হিফজ বিষয়ে

Halal and Haram · Ahle Hadith / Salafi · Questioner: Ela · 14 May 2026 · 3 views

This answer is according to the ‘Ahle Hadith / Salafi’ school of thought.
This answer was reviewed and published by Admin.

Question

হিফজের শিক্ষার্থী হিসেবে হায়েজগ্রস্থ হলে করনিয় কি। এ সময় হিফজ বন্ধ রাখলে কিছু সমস্যা:
পড়া ভুলে যাওয়া।
জজবা কমে যাওয়া।
রিভিশন এ গ্যাপ পড়ায় ইয়াদ দুর্বল হওয়া ইত্যাদি।

Answer

প্রশ্নের উত্তর (সালাফি / আহলে হাদীস ফিকহ অনুযায়ী)

মাসিক (হায়েজ) অবস্থায় হিফজের শিক্ষার্থীর জন্য মূল বিধান হলো: কুরআন তেলাওয়াত করা নিষিদ্ধ—মুখস্থ থেকে বা মুসহাফ স্পর্শ করে। অধিকাংশ সালাফি স্কলার (যেমন শায়খ ইবন বায, শায়খ আলবানী, শায়খ উসাইমীন) এই মত পোষণ করেন। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে (যেমন ভুলে যাওয়ার প্রবল ভয়) ব্যতিক্রম করার অনুমতি ইমাম ইবন তাইমিয়্যা ও ইবনুল কাইয়িম দিয়েছেন। নিচে বিস্তারিত দলিল ও সমাধান দেওয়া হলো।


১. মাসিক অবস্থায় কুরআন পড়ার বিধান

প্রধান দলিল:

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «لَا تَقْرَأْ الْحَائِضُ وَلَا النُّفَسَاءُ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ»
অর্থ: ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন: “হায়েজগ্রস্ত নারী ও নিফাসগ্রস্ত নারী কুরআনের কিছুই পড়বে না।” (তিরমিযী, ইবন মাজাহ; শায়খ আলবানী ‘সহীহুল জামে’তে হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন)

শায়খ ইবন বায (রহ.) বলেন:

“মাসিক অবস্থায় নারীর জন্য কুরআন তেলাওয়াত করা জায়েয নয়, সেটা মুখস্থ থেকে হোক বা মুসহাফ থেকে হোক। কারণ সহীহ হাদিসে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবন বায, ১০/২১৮)

শায়খ আলবানী (রহ.) হাদিসটিকে ‘হাসান’ গণ্য করেছেন এবং নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন।

ব্যতিক্রম মত (ইবন তাইমিয়্যা ও ইবনুল কাইয়িম):
ইমাম ইবন তাইমিয়্যা (রহ.) মনে করেন, যদি কেউ মুখস্থ ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা করে, তাহলে মাসিক অবস্থায় মুখস্থ থেকে কুরআন পড়তে পারে। তিনি বলেন:

“নবী ﷺ থেকে মাসিক নারীর জন্য কুরআন পড়া নিষিদ্ধ বলে কোনো সহীহ হাদিস নেই। তাই শুধু মুসহাফ স্পর্শ না করলেই হবে, তবে মুখস্থ থেকে পড়া জায়েয।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ২৬/১৯১)

তবে সালাফি ফিকহে অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো নিষেধাজ্ঞা—কারণ ইবন উমরের হাদিসকে অন্যান্য স্কলার দুর্বল মনে করলেও শায়খ আলবানী তা ‘হাসান’ বলেছেন। শায়খ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন:

“মাসিক নারীর জন্য কুরআন তেলাওয়াত জায়েয নয়, তবে শেখানো বা শেখার প্রয়োজনে ব্যতিক্রম করা যেতে পারে।” (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দরব, ৩/২৬৮)


২. হিফজের শিক্ষার্থীর করণীয় (সমস্যার সমাধান)

মাসিক চলাকালে সরাসরি তেলাওয়াত না করলেও নিচের বৈধ উপায়গুলো অবলম্বন করা যায়:

ক. মুসহাফ দেখে নীরবে ‘নজর’ করা
মুসহাফ স্পর্শ না করে (গ্লাভস বা কাপড়ের আড়ালে রেখে) শুধু চোখ দিয়ে দেখে পড়া। তবে মুখ না সরালে সেটি ‘তেলাওয়াত’ গণ্য হবে না। ইমাম ইবন তাইমিয়্যা বলেন: “মাসিক নারী মুসহাফ স্পর্শ না করে দেখতে পারে।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ২১/৪৬০)

খ. কুরআন শোনা
বিভিন্ন ক্বারী (যেমন শায়খ মিশারী, শায়খ সুদাইস) থেকে তিলাওয়াত শুনে মনে মনে রিভিশন করা। এটি সর্বোত্তম বিকল্প।

গ. অর্থ ও তাফসির চর্চা
মুখস্থ করা আয়াতগুলোর অর্থ, তাফসির, শানে নুযুল ইত্যাদি পড়া। এতে ইয়াদ দৃঢ় হয়।

ঘ. দিলে দিলে পুনরাবৃত্তি
মনে মনে আয়াতগুলো বলা—তবে জিহ্বা না নাড়ালে সেটি ‘কিরাআত’ নয়, বরং ‘নিয়ত’ হিসেবে গণ্য। এটি জায়েয।

ঙ. বেশি বেশি জিকির ও দোয়া
মাসিক অবস্থায় জিকির, দুরূদ, তাসবীহ-তাহলীল ইত্যাদি করা পূর্ণ জায়েয এবং এর মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি ও ইমানী শক্তি বাড়ে।

চ. মাসিক শেষে বাড়তি চেষ্টা
মাসিক শেষে পবিত্র হয়ে তেলাওয়াত শুরু করলে আগের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা যায়। সাধারণত ৫-৭ দিনের বিরতির কারণে খুব বেশি ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। নিয়মিত রিভিউ’র জোর দিলে আগের অবস্থায় ফিরে আসা সহজ হয়।


৩. গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী নোট

  • জেনে রাখা ভালো: মাসিক অবস্থায় শরয়ি পবিত্রতা ব্যতীত কুরআন পড়া হারাম, তবে শেখার/শেখানোর প্রয়োজনে বা ভুলে যাওয়ার ভয়ে ইবন তাইমিয়্যার মত অনুযায়ী মুখস্থ পড়া যেতে পারে। শায়খ ইবন বায ও শায়খ উসাইমীনের মত অনুসারে এটি এড়িয়ে চলাই উত্তম এবং উপরোক্ত বিকল্পগুলো পালন করাই নিরাপদ।
  • সঠিক মত: সমস্যার সমাধান হলো—মাসিক চলাকালে তেলাওয়াত না করা, বরং শোনা, দেখা, অর্থ বোঝা ইত্যাদির মাধ্যমে রিভিশন চালিয়ে যাওয়া।

সারসংক্ষেপ

| সমস্যার কারণ | শরয়ি বিকল্প সমাধান | |-------------------------|---------------------| | ভুলে যাওয়া | ১. কুরআন শোনা ২. মুসহাফ দেখা (স্পর্শ না করে) ৩. অর্থ চর্চা | | জজবা কমে যাওয়া | মাসিক শেষে নিয়মিত তেলাওয়াত ও রিভিশন বাড়িয়ে দেওয়া | | রিভিশনে গ্যাপ | দিলে দিলে আয়াত স্মরণ করা, জিকির করা, মাসিক শেষে কসমেটিক সময় বাড়ানো |

শেষ কথা:
হিফজের শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক কোনো বাধা নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থা। শরয়ি বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বেশি সাওয়াব অর্জিত হবে এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হলে আল্লাহই সাহায্য করবেন। নবী ﷺ বলেছেন:

«إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ»
“নিশ্চয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।” (বুখারী ও মুসলিম)

তাই বিশুদ্ধ নিয়ত রেখে বিকল্প পন্থায় রিভিশন চালিয়ে যাওয়া জরুরি।


প্রয়োজনীয় দলিল:

  • ইবন উমর হাদিস (তিরমিযী, ইবন মাজা)
  • শায়খ ইবন বায: মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ১০/২১৮
  • শায়খ আলবানী: সহীহুল জামে’ (২/২১৩)
  • শায়খ ইবন উসাইমীন: ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দরব, ৩/২৬৮

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


SEO মেটা ডেসক্রিপশন

হায়েজ অবস্থায় হিফজ শিক্ষার্থীর করণীয়: কুরআন পড়ার বিধান (সালাফি ফিকহ), ভুলে যাওয়া, জজবা কমা ও রিভিশনে সমস্যার শরয়ি সমাধান। ইবন তাইমিয়্যা, ইবন বায ও আলবানীর মতামত।

SEO কীওয়ার্ড

হায়েজে কুরআন পড়া জায়েজ, মাসিক অবস্থায় হিফজ, পিরিয়ডে কোরআন তেলাওয়াত, হিফজ শিক্ষার্থীর মাসিক বিধান, ইবন তাইমিয়্যা হায়েজ কুরআন, সালাফি ফিকহ হায়েজ, হিফজ ভুলে যাওয়ার সমাধান।

SEO সার্চ ফ্রেজ

  • মাসিক অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কি
  • হায়েজগ্রস্ত হিফজ শিক্ষার্থীর করণীয়
  • পিরিয়ডে হিফজ রিভিশনের উপায়
  • হায়েজে কুরআন মুখস্থ ভুলে যাওয়ার ভয়
  • ইবন তাইমিয়্যার মত হায়েজ ও কুরআন
  • সালাফি ফিকহ অনুযায়ী মাসিক ও তেলাওয়াত

Related Questions

হালাল হারাম বিষয়ক

Is crypto currency trading halal

হালাল হারাম বিষয়ক

সুদ কিনা

মেয়েদের কন্ঠের পর্দা

হালাল আয় রোজগার