অলস ও ধৈর্যহীন ব্যক্তি কী বেশি সন্তান নেবে না কম নিয়ে উত্তমভাবে গড়ে তুলবে?

Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 1069
Questioner: SEO expert
Question Asked: 01 Jun 2026, 07:33 PM
Reviewed & Published: 01 Jun 2026, 07:39 PM
Views: 143
Tokens: 1,568
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি অলস প্রকৃতির মানুষ | ধৈর্য্যও কম | ৫ ওয়াক্ত নামায নিয়মিত আদায়ই আমার কাছে কঠিন লাগে | এক্ষেত্রে বেশি সংখ্যক সন্তান নেওয়া ঠিক হবে নাকি ২/৩ জন সন্তান গ্রহন করেই তাদেরকে শরীয়ত মোতাবেক শিক্ষা দিয়ে প্রকৃত মানুষ বানানোর কাজটিই উত্তম হবে ? কোনটা আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় হবে ?

Answer

উত্তর:
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: “তোমরা বেশি বেশি সন্তান-সন্ততি লাভকারী নারীদের বিবাহ করো, কারণ আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের (উম্মতের) সংখ্যাধিক্যের গর্ব করবো।” (আবু দাউদ, নাসাঈ, সহীহ ইবনে হিব্বান; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন)

এ হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, সক্ষমতা থাকলে অধিক সন্তান গ্রহণ করা মুস্তাহাব (উত্তম) এবং তা নবী (ﷺ)-এর গৌরবের কারণ হবে। তবে এখানে সক্ষমতা একটি শর্ত। আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু আপনি অলস ও ধৈর্যহীন, এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করাই কঠিন মনে করেন, তাই আপনাকে প্রথমে নিজের ঈমান ও আমলকে মজবুত করতে হবে। সন্তান লালন-পালন একটি বড় দায়িত্ব। কুরআনে বলা হয়েছে: “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।” (সূরা তাহরীম ৬)

আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় হলো যে ব্যক্তি কম সন্তান হলেও তাদেরকে সঠিকভাবে শরীয়ত মোতাবেক তালীম ও তরবিয়ত দেয় এবং নিজের নামায-রোযা ঠিক করে। অধিক সন্তান নিয়ে তাদের প্রতি অবহেলা করা অপেক্ষা কম সংখ্যক সন্তানকেই প্রকৃত মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলা উত্তম।

শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেছেন: “সন্তানের সংখ্যা নয়, বরং তাদের দ্বীনী শিক্ষা ও তাকওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।” (মাজমু ফাতাওয়া)
শাইখ উসাইমীন (রহ.) বলেন: “যে ব্যক্তি নিজের নামায ও ইবাদতে দুর্বল, তার উচিত প্রথমে নিজেকে সংশোধন করা, অতঃপর সন্তানের দায়িত্ব নেওয়া।” (লিকা আল-বাব আল-মাফতুহ)

সুতরাং আপনার জন্য উত্তম হবে:

  1. নিজের নামাযসহ ফরয ইবাদত ঠিক করার প্রচেষ্টা করা। নামাযের মাধ্যমেই বাকি কাজ সহজ হয়।
  2. সন্তানের সংখ্যা ২/৩ পর্যন্ত সীমিত রাখা এবং তাদেরকে পূর্ণ ইসলামী শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে মনোযোগী হওয়া।
  3. সামর্থ্য বাড়লে ও দ্বীনে দৃঢ় হলে পরে আরও সন্তান নেওয়ার নিয়ত করা যেতে পারে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.