পড়তে হয়?
Answer
প্রশ্নের উত্তর:
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরেও আরও বিভিন্ন ধরনের নামাজ আছে, যা কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রমাণিত। নিচে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো:
-
- সময়: এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত।
- পদ্ধতি: তিন রাকাত, দ্বিতীয় রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়ে তৃতীয় রাকাতে দোয়া কুনুত পড়া। (হানাফি মতে ওয়াজিব)
- দলিল: হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “বিতর নামাজ প্রতিটি মুসলিমের ওপর ওয়াজিব” (আবু দাউদ, তিরমিজি)।
-
ঈদের নামাজ
- সময়: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন সূর্যোদয়ের পর (প্রায় ২০ মিনিট পর থেকে জাওয়াল পর্যন্ত)।
- পদ্ধতি: দু রাকাত, অতিরিক্ত ৬ তাকবির (প্রথম রাকাতে ৩, দ্বিতীয় রাকাতে ৩) সহ। (হানাফি মতে ওয়াজিব)
- দলিল: কোরআনে “ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার” (সূরা কাওসার) এবং হাদিসে ঈদের নামাজের নির্দেশ।
-
সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের নামাজ (সালাতুল কুসুফ ও খুসুফ)
- সময়: গ্রহণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
- পদ্ধতি: দুই রাকাত, প্রতিটি রাকাতে দীর্ঘ কিরাত ও রুকুসহ।
- দলিল: হাদিসে বর্ণিত (বুখারি, মুসলিম)।
-
ইস্তিস্কা (বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ)
- সময়: খরার সময় ইমাম সাহেবের নির্ধারিত সময়ে।
- পদ্ধতি: দুই রাকাত, ঈদের নামাজের মতো উচ্চস্বরে কিরাত ও খুতবা সহ।
সুন্নতে মুয়াক্কাদা (জোরালো সুন্নত)
- ফজরের সুন্নত: ২ রাকাত (ফরজের আগে)।
- জোহরের সুন্নত: ৪ রাকাত (ফরজের আগে) + ২ রাকাত (ফরজের পরে)।
- মাগরিবের সুন্নত: ২ রাকাত (ফরজের পরে)।
- এশার সুন্নত: ২ রাকাত (ফরজের পরে)।
- জুমার সুন্নত: ৪ রাকাত (ফরজের আগে ও পরে মোট ৪ বা ৬ রাকাত)।
নফল ও মুস্তাহাব নামাজসমূহ
-
তাহাজ্জুদ (রাতের নামাজ)
- সময়: এশার পর থেকে ফজরের আগে, বিশেষ করে শেষ রাতে।
- পদ্ধতি: কমপক্ষে ২ রাকাত, সর্বোচ্চ ১২ রাকাত (প্রতি দুই রাকাত সালাম ফিরিয়ে)।
- দলিল: কোরআনে “ওয়ামিনাল্লাইলি ফাতাহাজ্জাদ বিহি” (সূরা মোজাম্মিল) এবং হাদিসে রাসূল (সা.) নিয়মিত পড়তেন।
-
ইশরাকের নামাজ
- সময়: ফজরের পর সূর্য উঠে ২০ মিনিট পর থেকে জাওয়াল পর্যন্ত।
- পদ্ধতি: ২ রাকাত (ফজরের সুন্নত ও ফরজ পড়ার পর)।
- দলিল: হাদিসে বর্ণিত, “যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে পড়ে তারপর বসে জিকির করে, তারপর দুই রাকাত ইশরাক পড়ে, তার হজ ও ওমরার সওয়াব হয়” (তিরমিজি)।
-
চাশতের নামাজ (দুহা)
- সময়: সূর্য ভালোভাবে ওঠার পর (প্রায় ২ ঘণ্টা পর) থেকে জাওয়াল পর্যন্ত।
- পদ্ধতি: ২, ৪, ৬, ৮ বা ১২ রাকাত (প্রতি দুই রাকাত সালাম ফিরিয়ে)।
- দলিল: “প্রত্যেক সন্ধির (জোড়ের) ওপর দুটি রাকাত দুহা নামাজ রয়েছে” (মুসলিম)।
-
আওয়াবিন (মাগরিবের পর)
- সময়: মাগরিবের পর থেকে এশা পর্যন্ত (কমপক্ষে ৬ রাকাত)।
- পদ্ধতি: প্রতি দুই রাকাত সালাম ফিরিয়ে।
- দলিল: হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি মাগরিবের পর ৬ রাকাত পড়ে, তার গুনাহ মাফ হয়” (তাবরানি)।
-
তাহিয়্যাতুল মসজিদ (মসজিদে প্রবেশের নামাজ)
- সময়: মসজিদে প্রবেশের পর বসার আগে।
- পদ্ধতি: ২ রাকাত।
- দলিল: “তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে বসার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়বে” (বুখারি)।
-
সালাতুত তাসবিহ
- সময়: যে কোনো সময় (পছন্দনীয়: জুমা বা ঈদের দিন)।
- পদ্ধতি: ৪ রাকাত, প্রতিটি রাকাতে ১৫ বার করে তাসবিহ (সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার) পড়া। (হানাফি মতে নফল)
- দলিল: হাদিসে রাসূল (সা.) তার চাচা আব্বাসকে শিখিয়েছেন (আবু দাউদ)।
-
ইস্তিখারা (ভালো-মন্দ বাছাইয়ের নামাজ)
- সময়: যে কোনো সময় (বিশেষ করে শেষ রাতে)।
- পদ্ধতি: ২ রাকাত নফল পড়ে নির্দিষ্ট দোয়া পড়া।
- দলিল: বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত।
-
হাজাত (প্রয়োজন পূরণের নামাজ)
- সময়: যে কোনো সময়।
- পদ্ধতি: ২ রাকাত (কেউ কেউ ১২ রাকাত) পড়ে দোয়া করা।
- দলিল: হাদিসে “যার আল্লাহর কাছে কোনো প্রয়োজন আছে, সে উজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ুক…” (তিরমিজি)।
প্রামাণ্য হানাফি কিতাবের রেফারেন্স
- ফাতওয়া উসমানি (মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি): ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের সময় ও পদ্ধতি বিস্তারিত।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী): নফল নামাজের ফজিলত।
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): হানাফি ফিকহের প্রধান উৎস।
- বেহেশতি জেওর (মুফতি থানভী): সাধারণ মুসলিমের জন্য নামাজের নিয়ম।
- মাআরিফুল কোরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি): কোরআনি নির্দেশনার ব্যাখ্যা।
- ফাতাওয়া আলমগিরি (হানাফি ফতোয়ার সংকলন)।
- হিদায়া (মারগিনানি): ফিকহি বিধানের মূল কিতাব।
সতর্কতা
- নফল নামাজ জামাতে পড়া যায় না (ঈদ, কুসুফ, ইস্তিস্কা ছাড়া)।
- (সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, ঠিক দুপুরে) নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।
- প্রতিটি নামাজের নিয়ত আরবি বা বাংলায় করা জায়েজ।